তালাবন্ধ হাজত থেকে বেরিয়ে এলেন নগ্ন সন্ন্যাসী, শুনুন ত্রৈলঙ্গস্বামীর অলৌকিক শক্তির কাহিনি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: December 26, 2020 4:04 pm|    Updated: January 19, 2021 5:44 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: December 26, 2020 4:04 pm Updated: January 19, 2021 5:44 pm

কেউ তালাবন্ধ হাজত থেকে বেরিয়ে এসেছেন অবলীলায়। অন্যের রোগ টেনে এনেছেন নিজের শরীরে। কেউ নিমেষে তালুবন্দি করেছেন কাঙ্খিত বস্তু। কেউ আবার একই সময়ে একাধিক জায়গায় থেকেছেন। বুদ্ধিতে এসবের ব্যাখ্যা মেলে না। অথচ বুজরুকি বললে ইতিহাসকে অপমান করা হয়। অণিমা, লঘিমা, গরিমা, প্রাপ্তি, প্রাকাম্য, মহিমা, ঈশিতা, বশিতা।

অষ্টসিদ্ধি করায়ত্ত করা সাধকদের খুঁজেছেন গৌতম ব্রহ্ম। 

এ কী অসভ্যতা!

নগর-পরিক্রমায় বেরিয়েছেন কাশীর নতুন ম্যাজিস্ট্রেট। দশাশ্বমেধ ঘাটে মুখোমুখি ত্রৈলঙ্গস্বামী। গায়ে একটা সুতোও নেই। পুরো নগ্ন! দোর্দণ্ডপ্রতাপ ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট রেগে আগুন। এই বেয়াদপকে কড়া সাজা দিতে হবে। সাহেব আগে তো কাশীর চলমান শিবের সাক্ষাৎ পাননি! জানবেন কী করে? অতএব বিচারকের আদেশে সন্ন্যাসীকে নিক্ষেপ করা হল হাজতে। পরদিন ভোরবেলা ত্রৈলঙ্গস্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেট স্বয়ং হাজির হাজতের সামনে। কিন্তু এ কী! বন্দি যে দিব্যি হাজতের বাইরে বেরিয়ে বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে গারদে ইয়া বড় বড় তালা ঝুলছে যেমন কে তেমন! রক্ষীদের যোগসাজশ? ম্যাজিস্ট্রেট কোনও ঝুঁকি নিলেন না। সন্ন্যাসীকে আবার হাজতে পুরে নিজের হাতে ফটকের লোহার দরজায় তালা লাগালেন। তারপর চাবি নিয়ে চলে গেলেন বিচারশালায়। এজলাসে বসামাত্র চক্ষু চড়কগাছ! আদালত কক্ষের এককোণে দাঁড়িয়ে সেই বিশালদেহী উলঙ্গ সন্ন্যাসী। পকেটে হাত দিয়ে সাহেব টের পেলেন, হাজতের চাবি যথাস্থানে মজুত।

কোন শক্তিতে তালাবন্ধ হাজত থেকে ত্রৈলঙ্গস্বামী বেরিয়ে আসতেন? যোগীবর শ্যামাচরণ লাহিড়ীকে কেন একই সময়ে একাধিক জায়গায় দেখা যেত? কোন মন্ত্রবলে স্বামী বিশুদ্ধানন্দ সরস্বতী কাটা হাত জুড়ে দিতেন? রামঠাকুর কীভাবে অন্যের রোগ নিজের শরীরে টেনে নিতেন? সবই অষ্টসিদ্ধির মহিমা।

সাধনার সোপান বেয়ে যোগী যতই উঁচুতে উঠতে থাকেন, তত একের পর এক সিদ্ধি তাঁর সেবায় নিযুক্ত হয়। কিন্তু কখনও নিজের ক্ষমতা জাহির করার জন্য যোগীরা এই সিদ্ধাইয়ের প্রয়োগ করেননি। ভক্তের আকুল ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে কখনও প্রকাশ হয়ে পড়েছে সিদ্ধাই। ত্রৈলঙ্গস্বামীর ক্ষেত্রেও তা-ই। বাবাকে দাহ করে শ্মশান থেকে আর বাড়ি ফেরেননি শিবরাম (পূর্বাশ্রমে এই নাম ছিল তাঁর)। চিতার পাশে কুঁড়েঘর গড়ে বসবাস শুরু। তারপর একদিন গুরু ভগীরথস্বামীর কথায় পরিব্রাজনে বেরোলেন। বহু তীর্থ ঘুরে এলেন বারাণসী। ত্রৈলঙ্গ দেশ থেকে আগত বলে কাশীর মানুষের কাছে পরিচিত হলেন ত্রৈলঙ্গস্বামী নামে।

শুনুন তারপর…

 

লেখা: গৌতম ব্রহ্ম
পাঠ: গৌতম ব্রহ্ম
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল