মারণব্যাধির টিকা আবির্ভাবের আড়ালে ‘যন্ত্রণা’র কাহিনি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: December 12, 2020 4:45 pm|    Updated: December 12, 2020 4:52 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: December 12, 2020 4:45 pm Updated: December 12, 2020 4:52 pm

করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক। এই বহুকাঙ্খিত জীয়নকাঠি’র সন্ধান, প্রয়োগ এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এখন সারা পৃথিবী তোলপাড়। সারা পৃথিবী মুখিয়ে আছে, কবে ফিরবে সেই চেনা ছন্দ, চেনা জীবন। যে কোন মারণ রোগের একটি ত্রুটিহীন টীকা আবিষ্কার তো যেমন তেমন কথা নয়। নির্মাণ ও প্রয়োগের অনেকগুলি স্তর পেরিয়ে তবেই সেটি বাজারে আসে। আর তার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকে ব্যবসা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আরও অনেক জটিল হিসেব নিকেষ।

সম্প্রতি ইংল্যান্ডে ফাইজার (Pfizer) করোনা ভাইরাসের টীকা দেওয়া হচ্ছিল, সেখানকার ন্যাশানাল হেলথ ওয়ার্কারস-দের। টীকা গ্রহণের পর স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে দুজন বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। নানারকম অ্যালার্জির উপসর্গ দেখা দিয়েছে, তাঁদের শরীরে। ইতিমধ্যে সেখানকার ন্যাশানাল মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্দেশ দিয়েছে এই মর্মে যে অ্যালার্জির উপসর্গের কোন পূর্ব ইতিহাস থাকলে সেই ব্যাক্তিকে কোনওভাবেই এই ট্রায়াল পর্বে টীকাকরণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া যাবে না। ফাইজার (Pfizer) টীকা প্রয়োগ নিয়ে অতঃপর ইংল্যান্ডের জনমত দ্বিধাবিভক্ত। তার মধ্যেই এই ঘটনা স্বভাবতই বিতর্ক আরও উস্কে দিয়েছে।

ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট এবং ভারত বায়োটেক-এর এমার্জেন্সি ভ্যাকসিনের অবস্থাও তথৈবচ। একটি রিপোর্টের দাবী, সেরামের টীকা নিয়ে চেন্নাই-এর এক ব্যাক্তির দেহে জটিল স্নায়ুঘটিত অসুখের মত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তিনি চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণের জন্য ওই সংস্থার কাছে মোটা টাকা দাবী করেছেন। যদিও ওই সংস্থার দাবী ওই ব্যাক্তির আগে থেকেই স্নায়ুঘটিত দৌর্বল্য ছিলই, তিনি সেটি গোপন করে স্রেফ মুনাফার জন্য এই টীকা নিয়েছেন। এখন মামলা মোকদ্দমা করে, তাঁদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত করছেন, তিনি যদি অবিলম্বে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা না চান তাহলে একশো কোটির একটি মানহানির মামলা তাঁর বিরুদ্ধেও ঠোকা হবে। এইসব ঘটনা প্রবাহের মধ্যে সংস্থাগুলি, কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে টীকা ব্যাবহারের অনুমতি চেয়েছিল, যা আপাতত বিশ বাঁও জলে। ফলে ভ্যাকসিন প্রয়োগের তৃতীয় স্তরে এসে হোঁচট খেয়ে এই প্রক্রিয়া যে মুখ থুবড়ে পড়ল, বললে অত্যুক্তি করা হয়না।

তারপর শুনুন…

 

লেখা: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস ও সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়

পোল