ভারতের এই দুই গ্রামে এখনও প্রবেশই করতে পারেনি কোভিড-১৯ ভাইরাস!

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 4, 2021 10:40 am|    Updated: May 7, 2021 6:26 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 4, 2021 10:40 am Updated: May 7, 2021 6:26 pm

ধুলো মাখা মেঠোপথ ধরে গ্রামের সামনে পৌঁছতেই রাস্তা আটকে দাঁড়াবে মারমুখী সেই প্রমীলা বাহিনি। মুখে মাস্ক, হাতে লাঠি, মাথায় উড়নি। ‘তুরন্ত গাড়ি রোকো, কঁহা জানা হ্যায়?’ উড়ে আসবে প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর যতক্ষণ না দিচ্ছেন গাড়ি আটক করে দাঁড়িয়ে থাকবেন মহিলারা। গাড়ি থেকে রাস্তায় পা নামানোর চেষ্টা ভুলেও করবেন না। সে ক্ষেত্রে তেল চুকচুকে লাঠির আঘাত নেমে আসতে পারে গাড়ির বনেটে, সতর্ক-বার্তা রূপে। দ্বিতীয়বার একই রকমের ভুল করলে ফাটতে পারে মাথা, কালশিটে পড়তে পারে শরীরে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গাড়ির ভিতর বসে কথা বলাই শ্রেয়। আপনার জবাব যদি সন্তোষজনক হয়, সে ক্ষেত্রে তাঁরা পথ ছেড়ে দেবেন। জবাব মনঃপূত না হলে পত্রপাঠ গাড়ি হাঁকিয়ে যত দ্রুত সম্ভব অঞ্চল ত্যাগ করাই ভালো। কারণ এই অঞ্চলে পা রাখার অধিকার হারিয়েছেন আপনি। অধিকার হারিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের বেতুল জেলার চিখালার গ্রামের ত্রিসীমানায় ঘেঁষার।

গোটা মধ্যপ্রদেশ যখন কোভিডের ধাক্কায় মূহ্যমান, তখনই আশার আলো দেখাচ্ছে বেতুলের গণ্ডগ্রাম চিখালার, এখন পর্যন্ত একটিও কোভিড কেস পাওয়া যায়নি যেখানে।

চিখালারের পাশাপাশি উঠে এসেছে রাজস্থানের আরেকটি প্রত্যন্ত গ্রাম—সুখপুরা। পূর্ব রাজস্থানের ভিলওয়ারার কাছে সিখার জেলার দাঁন্তা রামগড় তহসিলের অধীন গ্রাম সুখপুরা সিখরে প্রায় ৩০০০ মানুষের বসবাস। এই গ্রামেও গত ১৩ মাস পাওয়া যায়নি একটি কোভিড কেস’ও৷

বেতুলের চিখালার গণ্ডগ্রাম হলেও, সুখপুরায় ঠাঁই পেয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া৷ গ্রামে আছে তিন তিনটি স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাসপাতাল, সাইবার ক্যাফে, বাসস্ট্যান্ড ও অন্যান্য শহুরে উপাদান৷ বাইরে থেকেও অনেকে আসতেন এই গ্রামে। কিন্তু করোনার গ্রাস থেকে গ্রাম রক্ষার জন্য উদ্যোগী হন সকলে৷

গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে দিনে একটি সময় খোলা হয় গেট। সে সময় গ্রামে ঢোকার বা গ্রাম ছেড়ে বেরনো সম্ভব। এরপর সারাদিনের জন্য বন্ধ থাকবে গেট। গ্রামে যারা আসছেন বা গ্রাম ছেড়ে যাচ্ছেন তাদের উপর রাখা হয় তীক্ষ্ণ নজর। করা হয় দৈনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা। সেখানেও গ্রামবাসীরা লাঠি হাতে পাহারা দেন। শুধু গ্রামের বাইরেই নয়, গ্রামের মধ্যে রাখা হয় বিশেষ সতর্কতা। গ্রামের প্রতিটি ঘরে খাট ভিন্ন ভিন্ন, নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে লোকেরা তা ব্যবহার করেন। চলে গ্রাম পরিষ্কার রাখার প্রকল্প। ঢুকতে দেওয়া হয়না বাস, টেম্পো, বা লরি। নিজেরাও পালন করেন স্বাস্থ্যবিধি।

চিখালার ও সুখপুরা, এই মুহুর্তে সারাদেশের কাছে আদর্শ স্থাপন করেছে। ভয়াবহ করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গও স্পর্শ করতে পারেনি তাদের৷ এর নেপথ্যে রয়েছে গ্রামের প্রতি তাদের ভালোবাসা, অনুশাসন, করোনার সাথে লড়াইয়ে হার না মানা মানসিকতা।

লেখা: প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল