কবিতা: প্রভাতী – বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: shono_admin |    Posted: October 13, 2020 4:55 pm|    Updated: November 9, 2020 1:15 pm

Published by: shono_admin Posted: October 13, 2020 4:55 pm Updated: November 9, 2020 1:15 pm

Audio Podcast: Enjoy Beautiful Poem Recited by Famous Bengali Poet Binayak Bondyopadhyay

এখন তো আমার মতো
তুমিও আটকা
কিন্তু আমার ভাগ্যে সেই ছোলা আর জল
তোমার
সকালে কর্নফ্লেক্স, দুপুরে ভাত, রাত্রে ওটস,
মধ্যে-মধ্যে কফি কিংবা ওই রংবেরঙের জল;
আমি গলা বাড়িয়ে দেখি,
সবুজ ঘাস,
যতটা পারি
তুমি চোখ সেঁটে বসে থাকো
মোবাইলে
আবার ওর একটা যমজ বের করেছ
এই ক’দিন হল,
এবার কি দুটো সিনেমা একসঙ্গে দেখবে নাকি?

তোমায় বিশ্বাস নেই

আমি যখন লোহার শিক আর বাইরের বাতাসকে
মেলাবার চেষ্টা করি
তুমি একটা ঘড়িতে
কলকাতা আর নিউ ইয়র্কের আলাদা-আলাদা সময়
সেট করে রাখো
যেন দুটো শহরেই একসঙ্গে
ম্যারাথন দৌড়তে বেরবে…

একটা লঙ্কা কামড়ে খেলে
আরও মিষ্টি হয় আমার গলা
ওদিকে তোমার ঝোলে লঙ্কাগুঁড়ো সামান্য বেশি হওয়ায়
কত বকা খেল রান্নার বউ…

অন্ধকারে আমাকে ভূত ভেবে আঁতকে উঠেছিলে
কিন্তু তুমি নিজেই অদ্ভুত
কথা ছুড়ে রক্তাক্ত করো, যাকে চাও
আবার কথায় কথায় বলো, ‘হার্ট করবে না’,
তুমি কী ভাবো,
দুনিয়া তোমার তর্জনীর নড়াচড়ার দিকে তাকিয়ে আছে?
ওই অসুখ হাঁটু গেড়ে বসবে
তোমার সামনে?

কখনও কেউ দরজা লাগাতে ভুলে গেলে
আমি উড়ে যাব আকাশে
আর তুমি কলিংবেল বেজে উঠলেও
লাফ দিয়ে মাস্ক আঁটতে
ব্যস্ত হয়ে পড়ো…

ওই মুখোশের মধ্যে থেকেই হয়তো
বাকি জীবন কথা বলতে হবে
তোমাকে;
ও তোমার খাঁচার ভিতরের খাঁচা
অহংকারের ভিতরের ইগো…
তোমায় মধ্যরাতে কে জাগিয়ে তোলে
আমি জানি না
কিন্তু টের পাই যে
স্বপ্নে একটা বাচ্চা এসে বলে গেছে,
‘বেঁচে থাকতে যারা অন্যের মন ছোঁয় না
মৃত্যুর পর তাদের শরীর ছোঁয়ার
উপায় থাকে না কারও’…

সোফায় বসে বসে ঝিমোও যখন
ঘুমোবার ভরসা
জেগে থাকবার
শক্তি হারিয়ে
তোমার দোলাচলের বাইরে দাঁড়ানো টগর গাছ
চুরির ফুলে ভরে দেয় কত পুজোর সাজি
দেখতে দেখতে
আমার ছোট্ট ফুসফুস সুরে সুরে ভরে ওঠে…

আমি জানি, আজও
ছোলা, জল আর খুব বেশি হলে
একটা লঙ্কাই আছে ভাগ্যে
তবু আমার গলা থেকে গান ছিটকোয়
যেভাবে
পিচকিরি থেকে রঙ ছুটত ব্রজে
আর ওদিকে
আতঙ্কে কাঁটা তুমি
খাঁচার ভিতরের খাঁচা হয়ে
কলিংবেল আর সূর্যোদয়ের ভয়ে
থম হয়ে বসে থাকো রোজ…
কিন্তু একদিন, একবারও
নতুন একটা ভোরের আনন্দে,
‘রাধে-কৃষ্ণ বলে ওঠো না কই!’

লেখা: বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল