পুরুষের ছদ্মবেশে দীর্ঘদিন দক্ষ হাতে সামলেছেন ফারাওয়ের দায়িত্ব, কে এই রহস্যময় মিশরীয় বিদুষী?

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 16, 2021 8:19 pm|    Updated: March 16, 2021 8:19 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 16, 2021 8:19 pm Updated: March 16, 2021 8:19 pm

এমনিতেই তুতের সমাধি নিয়ে জল্পনার অন্ত নেই, তার উপর আবার এই তত্ত্ব প্রশ্নের মুখে ফেলেছে নেফারতিতি আর তুতেনখামেনের সম্পর্ককে! মিশরবিদদের মতে, রাজা আখেনাতেনের সন্তান তুতের সৎমা ছিলেন নেফারতিতি। এবং তাঁরই কন্যা অঙ্খেসেনামুন ছিলেন তুতের স্ত্রী। মানে একই সঙ্গে জামাই আবার সৎ পুত্রও! ভাবা যায়! রাজা আখেনাতেন সেই সময় ভাস্কর্য-শিল্পে বৈচিত্র আনেন। রাজাদের বাড়াবাড়ি পেটাই করা সিক্স প্যাক মূর্তির বদলে আসল চেহারার আদলে মূর্তি গড়ার রীতি শুরু হয়। তাই স্বয়ং রাজার মূর্তিতেই স্বল্প মেদের আভাস মেলে।

সেই সময়ের বিখ্যাত ভাস্কর থুতমসে-র ঘর থেকে আবিষ্কৃত নেফারতিতির বহুল প্রচলিত আবক্ষটি থেকেই তাঁর অপরূপ রূপের পরিচয় পাওয়া যায়। আবক্ষটি নেহাত সাধারণ ছিল না, এই একটি ৪৮ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ আর মাত্র ২০ কিলোগ্রাম ওজনের বস্তুটি বিবাদ ডেকে আনে জার্মানি আর মিশরের মধ্যে। আবক্ষটির আবিষ্কর্তা লুদেইগ বর্কার্ড এটি জার্মানির তৎকালীন অধীশ্বর হিটলারকে উপহার দেন। এরপর মিশর তার জিনিস ফেরত চাইলে বেঁকে বসেন ফিউরার। অবশেষে একটি নুনের খনি থেকে এই লুকিয়ে রাখা আবক্ষটি উদ্ধার করে বার্লিনের একটি মিউজিয়ামে রাখা হয়।

তবে আবক্ষটির আসল রহস্য লুকিয়ে এর বাম চোখে। সুন্দর টানা টানা আঁকা বামদিকের চোখটি মণিহীন। কথিত, প্রাচীন দেবতাদের মতো তাঁর চোখের উপরেও নাকি ছিল একটা সাদা পর্দা। রোমান্টিক একটা থিওরিও অবশ্য আছে। মূর্তিটির নির্মাতা থুতমসে প্রেম নিবেদন করলে রানি তাঁকে অস্বীকার করেন। থুতমসের প্রকৃত ভালবাসা দেখতে পাননি তিনি। তাই তাঁর এক চোখ অন্ধ করে দেন পাগল প্রেমিক! তবে বেশিরভাগ ঐতিহাসিকের মত, দুর্ঘটনাবসত চোখটি নষ্ট হয়ে যায়।

নেফারতিতি একাধারে ছিলেন বিশ্বস্ত পতিবৎসল স্ত্রী, আবার ছয় কন্যার মা, ঈশ্বরের উপাসকও। তবে আখেনাতের মৃত্যুর পর হঠাৎই নেমে আসে নৈরাজ্য। আমুন ও অন্যান্য দেবতাদের উপাসকদের আয় কমে যাওয়ায় তাঁরা এই নৈরাজ্যের অস্থিরতাকে ‘আমুনের অভিশাপ’ বলে ব্যাখ্যা করেন। সেইসময় মিশরের সিংহাসন খুব অল্প সময় সামলেছিলেন স্মেঙ্খারে নামের এক ফারাও। কথিত, রানি নেফারতিতি পুরুষের ছদ্মবেশে স্মেনখারে ছদ্মনামে তুলে নিয়েছিলেন ফারাওয়ের দায়িত্ব। এরপর বালক রাজা তুত মসনদে এলে হারিয়ে যান নেফারতিতি।

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল