হিমালয়ের এই হ্রদের জলে খুঁজে পাওয়া গেছিল সারি সারি কঙ্কাল, এ বিষয়ে রয়েছে নানা লোককাহিনী, অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে রূপকুণ্ড রহস্যের সমাধান হয়েছে কী!

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 2, 2021 10:33 pm|    Updated: April 3, 2021 3:18 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 2, 2021 10:33 pm Updated: April 3, 2021 3:18 pm

সমুদ্রতল থেকে প্রায় ১৬৫০০ ফুট উপরে এই হ্রদের জলে এত মানুষের দেহাবশেষ ভেসে এলোই বা কিভাবে? এই জনৈক ফরেস্ট গার্ডটির এই আবিষ্কারের পর থেকেই রূপকুণ্ড হ্রদ এর নতুন পরিচয় ‘the skeleton lake’ নামে। সারা বছর বরফে মোড়া থাকলেও জুন থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি আসা গ্রীষ্মের স্বল্প পরিসরে বরফের আবরণ সরিয়ে বেরিয়ে আসে এই নগ্ন ও রহস্যময় সত্য! এ রহস্যের কিনারায় বারে বারে ছুটে গেছেন বৈজ্ঞানিক, ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্বিক এমনকি সাধারণ মানুষও। কিন্তু এই মানুষগুলো যে কারা এবং এদের উৎসই বা কোথায় সে বিষয়ে রহস্যের ঘনঘোর ধোঁয়াশা কিন্তু রয়ে গেছে তিমিরেই!

নানা মুনির নানা মত রয়েছে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে! কারোর মতে এঁরা সব জাপানের সেনা! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এঁরা হিমালয়ের গা ঘেঁসে ভারতে অনুপ্রবেশ করতে গিয়ে কঠোর নিয়তির সম্মুখীন হয়েছিলেন। ফলাফল, প্রকৃতির কোলে প্রাণ হারান প্রায় সকলেই! ভীত ব্রিটিশ সরকার এর সত্যতা যাচাইয়ে সাথে সাথে পাঠায় রিসার্চ টিম। প্রায় ৩০০ মানুষের দেহাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছিল হ্রদের জলে। যার মধ্যে বেশ কিছু কঙ্কালে হাড়ে মাংসের অবশিষ্ট আর নখ বা চুলের অস্তিত্ব মিলেছে বরফের নিচে! প্রকৃতি নিজেই নিজের খেয়ালে ক্রাইও সংরক্ষণ করে রেখেছে সবকিছুর। যদিও পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জাপানি সেনার তত্ত্ব খারিজ করে দেন বিজ্ঞানীরা! কারণ সে হাড়গোড় টাটকা তো নয়ই বরং বেশ পুরানো। তাহলে এঁরা কারা?

এমন জল্পনায় গল্প থাকবে না, অথবা গল্প জন্ম নেবেনা, ভারতের মতো দেশে এ আবার সম্ভব নাকি? দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লো লোককথা– উপকথা এমনকি পুরাণের গল্পও! সেগুলি পরপর একটু জেনে নিই;

পুরাণ অনুসারে, মহাদেব আর পার্বতী কৈলাসে ফিরছিলেন। যাত্রা শুরুর আগেই বেশ কিছু দৈত্য নিধন করেন দেবী। রক্তাক্ত শরীর ধুয়ে পবিত্র হতে চাইলে আসে পাশে কোনো জলাশয় মেলে না। সমাধান দিলেন স্বয়ং দেবাদিদেব। নিজের ত্রিশূল বিঁধে দিলেন হিমালয়ের বুকে। পাথর ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো স্বচ্ছ পবিত্র জল। এতই স্বচ্ছ সে জল তাতে পার্বতী নিজের রূপ দেখতে পেলেন! সেই থেকেই ‘রূপকুণ্ড’ নামের উৎপত্তি। কুণ্ড মানের জলের হ্রদ, আর এই হ্রদে দেবী পার্বতী নিজের রূপ দেখেছিলেন, দুই মিলে এই নামেই পরিচিতি পেলো এই জলাশয়।

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শুভাশিস চক্রবর্তী

পোল