গভীর রাতে আচমকা ঘুম ভেঙে স্ত্রী দেখলেন, লাহিড়ী মশাই শূন্যে ভাসছেন!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 20, 2021 12:31 pm|    Updated: February 20, 2021 2:18 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 20, 2021 12:31 pm Updated: February 20, 2021 2:18 pm

ভক্তদের দিকে সজাগ দৃষ্টি ছিল লাহিড়ী মশাইয়ের। কেউ বিপদে পড়ে তাঁকে স্মরণ করলে তিনি যোগবলে মুশকিল আসান করতেন। বহুবার তিনি অলৌকিক উপায়ে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেছেন।

অভয়া নামে এক শিষ্যা ছিলেন লাহিড়ী মশাইয়ের। অভয়ার স্বামী কলকাতায় ওকালতি ব্যবসায় যথেষ্ট নামডাক করেছেন। কিন্তু ওই দম্পতির মনে কোনও সুখ নেই। পরপর আটটি সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। নবম সন্তান যাতে বেঁচে থাকে তার জন্য গুরুদেবের কাছে আকুল প্রার্থনা জানান অভয়া। গুরুদেব অভয় দেন। জানিয়ে দেন, নবম সন্তান হবে কন্যা। রাত্রির প্রথম প্রহরে সে ভূমিষ্ঠ হবে। কিন্তু তখন থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সূতিকাগারে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হবে। নিভে গেলেই বিপদ। গুরুর ভবিষ্যদ্বানী সত্যি করে অভয়া এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু ভোররাতে প্রসূতি ও ধাত্রী দু’জনেই ঘুমিয়ে পড়েন। এই সময় এক অলৌকিক কাণ্ড হয়। অভয়া দেখেন, সূতিকাগারের দরজা খুলে ভিতরে এসে দাঁড়ালেন লাহিড়ী মশাই। বললেন, “অভয়া করছ কী? তাড়াতাড়ি ওই দিকে তাকিয়ে দেখো, বাতি কিন্তু নিভে যাচ্ছে।’’ তাড়াতাড়ি তেল ঢেলে প্রদীপের শিখা প্রজ্বলিত রাখেন অভয়া। প্রাণরক্ষা হয় সদ্যজাত শিশুর।

এই অভয়াই একবার কাশী যাচ্ছিলেন যোগীরাজের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু হাওড়া স্টেশনে ঢুকে দেখেন ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। হাপুস নয়নে কাঁদতে থাকেন অভয়া। হঠাৎই দেখা যায়, ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার আগেই থেমে গেল। গাড়ি থেকে নেমে এলেন চালক ও গার্ড। কিন্তু কেউই কোনও যান্ত্রিক গোলযোগ খুঁজে পেলেন না। অদ্ভুত কাণ্ড। অভয়া ট্রেনে উঠতেই ট্রেন ফের চলতে শুরু করল। কাশীতে গুরুর বাড়ি গিয়ে প্রণাম করতেই লাহিড়ী মশাই অভয়াকে বলে ওঠেন, “দেখো আর একটু আগে রওনা হয়ে গাড়ি ধরতে হয়। কত ঝঞ্ঝাটেই যে তোমরা আমাদের ফেলতে পার। আচ্ছা বলতো, পরের ট্রেনে কাশীতে পৌঁছলে তোমাদের কী এমন ক্ষতি হত।  আর এত কাঁদতেও তোমরা পার।”
তারপর শুনুন…

লেখা: গৌতম ব্রহ্ম
পাঠ: গৌতম ব্রহ্ম
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল