ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘ফার্স্ট পার্সন’: এলোমেলো দেশ-কাল

Published by: Sankha Biswas |    Posted: March 8, 2021 1:52 pm|    Updated: March 15, 2021 6:52 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: March 8, 2021 1:52 pm Updated: March 15, 2021 6:52 pm

সংবাদ প্রতিদিন‘-এর ‘রোববার’ পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকে দীর্ঘদিন সম্পাদক ছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। তাঁর সম্পাদকীয় কলামের পোশাকি নাম ছিল ‘ফার্স্ট পার্সন। এই কিংবদন্তি স্রষ্টার সেই মাস্টারপিস লেখার কিছু নির্বাচিত অংশ পড়ে শোনাচ্ছেন তাঁরই এক সময়ের সহকর্মী অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। রইল তৃতীয় কিস্তি।

‘কি, একা ঘুমাইতে ভয় করে নাকি? তুমি না বড় হইছ।’

চুপ করে দাঁড়িয়ে আছি আমি। কী উত্তর দেব?

১৯৭২ সাল। সদ্যবিবাহিতা। পিসিমণির সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে এসেছি আমরা দু’জন। আমি আর জ্যাঠতুতো দিদি।

আজ কালরাত্রি। নতুন বউ আলাদা ঘরে শোবে। সঙ্গে আমার দিদি।

আমি ন-বছরের তখন, তবু কুটুম তো বটে। আমার তাই বিশেষ খাতির। শোবার ব্যবস্থা আলাদা ঘরে।

হালিশহরের ছড়ানো বিশাল চকমেলানো বাড়িটা তখনও আমার কাছে ভুলভুলাইয়া। বিশেষ করে অন্ধকার উঠোনটা।

‘ভয় পাও ক্যান, ভয় পায় কেডা? যে ভিতু। তুমি না লেখাপড়ি শিখছ।’

ধীর শান্ত গলায় বিছানা করতে করতে আমার সঙ্গে কথা বলছিলেন পিসিমণির শাশুড়ি।ছোটখাটো শীর্ণ চেহারা, ভাঙা গাল, একমাথা পাকা চুল।

‘নাও। শুইয়া পড়। ঘুমাও।’

বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে ঘুরে এসে বললেন,
‘যদি ভয় করে, শোবার আগে বালিশের  উপর আঙুল  দিয়া লিখবা শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী। আর ভয় করব না।’

আলো নিঙভিয়ে চলে গেলেন পিসিমণির শাশুড়ি। ঘন অন্ধকার ভেদ করে উঠোন পার হয়ে মিলিয়ে গেল শুভ্র থান।

আর আমি বসে রইলাম আমার ন’বছরের জীবনের শব্দকোষে সদ্য-শেখা একটা নতুন শব্দ নিয়ে। লোকনাথ ব্রহ্মচারী।

সে রাতটা কী হয়েছিল আমার মনে নেই।

পিসিমণির শাশুড়ির সঙ্গে তারপর আর দেখা হয়নি।

কিন্তু এক নিশ্চিত নিরাপত্তার গূঢ় সন্ধানের হদিশ দিয়েছিলেন যে মহিলা, তিনি যেন আমার সঙ্গেই রয়ে গেলেন আশৈশব।

অনেক সময় এমন হয়েছে– পরীক্ষার আগের রাত, পড়া হয়নি কিছু, ঘুম আসছে না ভয়ে। কখন যে অজান্তে আঙুল চলে গেছে বালিশের ওপর। ব্রহ্মচারীর হ আর ম-এর যুক্তাক্ষর গুলিয়ে গিয়ে ক্ষ লিখেছি কতবার।

তারপর?

শুনুন…

লেখা: ঋতুপর্ণ ঘোষ
পাঠ: অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল