ভারতের প্রথম মহিলা সিরিয়াল কিলার সায়ানাইড মল্লিকার রোমহর্ষক কাহিনি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: April 24, 2021 5:29 pm|    Updated: April 29, 2021 3:32 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: April 24, 2021 5:29 pm Updated: April 29, 2021 3:32 pm

দক্ষিণ ভারত মন্দিরের দেশ। আর মন্দিরে আসেন প্রচুর ধর্মভীরু মহিলা। যারা নিজেরাই নানা সমস্যায় জর্জরিত। কেম্পাম্মা বেশির ভাগ সময় এই মন্দিরগুলোয় কাটাতে থাকে। তখনই তাঁর মাথায় খেলে যায় প্ল্যান। তাঁর  প্রথম শিকার মমথা রাজন। মন্দিরে এসে নিজের দুর্দশার কথা ঈশ্বরের সামনে বলতেন আর কান্নাকাটি করতেন। সাহায্যের হাত বাড়ান কেম্পাম্মা। নিজের পরিচয় দেয় লক্ষ্মী নামে, আর তাঁর মন গড়া কথা বার্তায় ফাঁসিয়ে নেন মমথাকে। তাঁকে বলে যে এই বিপদ থেকে মুক্তির একটাই উপায়। পুজো। এক বিশেষ তিথিতে বাড়ির সবাই এর অনুপস্থিতিতে করতে হবে এই পুজো। সেখানে মমথাকে নতুন কনের বেশে মানে ভালো শাড়ি গয়না পরে পুজোয় মন দিতে হবে। সরল মমথা তাই করে। বাড়ির সবাইকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে প্রচুর গয়না পরে পুজোয় বসে। সময়মত চলে আসে লক্ষ্মী ওরফে কেম্পাম্মা। প্রথমেই তার শুদ্ধির জন্যে এক বিশেষ জল পান করায় তাকে। জলপানের সাথে সাথেই ছটফট করতে শুরু করে মমথার শরীর। কারণ সেই জলেই ছিল বিষাক্ত সায়ানাইড। সাথে সাথে কেম্পাম্মা চেপে ধরে তার নাক আর মুখ। ধীরে ধীরে শীতল হয়ে যায় তাঁর শরীর। গা থেকে সব গয়না খুলে নিয়ে ফেরার হয়ে যায় কেম্পাম্মা। ঠান্ডা সেই লাশে সে না দেখল তার উপর ভরসা করা এক সাধারণ গৃহবধূ না দেখল তার শয়তানির ছায়া।  পয়সা কামানোর শর্টকাট পেয়ে যায় সে।

২০০১ সালে একটি বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল সে। ১১ মাসের জেলও হয়। তখনও তার ব্যকগ্রাউন্ড এর কোনো খবর জোগাড় করেনি পুলিশ। এদেশে এখনও সঠিক ক্রিমিনাল ডেটাবেসের অভাব রয়েছে। সেই কারণেই ছাড়া পেয়ে যায় কেম্পাম্মা।  এরপর প্রায় বছর পাঁচ ছয় আর কোনও খুনের  রেকর্ড নেই পুলিশের কাছে। এরপরের ঘটনা ২০০৭-এর। সত্নুর জেলার এলিজাবেথ তাঁর দ্বিতীয় শিকার। ৫২ বছরের এলিজাবেথ তার নিখোঁজ নাতনিকে খুঁজে পাওয়ার সহজ উপায় পান কেম্পাম্মার কাছে। সেই পুজো। হুবহু মমথার মতোই।

তারপর? শুনুন…

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: অনুরণ সেনগুপ্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল