গুরু কৃপায় বালকের ঝুলি ভরে উঠল ভাণ্ডারার সামগ্রীতে, বালানন্দ ব্রহ্মচারী’র সিদ্ধাইয়ের কাহিনী

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 27, 2021 7:08 pm|    Updated: February 27, 2021 7:08 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 27, 2021 7:08 pm Updated: February 27, 2021 7:08 pm

উপনয়নের পরেই বাড়ি ছাড়লেন পীতাম্বর। কত আর বয়স হবে?  মেরেকেটে ন’ বছর। রাস্তা—ঘাট চেনা নেই। সঙ্গে নেই খাবার—দাবারও। শুধু কয়েকটি সোনার অলঙ্কার। ছেলেমানুষ পীতাম্বরের থেকে তা—ও এক অসৎ পথচারী হস্তগত করে। সহায়—সম্বলহীন শিশু এরপর ভিড়ে যান নর্মদা পরিক্রমায় বেরনো সাধুদের দলে। গঙ্গনাথ আশ্রমে দর্শন মেলে স্বামী ব্রহ্মানন্দর। যোগীবরের কাছে দীক্ষা প্রার্থনা করে কাতর আবেদন জানান পীতম্বর।

রাজি হন মহাত্মা। কিন্তু বালকের সামনে এক অদ্ভুত শর্ত রাখেন। বলেন, “দীক্ষার দিন তোমাকে অনেক মানুষকে ভোজন করাতে হবে।” কিন্তু সহায় সম্বলহীন বালক কোথায় পাবে ভাণ্ডারার সামগ্রী! উপনয়নের অলঙ্কার তো সব পথেই বেহাত হয়েছে। মুষড়ে পরে পীতাম্বর। বালকের অবস্থা দেখে হেসে ফেলেন ব্রহ্মানন্দজি। বলেন, “বেটা তোর কোনও চিন্তা নেই। আমার এই ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে পড়বি। ভাণ্ডারার সামগ্রী সবই ভিক্ষার ঝুলিতে জমা হবে।” ব্রহ্মানন্দজির ঝুলিতে ঋদ্ধি—সিদ্ধি দুই ছিল। সত্যিই, বালকের ঝুলি সেদিন গুরুর কৃপায় ভরে গিয়েছিল। দীক্ষার পর পীতম্বরের নাম হয় বালানন্দ ব্রহ্মচারী

ব্রহ্মানন্দের অলৌকিক ঝুলির আরও এক মাহাত্ম্য জানা যায় সাংবাদিক—সাহিত্যিক শঙ্করনাথ রায়ের ‘ভারতের সাধক’ বই থেকে। জানা যায়, একবার বরোদার প্রাসাদে প্রাসাদে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন ব্রহ্মানন্দজি। স্বামীজির সঙ্গী হয়েছিলেন বালানন্দ। রাস্তায় এক ভক্ত স্বামীজিকে কয়েকটি শাকের আঁটি দেন। সযত্নে তা ঝোলায় ভরে রাখেন। প্রাসাদে পৌঁছে রানি যমুনাবাইয়ের হঠাৎই স্বামীজির সেই ঝুলির শক্তি পরখ করার ইচ্ছে হয়। প্রণাম সেরে তিনি বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে আজ আমাদের ভাগ্য খুব ভাল। বাবা মহারাজের ঝোলা একেবারে ভর্তি। নিশ্চয়ই আমরা অনেক কিছু উপাদেয় বস্তু আজ খেতে পাব।
“মাঈ, ঠিক বলেছ। অনেক প্রসাদ তোমরা আজ এ ঝুলি থেকে পাবে। বল দেখি, কার কি চাই। রানিমা আঙুর খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। অদ্ভুত কাণ্ড! ঝোলা থেকে এক থোকা আঙুর বের করে আনেন ব্রহ্মানন্দ। অথচ, কিশোর বালানন্দ স্বচক্ষে দেখেছেন, গুরু ঝোলাতে শুধু শাকের আঁটি রেখেছিলেন। তাছাড়া ওই সময় আঙুরের মরশুম নয়।

এহেন ঐশ্বরিক ক্ষমতাসম্পন্ন সন্ন্যাসী ব্রহ্মানন্দের প্রথম দীক্ষিত শিষ্য ছিলেন বালানন্দ। গুরুর কৃপায় তিনিও সিদ্ধাই অর্জন করেছিলেন। একবার নর্মদা পরিক্রমার সময় ভয়ংকর বিপদে পড়েছিলেন বালানন্দ। তখন নর্মদার মণ্ডলা জনপদে চুরি—ডাকাতি বেড়ে গিয়েছিল। কমিশনার নিজে আইন—শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তদারকি করছিলেন।  নর্মদাতটে হাজির সবাইকেই আটক করে খানাতল্লাশি হচ্ছিল। বালানন্দ এক সঙ্গীকে নিয়ে ওই সময়ই হাজির হন মণ্ডলায়। যথারীতি দু’জনকেই আটক করে পুলিশ। এই সময় সাধুদেরও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছিল। বয়সে নবীন হলে তো কথাই নেই। কমিশনারের ধারণা ছিল, সাধুর ছদ্মবেশ নিয়ে চোরেরা অপকর্ম করে জঙ্গলে পালিয়ে যাচ্ছে। বালানন্দ ও তাঁর সঙ্গীর ঝোলা তল্লাশি করে একটি কুঠার ও শাবল মেলে। আর মেলে কিছু গাঁজা ও শঙ্কবিষ। অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন সাহেব কমিশনার। বালানন্দকে জিজ্ঞেস করেন, “এই শাবল—কুঠার কেন সঙ্গে রেখেছ? শঙ্কবিষই বা কেন?” বালানন্দ বোঝানোর চেষ্টা করেন, পরিক্রমাকালে মাটি খুঁড়ে কন্দমূল বের করার জন্য কুঠার আর পর্ণকুটির তৈরির জন্য শাবল দরকার। আর শীত মোকাবিলার জন্য চাই শঙ্খবিষ। বালানন্দের কথা বিশ্বাস করেননি কমিশনার। উল্টে তিনি বলেন, “তোমরা শুধু চোর—ডাকাত নও, খুনি—দস্যুও বটে। না হলে এত বেশি পরিমাণ শঙ্কবিষ নিয়ে চলছ কেন? নিশ্চয়ই গোপনে এই খাইয়ে মানুষ খুন কর তোমরা।

তারপর কি হল! শুনুন…

লেখা: গৌতম ব্রহ্ম
পাঠ: গৌতম ব্রহ্ম
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল