ভিয়েতনামে মিলল বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমণ ক্ষমতাসম্পন্ন ডবল মিউট্যান্ট-হাইব্রিড কোভিড স্ট্রেন

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: June 1, 2021 2:32 pm|    Updated: June 1, 2021 2:32 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: June 1, 2021 2:32 pm Updated: June 1, 2021 2:32 pm

ভিয়েতনাম এই প্যানডেমিকে অসামান্য লড়াই করেছে। কোভিডের প্রথম ঢেউ দারুণভাবে সামলেছে তারা। বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলি যখন থরহরিকম্প, সেই সময়, অর্থাৎ ২০২০-র  এপ্রিল মাসে, ৯৮ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে প্রথমবার ২৬৮টি কনফার্মড কোভিড কেস মেলে ভিয়েতনামে। তাঁদের মধ্যে ১৭১ জন সেরে ওঠেন। একজনেরও মৃত্যু হয়নি।

দ্য লোয়ি ইনস্টিটিউট-এর তরফে এই বছর ২৮ জানুয়ারি একটি তালিকা প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে করোনাভাইরাসের প্রসার রোধ করতে পেরেছে, টিকাকরণ কর্মসূচিকে তরান্বিত করছে– এরকম ৯৮টি দেশের তালিকা। তালিকায় শীর্ষ স্থান অধিকার করে নিউজিল্যান্ড আর দ্বিতীয় স্থানে ছিল ভিয়েতনাম। অথচ ভিয়েতনামের সঙ্গে স্থল এবং জলপথে চিনের সীমানা রয়েছে। চিনে করোনাভাইরাসের বিপুল সংক্রমণকালে ভিয়েতনামের বহু নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। মূলত মৎসজীবীরা। তাঁরা জলপথে চিনের জাহাজ, সৈন্য, কোস্ট গার্ড এঁদের সংস্পর্শে আসেন। তবুও করোনা তাঁদের ছুঁতে পারেনি।

২০২০ সালের মার্চে  ভিয়েতনামে শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম কেস ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ২০০ জনকে আইসোলেশন অ্যান্ড অবজারভেশন-এর আওতায় আনা হয়। সঙ্গে প্রচুর টেস্টিং, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং দূরত্ববিধিতে কড়াকড়ি আনা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি ।

ভিয়েতনামে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসে ২০২০-র জুলাই থেকে। পর্যটনের আকর্ষণবিন্দু উপকূলবর্তী শহর ডানানাংয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা ছিল সর্বোচ্চ। কিন্তু ৯৯ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সেখানে কোনও অ্যাক্টিভ কোভিড কেস স্ট্রেস করা যায়নি। তবে ডিসেম্বর থেকে হ্যানয়, হো চি মিন-সহ বড় শহরগুলি সংক্রমণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ২৩৬২ জন আক্রান্ত হন, মৃত্যু হয় অন্তত ৩৫ জনের। সেবারও সংক্রমণ ঠেকাতে তাঁরা একই পদ্ধতি নেন– পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন, ব্যবসা এবং ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ করা হয়, উপদ্রুত এলাকায় কড়া লকডাউনের সঙ্গে প্রচুর টেস্টিং এবং গণহারে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা চালু হয়। করোনা পজিটিভ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা প্রত্যেকের পরীক্ষা করানো হয়। তাঁদের রিপোর্ট নেগেটিভ এলেও ১৫ দিনের কোয়ারেন্টিন পর্ব  ছিল বাধ্যতামূলক।

কয়েক সপ্তাহ আগে নতুন করে সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে বাক নিন্হ এবং বাক গিয়াং প্রদেশ। দুই প্রদেশই মূলত শিল্পাঞ্চল। ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি– যেমন স্যামসং, ক্যানন, লাক্সশেয়ার– ইত্যাদির ফ্যাক্টরি রয়েছে এখানে। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও দূরত্ববিধি মেনে চলা সত্ত্বেও গিয়াংয়ে এক ফ্যাক্টরির কর্মীদের পাঁচ ভাগের এক ভাগ সংক্রমিত হয়ে পড়েন।

তারপর?

শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল