অগ্নুৎপাতের কবলে পড়ে ‘মৃতের শহর’-এ পরিণত হলেও ১৭০০ বছর ধরে অক্ষত ছিল পম্পেই

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 20, 2021 8:10 pm|    Updated: March 20, 2021 8:10 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 20, 2021 8:10 pm Updated: March 20, 2021 8:10 pm

ভিসুভিয়াস আদিম আগ্নেয়গিরি। ক্যাম্পানিয়ান আগ্নেয় মেখলার অন্তর্গত এই জীবন্ত ‘ড্রাগন’ আফ্রিকা-ইউরেশিয়া পাতের ওপর ইতালীয় উপদ্বীপে শায়িত। এর লীলা চলছে সেই আদিমকাল থেকেই। খ্রিস্টপূর্ব ১৭৩০ থেকে ৭৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত অগ্ন্যুপাতের সাক্ষী থেকেছে পৃথিবী। অবশ্য ভিসুভিয়াস তার প্রলয়লীলার ইঙ্গিত যে আগে থেকে দেয়নি তেমনটা নয়। ’৬৩ খ্রিস্টাব্দে পম্পেই নগরীকে কাঁপিয়ে দিয়ে যায় এক ভয়াবহ ভূমিকম্প। তারপর থেকে নদীর জলের অম্লত্ব বেড়ে গিয়ে মারা যায় প্রচুর মাছ। নেহাতই কাকতালীয় ভেবে এড়িয়ে যায় মানুষজন। তারা কি আর জানত যে আগাম বিপর্যয়ে নির্বংশ হতে চলেছে গোটা একটা সভ্যতা!

’৭৯ খ্রিস্টাব্দ। জেগে উঠল ঘুমন্ত ভিসুভিয়াস। সময়টা নিয়ে অবশ্য আজও কিছুটা সংশয় রয়েছে। অনেকে মনে করেন, অগাস্টাসের বিজয়োৎসব পালন চলছিল তখন নগরে। তাই মাসটা আগস্ট। তবে একটি দেওয়ালে অক্টোবর মাসের একটা লেখা মিলেছে। পরিষ্কার ভাষায় তাতে লেখা: ‘he ate too much’; তারিখ ছিল অক্টোবরের। অনুমান করা হয়, ভিসুভিয়াসের হত্যালীলার কথাই এখানে বলা হয়েছে। আগস্ট হোক বা অক্টোবর, উৎসবে মেতে উঠেছিল পম্পেইবাসী। প্রাচীন রোমের বিখ্যাত আইনজীবী ও লেখক প্লিনি দ্য ইয়ঙ্গার নদীর অপর প্রান্ত থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন ভয়ংকর ভিসুভিয়াসের অগ্নিলীলা। তাঁর বর্ণনায়, ‘ঘন পাইন গাছের মতো এলোমেলো আকারের মেঘে ছেয়ে গিয়েছে চারিদিক। লম্বা ডালের মতো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশ স্পর্শ করে ফেলেছে। ঘন অন্ধকারে সবাই তাদের প্রিয়জনদের হাতড়ে চলেছে। আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে নারীদের আর্ত চিৎকার, শিশুদের কোলাহল আর পুরুষদের অসহায় আর্তনাদে!’ তাঁর কাকা, প্লিনি দ্য এল্ডার নৌকা নিয়ে ছুটে গিয়ে বহু মানুষকে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। ভিসুভিয়াস গিলে খায় তাঁকেও। প্লিনির এই বিবরণ থেকেই এই ধরনের অগ্নুৎপাতের নামকরণ হয়: ‘প্লিনিয়ন ইরপসন’।

ঠান্ডা হয় ভিসুভিয়াস। কিন্তু বিপদ আরও বাড়ে। বিরাট বিরাট পাথরের টুকরো উড়ে আসে আকাশপথে, আছড়ে পড়তে থাকে শহরজুড়ে। ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় প্রাসাদ, সাতমহলা বাড়ি, সবকিছু। প্লিনির ভাষায়, ‘I believed I was perishing with the world and the world with me.’ তবে মনে করা হয়, পম্পেইবাসীর কাছে যথেষ্ট সময় ছিল প্রাণ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার। বিভূতিভূষণ যাকে বলেন প্রকৃতির ‘ভয়ংকর সুন্দর’ রূপ, তাতেই হয়তো বশ হয়ে গিয়েছিল সৌন্দর্যপিপাসু এই নগরী আর তার নাগরিকরা।

তারপর? শুনে নিন…

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল