গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথকে যোগ-শিক্ষা দিয়েছিলেন স্বামী যোগানন্দ

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 16, 2021 7:26 pm|    Updated: January 20, 2021 10:29 am

Published by: Sankha Biswas Posted: January 16, 2021 7:26 pm Updated: January 20, 2021 10:29 am

বিরাট কোহলির তখন খারাপ সময় যাচ্ছে, একের পর এক ম্যাচে বাজে পারফরমেন্স। মাঠের বাইরে অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে সম্পর্ক ঘিরে মিডিয়াতে মুচমুচে আলোচনা। জীবন অতিষ্ঠ করে ছেড়ে দিয়েছে সমালোচক আর নেটিজেনরা। বিরাটের উত্তর ভারতীয় উগ্র মেজাজ নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ পর্যন্ত সমালোচনা করেন। বিরাট বদলালেন, ‘দিল্লিওয়ালা সক্ত্‌ লওন্ডা’ থেকে এখন দ্বায়িত্বশীল ক্রিকেটার, ঘরে-বাইরে ব্যালান্স করতে পারা মানুষে পরিণত হলেন। অনেকে বড় মানুষই কোহলির এই বিরাট পরিবর্তনের পিছনে তাঁদের নিজেদের অনুপ্রেণার কথা বলতেন। কিন্তু বিরাট নিজেই ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে জানালেন, একটি বই তাঁকে এই পরিবর্তনে অনুপ্রাণিত করেছে। কী সেই বই? ‘Autobiography of a Yogi’। বাংলায় ‘যোগী-কথামৃত’। শোনা যায়, স্বয়ং স্টিভ জোবসের আই–প্যাডে এই বই থাকত। এমনকী, মৃত্যুশয্যায় ঘনিষ্ঠদের হাতে এই বই তুলে দেন জোবস। আবার বাঙালি জনমানসে আলোড়ন ফেলে দেওয়া রবিনসন স্ট্রিটে, কঙ্কালকাণ্ড–খ্যাত মৃত দেবযানীর শয্যাপার্শ্ব থেকে পাওয়া গিয়েছিল সেই এই বইটিই। তাঁর ভাই পার্থ বলেছিলেন, এই বইয়ে ক্রিয়াযোগে অনুপ্রাণিত হয়েই নাকি তিনি পয়োপ্রবেশন করেন।

তা কে লিখেছিলেন এমন বিপজ্জনক বই?

এক বঙ্গসন্তান: পূর্বাশ্রমে যাঁর নাম মুকুন্দলাল ঘোষ, যাঁকে দুনিয়া চেনে ‘পরমহংস যোগানন্দ’ নামে। গান্ধীজি থেকে রজনীকান্ত, ক্লারা ক্লিমেন্স গ্যাব্লিউইস থেকে ‘বিটলস’––– যাঁর সান্নিধ্যে এসে বিশ্বের তাবড় তাবড় স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব পেয়েছিলেন, সেই বাঙালি আজ বিস্মৃতপ্রায় খোদ বঙ্গসমাজেই। এটা বাঙালির আত্মবিস্মরণ বই আর কী?

আসুন, শুনে নেওয়া যাক যোগানন্দর জীবনকথা।

১৯২০। আগস্ট মাস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সবে থেমেছে। সাগরের ঢেউ কেটে এগিয়ে চলেছে ‘সিটি অফ স্পার্টা’ নামের জাহাজ। দেশি-বিদেশি নানান যাত্রীর ভিড়ে ভেসে চলেছেন এক সন্ন্যাসীও। বয়স সাতাশ। ‘ইন্টারন্যাশানাল কংগ্রেস অব রিলিজিয়াস লিবারেলস অব আমেরিকা’-এ যোগ দিতে। সেখানে তিনি ভারতের প্রতিনিধি। কথা বলবেন ‘জীবনযুদ্ধ ও তা জয়ের উপায়’ নিয়ে। কাকতালীয়ভাবে, ১৮৯৩ সালে, যেবছর শিকাগোর বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন স্বামী বিবেকানন্দ, সে বছর‌ই উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে জন্ম এই মুকুন্দলাল ঘোষের। যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী মশায়ের মন্ত্রশিষ্য ছিলেন তাঁর বাবা। শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয় আবার ছিলেন বাবাজি মহারাজের শিষ্য। এই বাবাজি মহারাজের আরেক শিষ্য যুক্তেশ্বর গিরি মহাশয়। তাঁরই শিষ্য যোগানন্দ।

ছোট্ট মুকুন্দর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে যায় বাল্যেই। নির্ধারিত হয়, বিশ্বখ্যাত সন্ন্যাসী হবে। গুরু-শিষ্য পরম্পরায় চলে আসা চর্যাকে বিলিয়ে বেড়াবে আবিশ্ব। লাহিড়ীমশাই শিশু মুকুন্দকে দেখে তার বাবাকে বলেন: তোমার ছেলে মস্ত এক যোগী হবে। লাহিড়ীমশাইয়ের গুরু বাবাজি মহারাজ যুক্তেশ্বর গিরিকে বলেছিলেন: আর কিছুদিন অপেক্ষা করো, তোমার উপযুক্ত শিষ্য আসছে। এ তোমার ক্রিয়াযোগ শিখে পশ্চিমে এই দর্শন প্রচার করবে। তোলপাড় ফেলে দেবে। তখন থেকেই যেন ‘মুকুন্দ’র ‘যোগানন্দ’ অলৌকিক যাত্রা শুরু।

তারপর শুনুন…

লেখা: অম্লান দত্ত
পাঠ: কোরক সামন্ত

পোল