শংকরের আত্মকথা: ঐতিহাসিক টেম্পল চেম্বার্স

Published by: shono_admin |    Posted: October 13, 2020 5:10 pm|    Updated: November 11, 2020 2:33 pm

Published by: shono_admin Posted: October 13, 2020 5:10 pm Updated: November 11, 2020 2:33 pm

Biographical podcast, Audio Stories in Bengali

১৯৫১ সালের এক সকালে স্টিমারে নদী পেরিয়ে কীভাবে ৬ নম্বর ওল্ড পোস্টাপিস স্ট্রিটের টেম্পল চেম্বার্সের আদালতি জগতে বারওয়েল সাহেবের সম্মুখীন হয়ে নতুন এক পৃথিবীর নিবাসী হয়েছিলাম— তা ‘কত অজানারে’ বইয়ে অনেক দিন আগে লিখেছি।

আমাকে যিনি সাহিত‌্যের অমৃতকাননে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন, তাঁর ইচ্ছা ছিল, এই বইয়ের প্রথম লাইন ‘এর নাম হাইকোর্ট’ থেকেই বইয়ের নাম হোক। আমারও তেমন আপত্তি ছিল না, কিন্তু প্রকাশক জানকীনাথ সিংহ রায় ভয় পেলেন, তাঁর আশঙ্কা-আদালতের বাইরের সাধারণ লোক এ-বই পড়তে আগ্রহী না হলে খুবই ক্ষতি হবে। অবশেষে খ্যাতনামা লেখক প্রেমেন্দ্র মিত্র উপদেশ দিলেন, নাম হোক ‘কত অজানারে’। তিনি বললেন, তোমার সন্ধানের এলাকাটা শুধু আদালতে সীমাবদ্ধ রইল না, আইনের ব্রিফ ধরে তুমি বিশ্বচরাচরের যেখানে খুশি বিচরণ করতে পারবে, কারও অনুমতিপত্র প্রয়োজন হবে না।

কিন্তু এসব তো ১৯৫৪ সালের কথা। তার আগেও তো অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে এই ক্ষুদ্র জীবনে— যা আজও স্পষ্ট করে লেখার সৎসাহস হয়নি।

এতদিন ধরে এসব বিষয়ে নৈঃশব্দ্য কেন?

কারণ স্পষ্ট, আমি তো আমার জীবনের প্রথম বিস্ময়-মানবের উপস্থিতির কথা লিখতে চেয়েছিলাম! আমার জীবনের খুঁটিনাটি যে পাঠকের বোঝা অহেতুক বাড়াবে, এমন আশঙ্কা তো সততই ছিল। আমার বইয়ের নায়ক কলকাতা হাইকোর্টের শেষ ইংরেজ ব্যারিস্টার, অক্সফোর্ড অ্যান্ড বাকিংহামশায়ার রেজিমেন্টের মিলিটারি ক্রশ বিজয়ী লেফটেন্যান্ট কর্নেল নোয়েল ফ্রেডরিক বারওয়েল, সেখানে হাওড়া-চৌধুরীবাগান লেনের ‘শংকর’-এর অত্যধিক উপস্থিতি ধৈর্যহীন পাঠক-পাঠিকারা কেন সহ্য করবেন? এই লেখা তো একজন মানবপ্রেমী বিদেশির প্রতি এক হতভাগ্য বাঙালির শ্রদ্ধালিপি, এই লেখা কোনও যুক্তিতেই একজন ভাগ্যবিড়ম্বিত বাঙালি যুবকের আত্মজীবনী নয়।

বারওয়েল সাহেবের দয়ায় এক নতুন বিশ্বের দ্বার উন্মোচিত হল— যার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ‘টেম্পল চেম্বার্স’, যার প্রতিটি কামরায় যুগযুগান্তের ইতিহাস জমে রয়েছে। সাহেবের চেম্বারও যেন সুবর্ণখনি! ঘরজুড়ে সংখ্যাহীন আইনের বই, সেই সঙ্গে ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলি ও কিটসের সহ-অবস্থান। যে কোনও মামলার প্রস্তুতির সময় বহু খণ্ডে বিভক্ত যে-বইটির জন্য ডাক পড়ত, তার নাম হল্‌সবেরি-র “ল’জ অফ ইংল্যান্ড”। শুনতাম, এইটাই ব্যারিস্টারদের স্বভাব। স্বাধীনতার পরেও এদেশে যে আইনের অদৃশ্য প্রভাব, তা হচ্ছে ল’জ অফ ইংল্যান্ড। সাহেব যখন কালো গাউন হাতে ‘হাইকোর্ট বার লাইব্রেরি’ অথবা বার লাইব্রেরিতে চলে যেতেন, তখন আমার অঢেল স্বাধীনতা। প্রাণ খুলে যে কোনও বই টেনে নিয়ে মনের সুখে পড়ো!

শারদীয় সংবাদ প্রতিদিন ১৪২৭-এ প্রকাশিত শংকর-এর আত্মকথা  ঐতিহাসিক টেম্পল চেম্বার্স-এর নির্বাচিত অংশ।

লেখা: শংকর
পাঠ: দেবশঙ্কর হালদার
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল