ভিআইপি ট্রিটমেন্টে ‘না’; কোভিড-আক্রান্ত এই মন্ত্রী নিজেই ধরলেন ঝাড়ু, মুছলেন হাসপাতালের ঘর!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 18, 2021 4:37 pm|    Updated: May 18, 2021 4:38 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 18, 2021 4:37 pm Updated: May 18, 2021 4:38 pm

মিজোরাম-এর কোভিড আক্রান্ত মন্ত্রী আর লালজিরলিয়ানা প্রথমে সাফাইকর্মীকে ডাকেন। অন্য কোনও কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি তক্ষুনি এসে উঠতে পারেননি। এতে রাগ তো দূরের কথা, বিন্দুমাত্র উত্তেজিতও হননি মাননীয় মন্ত্রী। বরং দেরি না-করে নিজেই হাতে ঝাড়ু তুলে নেন। পরিষ্কার করতে শুরু করেন বাকি রোগী-সহ তিনি যে-ঘরে আছেন সেই ঘরের মেঝে। ডাক্তার, নার্স, সাফাইকর্মী-সহ সমস্ত মেডিক্যাল স্টাফের ২৪ ঘণ্টার অক্লান্ত পরিষেবায় আপ্লুত তিনি। প্রশংসায় ভরিয়ে দেন তাঁদের। ‘সারাদিন ধরে কাজ করে যাওয়া হাসপাতালকর্মীদের দেখে আমার মনে হয়েছে নিজের সাধ্যমতো ওঁদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। যতটা ওঁদের কষ্ট লাঘব করা যায় আর কী। বাকি অসুস্থদের সক্রিয়ভাবে দেখভাল করার মতো শারীরিক অবস্থায় পৌঁছাইনি এখনও। তাই যেটুকু করতে পারতাম, করেছি।… আমার মনে হয় এটা আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কারণ হাসপাতালে থাকা অবস্থায় আমার জন্য ঘর যথেষ্ট অপরিষ্কার হয়েছে। আর এই মুহূর্তে কমবেশি অনেকেই অসুস্থ। পর্যাপ্ত হাসপাতালকর্মীও নেই। কোভিডযোদ্ধাদের কাজের চাপ ভাগ করে নিয়েছি। আমার তরফে যতটুকু তাঁদের পাশে থাকা যায় সেই চেষ্টা করেছি।’ সাফ বক্তব্য ৭১ বছরের মন্ত্রীর। আরও বলেন, ‘ডাক্তার বা নার্সদের অপ্রস্তুতে ফেলতে এসব করিনি। মানুষকে দেখাতে চেয়েছিলাম– এই টুকটাক ঘরের কাজগুলো বাকিদের জন্য ফেলে না-রেখে নিজেই করে নেওয়া যায়। তাতে নিজের সামাজিক অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয় না। নিজেকে তো ছোট করা হয়ই না; যাঁরা এগুলো করেন তাঁদের প্রতিও সহমর্মিতা দেখানো হয়। বোঝানো যায়–কেউ আলাদা নয়, প্রত্যেকে সমান।’ জানান– ঘর ঝাঁট দেওয়া-মোছা, কাপড় কাচা, বাসন মাজার কাজ নতুন নয় তাঁর কাছে। এমন নয় যে প্রথমবার করছেন। বাড়িতেও এসব করে থাকেন। কিন্তু খবর বলছে অন্য কথা। শুধু বাড়িতেই নয়, বিধানসভা বা নিজের অফিসেও তাঁকে আকছাড় ঘর পরিষ্কার করতে দেখা গিয়েছে। এমনকী, রাজধানী দিল্লির মিজোরাম হাউসও স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সাফাই করেছিলেন একবার! মিজোরামে হোক বা দিল্লিতে, বা ভারতের অন্য কোথাও– বাজারহাট নিজেই বেরিয়ে করেন; ব্ল্যাকক্যাটের ধার ধারতে দেখা যায়নি তাঁকে কখনও। নিতে দেখা যায়নি মন্ত্রীসুলভ ‘এক্সট্রা ফেসিলিটি’। এক্স, ওয়াই, জেড কোনও ‘প্লাস সিকিউরিরিটি’রই বালাই করেননি কখনও।
কী বলছে নেটিজেনরা?
শুনে নিন….

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল