অপহরণকারীর প্রতি বিদ্বেষ তো নয়ই; জন্মে যায় অদ্ভুত নির্ভরতা ও ভালবাসা– ‘স্টকহোম সিনড্রোম’-এর ম্যাজিক এখানেই!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 19, 2021 4:09 pm|    Updated: May 19, 2021 4:09 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 19, 2021 4:09 pm Updated: May 19, 2021 4:09 pm

১৯৭৩-এর অগাস্ট। সুইডেনের স্টকহোম শহরে এক অসফল ব‌্যাঙ্ক ডাকাতি ঘটে। ঘটনাটি পরিচিতি পাওয়ার প্রধান কারণ দুটো। একটা যে স্টকহোম সিনড্রোম, বলাই বাহুল‌্য। অন‌্যটি হল– এটি সুইডেনের প্রথম ব‌্যাঙ্ক ডাকাতি যা খবরের চ‌্যানেল সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। ছ’দিন ধরে ঘটে ঘটনাটি। সময়কালীন ব্যাপ্তির জন্য এটিকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত করা গিয়েছিল সেসময়। অবাক করার মতো ছিল ঘটনা পরম্পরাটিও।
২৩ অগাস্ট যখন ব‌্যাঙ্ক ডাকাতি শুরু হচ্ছে, আসামী জ‌্যান-এরিক ওলসন তখন একা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি ৭০০০০০ ডলার অর্থমূল‌্য, তাঁর বন্ধু আসামী ক্লার্ক ওলফসনের মুক্তি আর পালানোর জন‌্য একটা গাড়ি চেয়েছিলেন। সরকার তাঁর তিনটি দাবিই মেনে নেয়, ক্লার্ককে ব‌্যাঙ্কেও নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ওলফসনের মুক্তির জন‌্য ব‌্যাঙ্কের ভেতরে থাকা চারজনকে মানববর্ম করার অনুমতি সরকার দেয়নি। অনেক দেশ, যেখানে মানুষ শুধুমাত্র সংখ্যা, সেখানে হয়তো এই অনুমতিও পাওয়া যেত। তো তারপর কী হল? শুরু হল অপেক্ষা। ব‌্যাঙ্কের ভল্টের ভেতর দুই অপহরণকারী– জ্যান-এরিক এবং ক্লার্ক; চার অপহৃত– ক্রিস্টিন এনমার্ক, এলিজাভেথ ওল্ডগ্রেন, ব্রিগিটা লন্ডব্ল‌্যান্ড আর একমাত্র পুরুষ অপহৃত স্ভেন স্যাফস্টর্ম। অর্থাৎ, মোট ছ’জন।

অবাক ঘটনাটি ঘটে ঠিক তখনই। শুরু হয় এক মিথোজীবী আত্মীয়তা। এনমার্কের ঠান্ডা লাগায় জ্যান-এরিক তাঁর গায়ে জড়িয়ে দেন উলের চাদর। লন্ডব‌্যান্ডকে বাড়িতে ফোন করতে সাহায‌্য করেন। ওল্ডগ্রেনের দমবন্ধ লাগলে তাঁকে ভল্টের বাইরে ঘুরে আসার অনুমতি দেন। স‌্যাফস্টর্মের ভাষায়, ‘When he treated us well, we could think of him as an emergency God.’ ‘অপহরণকারী’-র ‘ভগবান’ হতে বেশি সময় লাগেনি। সেই ‘ভগবান’-এর অস্ত্র ছিল সামান‌্য মানবিকতা, ভালবাসা ও যত্ন।

দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অপহৃত আর অপহরণকারীর বন্ধু হয়ে গেলেন। শুধু তাই নয়, অপহৃতরা আবার তখন বাইরের সাইরেনের শব্দে, পুলিশের কণ্ঠস্বরে ভীত, সন্ত্রস্ত্র। এক পুলিশ অধিকর্তা জ্যান-এরিকদের সঙ্গে মধ‌্যস্থতা করে ভেতরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে জানান ভাগ করে নেন তাঁর এক অদিভুত অভিজ্ঞতার কথা। জানান–  চার অপহৃত জ্যান-এরিক আর ক্লার্কের কাছেই বেশি শান্ত, নির্ভয়। পুলিশদের দেখেই বরং অস্থির হয়ে পড়ছেন তাঁরা। ভয় পাচ্ছেন, পুলিশ আক্রমণ করে তাঁদের মেরে না ফেলে!
তারপর কী হল?
শুনে নিন…

লেখা: সব্যসাচী সেন
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল