আমি সৌমিত্র বলছি: পর্ব-২ এত মদ খেয়েও টাইগার সেদিন কী করে যে রান করেছিল!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: January 26, 2021 9:58 am|    Updated: February 2, 2021 12:06 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: January 26, 2021 9:58 am Updated: February 2, 2021 12:06 pm

কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বাঙালির অভিজাত অহংকার। তাঁর আত্মজীবনী ‘দিনের শেষে’-র এক একটি অধ্যায় শ্রোতাদের কাছে এক একটি মহার্ঘ্য রত্নের মতো। এক দীর্ঘ অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকারে স্বনামধন্য সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্যকে তিনি উজাড় করেছেন তাঁর স্মৃতির দিনলিপি, তাঁর না বলা কথা, যা আগে কোথাও কখনও বলেননি। সেগুলোকে অত্যন্ত যত্নে-মুনশিয়ানায় গৌতম ধরে রেখেছেন, মেলে দিয়েছেন পাঠক ও শ্রোতাদের জন্য। তারই কিছু নির্বাচিত অংশ শোনাচ্ছেন গৌতম ভট্টাচার্য স্বয়ং, সংবাদ প্রতিদিন ‘শোনো‘-র শ্রোতাদের জন্য।

এগজ্যাক্টলি বছরটা মনে পড়ছে না। বোধহয় ১৯৭০-’৭১ হবে। সকালে হঠাৎ টাইগার পটৌডির ফোন। তা ফোন করে প্রথমেই বলল, “সৌমিত্র তুমি তো অদ্ভুত টাইপের লোক। ছেলে-মেয়ে-বউ নিয়ে আমার বাড়িতে গাণ্ডেপিণ্ডে খেয়ে গেলে। অথচ আমি তিন দিন ধরে কলকাতায়, তোমার একটা ফোন নেই?” আমি খুব হাসলাম। পটৌডিকে তার অনেক বছর আগে থেকে চিনি। জানি ওর সেন্স অফ হিউমার কেমন। যা বলল আদৌ গায়ে না মেখে বললাম, আসছি রাত্তিরে তোমার হোটেলে। পটৌডি সে বার হায়দরাবাদের হয়ে খেলতে এসেছিল। আমি আর দীপা গেলাম ওদের ডেরায়। তখনকার সেই গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল। তখনকার টিমগুলো গ্রেট ইস্টার্নেই বেশি থাকত। গিয়ে দেখি জয়সীমা রুমে এসে গেছে। হুইস্কি চালু। আমরা দেখা-টেখা করে বেরিয়ে আসতে যাব, টাইগার কিছুতেই রাজি নয়। বলল চলো, পার্টি হপিংয়ে বেরবো। তখন অলরেডি রাত্তির এগারোটা। দু’চারটে পার্টি এ দিক ও দিক ঘোরার পর টাইগার বলল, চলো সৌমিত্র তোমার বাড়ি গিয়ে আরাম করে মদটা খাই।

আমার স্ত্রী আবার তখন আমায় ইশারা করছে, খবরদার আমাদের বাড়ি নয়। বাড়ি পুরো অগোছালো হয়ে পড়ে আছে। তার মধ্যে নবাব যাবে। হয় নাকি? টাইগার সে সব দেখছেও না। বলল, ‘সৌমিত্র মদ ফুরিয়ে গেছে। একটু কেনার ব্যবস্থা করো।’ তখনকার কলকাতা আজকের মতো এত লিবারেল নয়। কোথায় পাব মদ? লাইটহাউসের উল্টো দিকের একটা দোকানে স্টক থাকত জানতাম। সেটাকে খুলিয়ে ওর জন্য হুইস্কির বোতল কেনা হল। বাকি যা মদের স্টক ছিল, ততক্ষণে সব শেষ। টাইগার বলল, ‘চলো কোথাও। একটু খাই।’ কী করি, অগত্যা আমাদের একটা বন্ধু ছিল উড স্ট্রিটে। তাকে ফোন করে জানানো হল যে আমরা যাচ্ছি। সেখানেও ও টানা মদ খেয়ে গেল। আমি তখন প্রমাদ গুনছি। কাল সকালে আমার গানের সিকোয়েন্স রয়েছে। এ ব্যাটা তো এ দিকে ওঠার কোনও লক্ষণই দেখাচ্ছে না। তারপর? শুনুন…

 

লেখা: গৌতম ভট্টাচার্য
পাঠ: গৌতম ভট্টাচার্য
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল