চক্রব্যূহেই আটকে ভারতের টিকাকরণ

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 31, 2021 7:23 pm|    Updated: May 31, 2021 9:44 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 31, 2021 7:23 pm Updated: May 31, 2021 9:44 pm

বিপুল সংখ্যক নাগরিককে সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে টিকা দিতে গেলে টিকা আমদানিই এখন একমাত্র পন্থা। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার ‘স্পুটনিক ভি’ ভ্যাকসিন ভারতে এসেছে, এখানে শীঘ্রই তার উৎপাদন শুরু হবে। ‘কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ’-এর তরফে জানানো হয়েছে, ‘মডার্না’র ভ্যাকসিন আমদানি নিয়ে অনেক দেশের সঙ্গেই আলোচনা চলছে। তবে সেসব দেশের সংশয় রয়েছে ঠিক কত পরিমাণ ডোজ ভারতে পাঠালে নিজেদের সমস্যায় পড়তে হবে না, তা নিয়ে। অন্য দিকে, ভারতের মতো বিশাল একটি বাজার লাভজনক সাব্যস্ত হলেও বিশ্ববাজারের জোগান নিয়ে হিমসিম খাচ্ছে ‘মডার্না’, ফলে সংস্থার তরফে সরাসরি চুক্তির পথ এখনই খোলা নেই। দেশে যখন নানা ভ্যাকসিনের প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছিল, সেই সময়ে ‘ফাইজার’ আবেদনপত্র জমা করেছিল। পরে প্রত্যাহারও করে নেয়। আবেদন প্রত্যাহারের মূল সমস্যাটি জড়িয়ে ছিল সংস্থাটির বিমা বন্ডে। ‘ফাইজার’ সাফ জানিয়েছিল, বিশ্বের যে সব দেশে তারা ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে, সেখানে টিকা প্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কারও মৃত্যু হলে সংস্থাকে দায়ী করা চলবে না। এই চুক্তিতে রাজি হলে তবেই ভ্যাকসিন পাঠাচ্ছে ফাইজার। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেনি, ফলে সংস্থার বিমা বন্ডে যদি ইতিবাচক কোনও পরিবর্তন আনা যায় সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ভারতে টিকার আকালের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ, আমাদের দেশ থেকে প্রভূত ভ্যাকসিন বিদেশে রপ্তানি হওয়া। যেখানে দেশে এতো আকাল—সেখানে বাইরে পাঠানোর কী দরকার? এই প্রশ্নে বিরোধীরা সরব। মোদি সরকার দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে ভারতের বৈদেশিক নীতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেয়।

চিনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ প্রকল্প এবং ঋণ প্রদানের মাধ্যমে মায়ানমার, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভূটানকে কাছে টেনেছে। ভারত প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে খানিক পিছিয়ে পড়েছিল। তাই ক্রমবর্ধমান চিনা প্রভাব মোকাবিলার কূটকৌশলের উদ্দেশ্যে টিকা নিয়ে সবার আগে ভারত মাঠে নামে। ভারতের বক্তব্য ছিল, চিন টিকার বিষয়টিকে তাদের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের অংশ করছে। চিন ও ভারত— উভয় দেশই প্রতিবেশী মায়ানমারকে সামরিক অভ্যুত্থানের পর ভ্যাকসিন পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। প্রায় ৩ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বেজিং। এখনও তারা সরবরাহ শুরু করতেই পারেনি। ইতিমধ্যেই নয়াদিল্লি ১৪ লাখ ডোজ সরবরাহ করেছে।

আরও শুনুন…

লেখা: অম্লান দত্ত, সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল