বাংলা ধারাভাষ্যের জাদুকর অজয় বসুর জন্মশতবর্ষেও তিনি বিস্মরণে

Published by: Sankha Biswas |    Posted: December 17, 2020 6:41 pm|    Updated: December 17, 2020 6:44 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: December 17, 2020 6:41 pm Updated: December 17, 2020 6:44 pm

খেলার মাঠের কিংবদন্তি চরিত্রদের স্মৃতি রোমন্থন করলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার জয়ন্ত চক্রবর্তী। বৈঠকি আড্ডার চালে বলা সেই অ্যালবাম ধরা থাকল ‘ময়দান মোমেন্টস’-এ।

বাঙালি যে আত্মবিস্মৃত  জাতি, সেকথা অনেকদিন আগেই নীরদ সি চৌধুরী বলে গেছেন।  আজ এতদিন পরে বড় বেশি করে তাঁর লেখার কথাটি মনে হচ্ছে।  সত্যি এ এক আত্মবিস্মরণ। বাঙালি বেবাক ভুলে গেল অজয় বসুর কথা। যে অজয় বসুর কণ্ঠস্বর না শুনলে ইডেনের  টেস্ট ম্যাচ  কিংবা বাঙালির চিরন্তন ঘটি-বাঙালের  লড়াই  সম্পূর্ণ হত  না। অজয় বসুর জন্ম শতবর্ষ। জন্মেছিলেন ১৯২০-তে, এটা ২০২০।

কেউ  যেমন কথা রাখেনা,  তেমনি মনেও  রাখেনা। যে মানুষটি বাঙালির খেলাধুলোর সঙ্গে খামের গায়ে ডাকটিকিট এর মতো জড়িয়ে ছিলেন, মাত্র তিরিশ বছরের মধ্যে তাঁকে বিস্মরণের  ডাস্টবিনে  ছুড়ে ফেলা হল। অজয়’দা তো সত্তর  বছর বয়েসেও ধারাবিবরণী  দিয়েছেন, ১৯৯০ সালেও। বাঙালির ভুলে যাওয়ার  প্রকৃষ্ট  নিদর্শন হতে পারেন অজয় বসু। তিনি প্রকৃত অর্থে ‘সেলিব্রিটি’ ছিলেন না। রাজনৈতিক ভাবে কোনো দলের ঝান্ডা  হাতে নেননি। তোষণের তাগিদও  তাঁর  ছিলনা-এমন মানুষকে মনে রেখে লাভ কি?

না হয় রিলে করে কোটি কোটি বাঙালির চোখ  হয়েছেন। তাঁর মন্দ্রিত ব্যারিটোন কণ্ঠস্বর আবিষ্ট করেছে একটি  জাতিকে।  কিন্তু তিনি  সিনেমা-আর্টিস্ট নন যে রাজসম্মান পাবেন কিংবা ঘটা করে  জন্মশতবার্ষিকী পালিত হবে! অজয় বসু তাই জন্মশতবর্ষেও ব্রাত্য।

ফুটবল ধারাবিবরণী দিয়ে শুরু করলেও, অজয় বসুর কথকতার মুন্সিয়ানা, নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ, আর পর্যালোচনা তাঁকে অচিরেই ক্রিকেটে নিয়ে আসে।  কে ভুলতে পারে!  অজয়দার সেই সুললিত কণ্ঠস্বর- ‘মেঘমুক্ত আকাশের নিচে রৌদ্রকরোজ্জ্বল ইডেন উদ্যানে টস করতে নামছেন দুই অধিনায়ক’। অজয় বসু’র এই শ্রবননন্দন ভাষ্যের জন্যে একটা সময় এও রটে গিয়েছিল তিনি বাংলার অধ্যাপক।

কিন্তু  বাস্তবে  অজয় বসু কোনোদিন অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। যদিও পাকেচক্রে তিনি থাকতেন গ্যালিফ স্ট্রিটের ‘সিটি কলেজ প্রফেসার্স কোয়ার্টার’ নামের আবাসনে।

সেই সময়টা বাংলা ক্রীড়া-সাংবাদিকতা স্পষ্ট দুটি ধারায় ভাগ হয়ে গেছে।  একটি অলংকার সমৃদ্ধ গদ্যে ফ্যাকচুয়াল সাংবাদিকতা। অন্যটি মেদহীন গদ্যে সাহিত্যধর্মী সাংবাদিকতা। যেখানে অবজেক্টিভ রিপোর্টিং-এর বাইরে গিয়েও কল্পনার স্বাধীনতা নেওয়া যায়। প্রথমটা অজয় বসু ঘরানা। দ্বিতীয়টি মতি নন্দী  ঘরানা। মতিদা ততদিনে  রাষ্ট্রীয় পরিবহন কর্পোরেশনের এসপ্ল্যানেড গুমটির বাস ধোয়ার কাজ ছেড়ে ক্রীড়া সাংবাদিকতার মূল স্রোতে এসে গেছেন। আর এই  যাঁতাকলে মধ্যে পড়ে ছটফট করছে আমার মতো নবীন সাংবাদিকের দল। কোনটা গ্রহণ করবো, কোনটাই বা বর্জন করবো!

তারপর? শুনুন…

লেখা: জয়ন্ত চক্রবর্তী
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল