বিশ্বের প্রথম মহিলা পাইলট হিসেবে জোয়া আগরওয়াল বিমান ওড়ালেন অন্য মেরুতে, ‘অল উওমেন ফ্লাইট’ নজির গড়ল ভারতেও

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 27, 2021 9:40 pm|    Updated: May 27, 2021 9:44 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 27, 2021 9:40 pm Updated: May 27, 2021 9:44 pm

মহিলা পাইলটদের এই উড়ান শুরু হয় ১৯৫৬ সালে এক বাঙালির হাত ধরেই। দূর্বা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই আমাদের দেশে প্রথম মহিলা কমার্শিয়াল পাইলট। তারপর ছিল দীর্ঘ শূন্যতা। অনেক লড়াই, কঠোর নিয়ম-কানুনের পরে, ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স ককপিটে নিয়মিত মেয়েদের দেখা যায়। নয়ের দশকের উদার অর্থনীতিকরণ, ভারতীয় সমাজ ও পেশাগত জায়গাটাকে একধাক্কায় অনেকটা সাবালক করেদেয়। দিকে দিকে গজিয়ে ওঠে এয়ার হস্টেস ট্রেনিংয়ের স্কুল। তাদের প্রত্যেকটি বিজ্ঞাপনের মূল বক্তব্য ছিল মধ্যবিত্ত বাড়ির মেয়েকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখানো। কিন্তু কমার্শিয়াল পাইলট হওয়ার মডেল শুধু ছেলেরাই হবে। পুরুষতান্ত্রিকতার এই যুক্তিতে এক শ্রেণির মহিলারাই উৎসাহ দিতেন। এক বিখ্যাত ঘড়ি প্রস্তুতকারী ব্র্যান্ড, তাদের বিজ্ঞাপনে দেখিয়েছিল– মহিলা এয়ার হস্টেসরা আদতে চলন্ত প্লেনে, কাজের বদলে পুরুষ পাইলটের সঙ্গে রতিক্রিয়া করেন। তাছাড়া এয়ার হস্টেস মানেই বিমানযাত্রার মাঝের হল্টে পাইলটের যৌন পুতুল বই আর কিছু নয়। এহেন মিথ নিয়ে কয়েক দশক একটা প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে। পুরুষ পাইলট হওয়া মানে শুধু নিত্যনতুন দেশে উড়ান নয়, বরং নিত্যনতুন শহরে নতুন নারী পাওয়ার হাতছানি, মোটের ওপর এই ছিল ধারণা।

এহেন ‘চমৎকার’ সমাজব্যবস্থায়, যাবতীয় ট্যাবুর বিরুদ্ধে জোয়া আগরওয়াল পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন ক্লাস ১০-এর পর থেকেই। মধ্যবিত্ত মা-বাবা অবশ্য এই উচ্চাভিলাষের কথা জানতেন না। তাঁদের এসব মেনে নিতে সমস্যা হয়েছিল। মা কেঁদে ফেলেন, বলেন, ‘তুমি ভাবতে পারলে কী করে এসব করা সম্ভব!’ বাবার অভিব্যক্তিতে ছিল অসহায়তা। মধ্যবিত্ত গেরস্তের পক্ষে সন্তানকে, তাও আবার যে কি না মেয়ে, তাকে পাইলট ট্রেনিং কোর্স করানো বামনের চাঁদ ছোঁয়ার স্বপ্ন বই কিস্যু নয়। কিন্তু স্বপ্ন তো পূরণ করতেই হবে। অতএব, স্নাতক স্তরে জোয়া সেন্ট স্টিফেন কলেজে ভর্তি হলেন ফিজিক্স নিয়ে। পাশাপাশি ভর্তি হলেন পাইলট ট্রেনিং কোর্সেও, নিজের জমানো পয়সা খরচ করে। সকাল ৬টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টে পর্যন্ত চলত ফিজিক্স পড়াশোনা। তারপর শহরের অন্য প্রান্তে ছুটতেন পাইলট ট্রেনিং কোর্সের জন্য। রাত ১০টায় বাড়ি ফেরা। ফিরে আবার ফিজিক্সের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে বসা। দু’ক্ষেত্রের সম্মিলিত অমানুষিক পরিশ্রমের পরও কিন্তু অভিযোগ ছিল না, কারণ পথ কঠিন হলেও জোয়া মনে মনে উচ্চারণ করতেন– ‘কঠিনেরেই ভালোবাসিলাম’। দুই শক্ত কোর্স একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়ার পরেও কলেজে প্রথম হন। বাবাকে সেবার জিজ্ঞেস করেছিলেন জোয়া, ‘এবার কি আমি আমার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগতে পারি?’ বাবা হাসিমুখে শুধু সম্মতিই দেননি, নত হয়েছিলেন জেদি মেয়ের ততোধিক জেদি উচ্চাশার কাছে। জোয়ার পাইলট ট্রেনিং কোর্স কমপ্লিট করানোর জন্য এবার তিনি লোন নিতে শুরু করলেন। শুরু হল কঠিনতর লড়াই।
 
বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: অম্লান দত্ত
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল