আমি সৌমিত্র বলছি: পর্ব-৪ কখনও ভাবিইনি উত্তমদার সঙ্গে বিরোধ এমন চরমে পৌঁছবে!

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: February 9, 2021 4:12 pm|    Updated: February 9, 2021 4:14 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: February 9, 2021 4:12 pm Updated: February 9, 2021 4:14 pm

কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তিনি বাঙালির অভিজাত অহংকার। তাঁর আত্মজীবনী ‘দিনের শেষে’-র এক একটি অধ্যায় শ্রোতাদের কাছে এক একটি মহার্ঘ্য রত্নের মতো। এক দীর্ঘ অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকারে স্বনামধন্য সাংবাদিক গৌতম ভট্টাচার্যকে তিনি উজাড় করেছেন তাঁর স্মৃতির দিনলিপি, তাঁর না বলা কথা, যা আগে কোথাও কখনও বলেননি। সেগুলোকে অত্যন্ত যত্নে-মুনশিয়ানায় গৌতম ধরে রেখেছেন, মেলে দিয়েছেন পাঠক ও শ্রোতাদের জন্য। তারই কিছু নির্বাচিত অংশ শোনাচ্ছেন গৌতম ভট্টাচার্য স্বয়ং, সংবাদ প্রতিদিন ‘শোনো‘-র শ্রোতাদের জন্য।

উত্তম কুমার ও তাঁর কখনও মনোমালিন্য হতে পারে, তাও আবার সবার সামনে, মুখোমুখি, এমনটা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়! কিন্তু সেটা সত্যিই ঘটেছিল। এত বছর পর তা অস্বীকার করার কোনও কারণ খুঁজে পাননি তিনি।

একটা বিশাল সভা বসেছে সেদিন। কোথায়? না উত্তম কুমারের ময়রা স্ট্রিটের বাড়িতে। ইন্ডাস্ট্রিতে তখন একটা বিশাল বিভাজন চলছে। সৌমিত্র এবং উত্তম চলে গিয়েছেন কি না দুটো বিরোধী শিবিরে। তাবড় তাবড় শিল্পীরা দু’ভাগ হয়ে গিয়েছেন। দ্বিধাবিভক্ত, এমনকী, ভানু–জহরও! কী অসামান্য জুটি ছিলেন ভানু–জহর! উত্তম–সুচিত্রা জুটির চেয়েও সৌমিত্রর কাছে প্রিয় ছিল এই ভানু–জহর জুটি। এহেন অভিন্নহৃদয় দুই বন্ধুর বন্ধুত্বেও ফাটল ধরিয়েছিল ইন্ডাস্ট্রির ধর্মঘট!

ছয়ের দশকের শেষদিকের কথা। সম্ভবত ১৯৬৮–’৬৯ হবে। ইন্ডাস্ট্রি সে সময় বিক্ষোভে–আন্দোলনে–উত্তেজনায় টগবগ করছিল। শো–হাউস কর্মীরা ১০০ দিনের ধর্মঘট ডাকলেন হরিপদ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। ইউনিয়নের সেই ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে উথাল–পাতাল হয়ে গেল। ‘অভিনেত্রী সংঘ’ প্রথমে ধর্মঘটের পক্ষেই ছিল। পরে হঠাৎ পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এমনই হয়ে যায় যে সৌমিত্রর মতো বামপন্থী মতাবলম্বীরা চলে যান স্ট্রাইক চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে। আর উত্তম কুমারের মতো দক্ষিণপন্থী আদর্শে বিশ্বাসীরা, হঠাৎ করেই, স্ট্রাইকের আর কোনও সারবত্তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

এই নিয়ে প্রচণ্ড গন্ডগোল। ইন্ডাস্ট্রির সব মহিরুহরা এর মধ্যে জড়িয়ে পড়লেন। কারা? না বিকাশ রায়, অনুপ কুমার, জহর গঙ্গোপাধ্যায়, কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসময় সৌমিত্রর নিজের বারবার মনে হয়েছিল, শো–হাউস কর্মীদের পাশে তাঁর থাকা উচিত। এই যাঁরা প্রোজেক্টর চালান, টর্চ জ্বালিয়ে দর্শককে বসান–টসান… মনে হয়েছিল এঁরাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এঁদের কথা যছেষ্ট গুরুত্ব সহকারে ভাবা উচিত।

“উত্তমদারও নিশ্চয়ই শুরুতে তাই মনে হয়েছিল। কিন্তু আমার ধারণা, পরের দিকে প্রোডিউসরদের প্রচণ্ড চাপে উনি নিজের স্ট্যান্ড থেকে সরে যান। আসলে প্রোডিউসরদের যে–ইউনিয়ন, সেই ‘ইম্পা’ লাগাতার উত্তমদার উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। এখানে একটা ইন্টারেস্টিং কথা বলা দরকার যে, ‘ছোটিসি মুলাকাত’ ফ্লপ হওয়ার পর উত্তমদা খুব ভালনারেবল জায়গায় চলে যান। সেই লোকসান মেটানোর জন্য যে ক’জন প্রোডিউসর ওঁকে সাহায্য করেছিলেন, তাঁরাই সুযোগ বুঝে তখন উলটো চাপ দিতে থাকেন। অর্থাৎ, সেই সময় দিয়েছিলাম, এই সময় তুমি ঋণটা শোধ করো।…”

তারপর? শুনুন…

লেখা: গৌতম ভট্টাচার্য
পাঠ: গৌতম ভট্টাচার্য
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল