মুদির দোকান থেকে চায়ের ঠেক, সংস্কৃতেই কথা চলে এখানে!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 1, 2021 4:28 pm|    Updated: May 9, 2021 5:35 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 1, 2021 4:28 pm Updated: May 9, 2021 5:35 pm

ধরুন রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন। হঠাৎ করে কেউ জিজ্ঞেস করল: ‘কথম্‌ অস্তি?’ কী করবেন? ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাবেন তো? বড় বড় চোখ করে মাথাটাকে ৩৬০ ডিগ্রি প্রদক্ষিণ করিয়ে বক্তার দিকে তাকাবেন, তাই তো? ভাববেন তো বেলেল্লাপনা করছে সামনের মানুষটি? বেশ। না হয় তাই ভাবলেন। কিন্তু যদি শোনেন চারপাশের লোকজনও ঠিক সেই ভাষায় কথা বলছে যে–ভাষায় আপনার বাড়ির পুরুতমশায়টি মন্ত্রোচ্চারণ করেন? যে–ভাষার পাঠ আপনি সাঙ্গ করেছেন সেই কৈশোরেই… ইয়ে মানে যদি না তা আপনার একদা অনার্স সাবজেক্ট থেকে থাকে আর কী। কী মনে হবে যদি উঠতে–বসতে ২৪ ঘণ্টা দেবভাষা উচ্চারিত হতে থাকে কানের কাছে? দোকানপাটে ‘how much is that?’–এর বদলে ‘কিয়দ্‌ অস্তি তৎ?’; গাড়িঘোড়ায় ‘how far is it?’–এর বদলে ‘কিয়দ্‌দূরে অস্তি?’ কী মনে হবে ঠিক? ঠিক কী মনে হবে, হ্যাঁ?

ঘাবড়াবেন না। কখনও এরকম পরিস্থিতি তৈরি হলে জানবেন টাইমমেশিনে চড়ে বেদ–বেদান্ত–উপনিষদের যুগে নয়; আপনি পৌঁছে গিয়েছেন ভারতের সাতটি গ্রামের যে কোনও একটিতে। কর্নাটকের মত্তুর, হোসাহাল্লি; মধ্যপ্রদেশের ঝিড়ি, বাঘুয়াড়, মোহাদ; রাজস্থানের গানোড়া এবং ওড়িশার সসন––– ভারত তো বটেই, পৃথিবীর এই মাত্র সাতটি জায়গাতে এখনও কথোপকথনের মূল মাধ্যম সংস্কৃত। এই ভাষাতেই জীবনযাপন করেন স্থানীয়রা। সবজিমান্ডি থেকে খেলার মাঠ, পঞ্চায়েত থেকে অফিসকাচালি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে আড্ডার ঠেক––– সংস্কৃতর একছত্র রাজ এই সাত গ্রামে। সরকারি কাজকর্মও চলে দেবভাষায়। হাই–টেক, স্কাইরাইজের চাদরে মোড়া একুশ শতকেও লোকমুখে জীবন্ত পৃথিবীর অন্যতম আদিভাষাটি। এ যেন অ্যাসফল্টের রাস্তা দিয়ে কপিধ্বজের সদর্পে হেঁটে যাওয়া মশাই!

অবাক হচ্ছেন?

আসুন, কথায় কথায় সেরে আসি ভারত তথা পৃথিবীর সাত সংস্কৃতভাষী গ্রামের সফর।

প্রথমেই আসি মত্তুরের কথায়। মত্তুর। অথবা মথুর। কর্নাটকের শিবামোগ্গা শহরের অনতিদূরেই শিমগোলা জেলা। তারই একটি খুদে গ্রাম মত্তুর। বাস ‘সংকেতি’ নামে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের, যারা ৬০০ বছর আগে কেরল ছেড়ে এসে এখানে থিতু হয়। রাজ্যের সরকারি ভাষা কন্নড় হলেও জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, মত্তুরবাসীরা সবকিছুই করে থাকেন সংস্কৃতে। তারপর শুনুন…

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল