‘ভ্যাকেশনে গেলে ভ্যাকসিন পাবেন’; রাশিয়ার অভিনব বাণিজ্যিক ‘টোপ’ নাকি সত্যি ঘটতে চলেছে এমন কিছু?

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 20, 2021 11:19 pm|    Updated: May 21, 2021 6:53 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 20, 2021 11:19 pm Updated: May 21, 2021 6:53 am

মধ্য ইতালির স্বাধীন এবং ছোট্ট একটা স্টেট সান মারিনো। লকডাউন আর অতিমারীতে বিধ্বস্ত সেখানকার অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে নিয়ে এসেছে ‘স্পুটনিক-ভি হলিডে প্যাকেজ’। রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে তারা বন্দোবস্ত করেছে এই টিকার। স্থানীয় জনগণের টিকাকরণ সম্পূর্ণ হতেই তারা শুরু করে দিয়েছে এই টিকা পর্যটন। ইতালি-সহ সমগ্র ইউরোপে রাশিয়ার ভ্যাকসিন এখনও ছাড়পত্র না পেলেও, সান মারিনোর অধিবাসীরা ভরসা রেখেছেন স্পুটনিক-ভি-তেই। গত রবিবার থেকেই এখানে শুরু গিয়েছে এই অভিনব পর্যটন। যাঁরা এখনও টিকা পাননি বা ইউরোপে স্বীকৃত টিকার বদলে নিতে চান রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিন তাঁরাই পাড়ি জমাচ্ছেন সান মারিনোতে। এর জন্য মোট ১৯টি হোটেলের বন্দোবস্ত করেছে সান মারিনোর প্রশাসন। সেই তালিকার যে কোনও একটি ৩ দিনের জন্য বুক করে সে দেশে পা রাখলেই হোটেল মালিকরাই ব্যবস্থা করে দেবেন ভ্যাক্সিনেশনের। পরবর্তী ডোজের আগে চাইলে ফিরে যাওয়া যাবে নিজের দেশে কিংবা থেকে যাওয়া যাবে, যেমন আপনার মর্জি। তবে থেকে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, হোটেল ভাড়া থেকে খাওয়া-দাওয়া, বেড়ানো থেকে সাইট-সিয়িং সবেতেই আকর্ষণীয় ছাড় আর আন্তরিক আপ্যায়ন নিয়ে অপেক্ষমান সান মারিনোর পর্যটন দপ্তর।

একইভাবে মালদ্বীপ বেড়াতে গিয়েও নিতে পারেন টিকা। সে দেশের সরকার জানিয়েছে, আগামী জুন মাস থেকেই পর্যটকদের জন্য খুলে যাবে মালদ্বীপের দরজা। দেশে পা রাখার ৯ ঘণ্টার মধ্যেই দেওয়া হবে করোনার টিকা।

ভ্যাকসিন নিয়ে এই ব্যবসার নয়া ছক কষতে মাঠে নেমে পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহণ সংস্থাগুলিও। লকডাউনে নাভিশ্বাস ওঠা বিমান পরিবহণের কাছে এই টিকা পর্যটন কার্যত বিশল্যকরণীর মতো!

বিশেষ করে মার্কিন বিমান সংস্থাগুলি ইউরোপ এবং এশিয়ার পর্যটকদের আকর্ষণ করতে হাজির করছে আকর্ষণীয় সব অফার আর প্যাকেজের। আমেরিকার বিপুল জনসংখ্যার টিকাকরণ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগের জীবনে ফিরতে চাওয়ার বাসনায় ছটফট করছেন তাঁরা। মার্কিন প্রেসিডেন্টও ঘোষণাও করেছেন, টিকার দু’টি ডোজ নেওয়া হলে, চাইলে আর মাস্ক না পরলেও হবে। এই পরিস্থিতিতে মেক্সিকো আর কানাডার অধিবাসীরা ভিড় জমাচ্ছেন নিউ ইয়র্ক শহরে, উদ্দেশ্য মার্কিন প্রশসনের থেকে দ্রুত টিকা নেওয়া। সত্যিই মিলছে টিকা। তবে ভেবে বসবেন না নিতান্ত উদার মানবিক নজিরে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। নেপথ্যে কাজ করছে অর্থনীতির স্বার্থ।

সীমান্ত পেরিয়ে যাঁরা আসছেন, টিকা নিয়েই তাঁরা ফিরে যাবেন এমন তো নয়, এখানে কিছুদিন ঘুরবেন, ছুটি কাটাবেন, অতঃপর তাঁদের হাত ধরে চাঙ্গা হবে বাজার। তাই কানাডা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে আমেরিকায়। টিকার চাহিদা আর জোগানের ফারাকটা কানাডায় বেশ প্রকট। এখনও পর্যন্ত মাত্র ৩% বাসিন্দা টিকা পেয়েছেন, তাও প্রথম ডোজ। সম্প্রতি সে দেশের সরকার ঘোষণা করেছে যে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ৪ মাস পর। অনেকেই বলেছেন দুই ডোজের মধ্যে এই ব্যবধান বাড়ানোর নেপথ্যে বিজ্ঞান নয়, রয়েছে বাজার। জোগান দিতে অক্ষম সরকার, কাজেই ব্যবধান বাড়িয়ে চাহিদা মোকাবিলার কৌশল— আমদের দেশেও যা ঘটেছে সম্প্রতি। কানাডার নাগরিকরা দেশের সরকারের উপর বেজায় ক্ষুব্ধ। কিন্তু করোনাকে ‘টা টা বাই বাই’ বলতে তাঁরা বদ্ধপরিকর, অতঃপর ব্যাগপত্র বেঁধে তাঁরা রওনা হচ্ছেন আমেরিকায়, যেখানে দ্বিতীয় ডোজ মিলবে মাত্র ৩-৪ সপ্তাহেই।

শুনুন…

লেখা: সানু ঘোষ
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল