এ শহর দেখেছে হকির সোনালি দিন

Published by: Sankha Biswas |    Posted: December 11, 2020 7:27 pm|    Updated: December 11, 2020 7:49 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: December 11, 2020 7:27 pm Updated: December 11, 2020 7:49 pm

খেলার মাঠের কিংবদন্তি চরিত্রদের স্মৃতি রোমন্থন করলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক ও ধারাভাষ্যকার জয়ন্ত চক্রবর্তী। বৈঠকি আড্ডার চালে বলা সেই অ্যালবাম ধরা থাকল ‘ময়দান মোমেন্টস’-এ।

মোহনবাগান মাঠে বেটন কাপ হকি প্রতিযোগিতার ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল আর মোহনবাগান। মাঠ কানায় কানায় ভর্তি। বাইরেও টিকিটের হাহাকার। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এটা কি ভাবতে পারেন?

অথচ কলকাতা ময়দানে এইরকমই ঘটনা খুব স্বাভাবিক ছিল, সাতের দশকের শেষ কিংবা আশির দশকের গোড়ায়। আর আজ?

হকি তো ময়দান থেকে বিদায় নিয়েছে।

হকি লিগ আর হয়না।  বেটন কাপ মাঝে মাঝে শুনি হয়।  কিন্তু টের পাওয়া যায়না। অনেকটা ‘হয় হয়,  কিন্তু zaনতি পারোনা’ গোছের ব্যাপার। অথচ সেই সময়  কলকাতার মাঠে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান আর পাঞ্জাবি খেলোয়াড়দের কি দাপট। কাস্টমস তখন হকিতে সমীহ জাগানো নাম। গুরবক্স সিং কলকাতায় খেলে ভারতীয় হকি দলের অলিম্পিক ক্যাপ্টেন, সুদর্শন সমর মুখার্জি মোহনবাগানের গোলকিপার ভারতীয় দলের খেলোয়াড়, যোগিন্দর সিংও অলিম্পিয়ান, বারিন্দার সিং কাস্টমসের সেন্টার ফরওয়ার্ড, নিয়মিত গোল করেন, বান্টি নামেই পরিচিত। রান্সডেল ডিন-কে মোহনবাগানের সমর্থকরা দিনু বলে ডাকেন, দুই ভাই ইউজিন আর রিচার্ড গিলবার্ট দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, ভেস  পেজ’ও অলিম্পিয়ান, তাঁর সঙ্গে একটি ছোট্ট ছেলে হকি প্যাড পরে, ক্ষুদে স্টিক হাতে নিয়ে, মোহনবাগান মাঠে আসে। তখন কে জানতো! স্টিক নয় একদিন টেনিস র‌্যাকেট হাতে বিশ্ব কাঁপাবে লিয়েন্ডার পেজ।

ইস্টবেঙ্গল-এর বালু, ফুটবলে লাল হলুদ জার্সি পরেন, হকিতেও তাই। লখনউ থেকে কলকাতার বড় দলে নাম লেখানো রতন চৌধুরীকে নিয়েও কম উত্তেজনা ছড়ায়নি। রতন চৌধুরী  লখনউ ঘরানার খেলোয়াড় ছিলেন। আর কে না জানে! ঝাঁসির হকি জাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদ এই  লখনউ’তে খেলেই বিশ্বজয় করেছিলেন। ল্যাকপ্যাকে চেহারার রতন ডান আর বাঁ দিক দু দিক দিয়েই আক্রমণ শানাতে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তাঁর গোল করার ক্ষমতার জন্যে অচিরেই মোহনবাগান জনতার নয়নের মনি হয়ে গেলেন। তখন সদ্য ‘শোলে’ সিনেমাটা  রিলিজ করেছে। রতন বল নিয়ে লেফট কি রাইট ফ্ল্যাঙ্ক দিয়ে দৌড়োলেই দর্শকরা চিৎকার করতেন,  ‘অব  গোল দে রতন,  নেহি তো গব্বর আ জায়েগা!’

লেখা: জয়ন্ত চক্রবর্তী
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল