‘ব্যবসায়ী’ নন, তিনি ‘শিল্পপতি’: মানবিকতার অপর নাম রতন টাটা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 28, 2021 9:03 pm|    Updated: May 28, 2021 10:55 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 28, 2021 9:03 pm Updated: May 28, 2021 10:55 pm

অতিমারীর এমন করাল পরিস্থিতিতে বড় ঘোষণা করেছে টাটা স্টিল। জানিয়েছে, কোনও কর্মী করোনা আক্রান্ত হলে বিশেষ সুবিধা তো পাবেনই; কেউ মারা গেলে, তাঁর অবসর গ্রহণের বয়স পর্যন্ত পুরো বেতন পাবে পরিবারও। সংস্থার পক্ষ থেকে নেওয়া হবে তাঁর সন্তানদের স্নাতক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব। পাশাপাশি পরিবারগুলিকে দেওয়া হবে চিকিৎসার যাবতীয় সুবিধা। টাটা স্টিল ম্যানেজমেন্টের বক্তব্য, অতিমারী সংকটে কর্মীদের ভবিষ্যৎ উন্নত করতে কোম্পানি সাধ্যমতো চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, সরকারি কর্মীদের মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবার পেনশনের সুবিধা পায় কিন্তু বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য এমন কিছুই বরাদ্দ থাকে না। তবে করোনার এই কঠিন সময়ে টাটা স্টিল-সহ একাধিক বেসরকারি সংস্থা যেভাবে কর্মীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।
গত বছরের কথা, একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব ভাইরাল হয়েছিল। সংস্থার প্রাক্তন এক কর্মীর অসুস্থতার খবর শুনে ৮২ বছরের রতন টাটা তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন;  মুম্বই থেকে পুনে একা গাড়ি চালিয়ে! নিছক বাজারি চমকের জন্যে টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান এই কাজ করেননি। এমনকী তিনি ছবিও তোলেননি। সংশ্লিষ্ট কর্মী পরিবার-সদস্যরা চূড়ান্ত আবেগী হয়ে এই ছবি এবং ইতিবৃত্ত পোস্ট করেন। এরকম পাহাড়সমান এক ব্যক্তিত্বের এরকম করার আদতে কোনও দরকার আছে কি? এই প্রশ্ন করলে একটাই উত্তর মিলবে: বংশ-পরম্পরায় বহমান মূল্যবোধ। পরম্পরা প্রতিষ্ঠিত অনুশাসন, প্রত্যেক টাটা সন্স এবং টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যানকে যে-পাঠ নিতে হয়– এ তারই নিরুচ্চার বহিঃপ্রকাশ। 
টাটা স্টিল এখনও পর্যন্ত ‘মিশন ওটু’ প্রজেক্টে ৩৫,০০০ মেট্রিক টন অক্সিজেন সরবরাহ করেছে। তরল অক্সিজেন সরবরাহের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২৪টি ক্রায়োজেনিক কন্টেনার্স আমদানির। মধ্যপ্রদেশে সরকারকে সাহায্যের জন্য সেখানে অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হচ্ছে। গুজরাতে নতুন ১২০০ বেডের কোভিড হাসপাতাল তৈরি হচ্ছে। ২০২০ সালে রতন টাটা ব্যাক্তিগত উদ্যোগে করোনা মোকাবিলার জন্য দান করেছিলেন ৫০০ কোটি টাকা। টাটা সন্স দিয়েছিল ১,০০০ কোটি। এবছর, অতিমারী মোকাবিলায় তাঁর সংস্থার তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ২,০০০ কোটি টাকা অনুদানের। রতন টাটা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আরও দেবেন।
জামশেদপুর এফসি ক্লাবের জেআরডি টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স স্টেডিয়ামটিকে রাতারাতি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পরিণত করেথে টাটারা। করোনা টেস্টের উচ্চমানের  প্রযুক্তি বাজারে আনার জন্য CSIR-IGIB ও ICMR-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছিল টাটা গোষ্ঠী। করোনা পরীক্ষার জন্য ভারতের প্রথম ক্লাস্টার্ড রেগুলারলি ইন্টারস্পেস্‌ড শর্ট প্যালিনড্রমিক রিপিটস কোভিড-১৯ টেস্ট, যার ডাকনাম ‘ফেলুদা কিট’, বাণিজ্যিকভাবে ভারতের বাজারে লঞ্চ করছে। খরচ কম, স্বল্প সময়ের মধ্যে মিলবে নির্ভুল রিপোর্টও।
শুনে নিন…

লেখা: অম্লান দত্ত
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল