প্রতিযোগীদের পোশাক-কণ্ঠে নিজের দেশ ও বিশ্বের রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে প্রতিবাদ; ‘মিস ইউনিভার্স’-এর মঞ্চে এবার অচেনা সুর

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 20, 2021 2:55 pm|    Updated: May 20, 2021 2:55 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 20, 2021 2:55 pm Updated: May 20, 2021 2:55 pm

চলতি বছরের ১৩ ই মে হলিউডের ‘সেমিনোল হার্ড রক হোটেল এন্ড ক্যাসিনো’র মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা। ঝলসে উঠেছিলেন মায়ানমারের এক তরুণী! নাম থুজার উইন্ট লুইন। তাঁর হাতে একটি কাপড়ের টুকরো। তাতে লেখা ‘প্রে ফর মায়ানমার’– যা আপামর বিশ্ববাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। মায়ানমার সেনার অপশাসনের নিষ্ঠুরতায় একের পর এক বলি চড়েছে প্রতিবাদীদের। সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় হলে খানিক নড়েচড়ে বসছে মায়ানমার প্রশাসন। শুধুমাত্র থুজার-ই যে এই অভিনব প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন তেমনটা নয়; মিস সিঙ্গাপুর বার্নাদেট বেল ওং-ও নিজের লাল বডিস্যুটের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন সিঙ্গাপুরের পতাকা। তাতে লাল অক্ষরে লেখা ‘স্টপ এশিয়ান হেট’। এশীয়-আমেরিকানদের উপর বেড়ে চলা কটূক্তি থেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠছিলেন তিনি তাঁর নীরব অথচ জোরালো উপস্থিতিতে। ‘কীসের জন্য এই বিশ্ব মঞ্চ, যদি নারকীয়তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদই না জানালাম!’– ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন তিনি। উরুগুয়ের লোলা দে লস সান্তোসের রামধনু স্কার্টেও দেখা গিয়েছে একটি প্রতিবাদী লেখা–  ‘ঘৃণা- হিংসা-প্রত্যাখ্যান- বৈষম্য আর না’। আসলে তাঁর এ রঙিন প্রতিবাদ ছিল সেই সমাজের প্রতি, যেখানে আজও সমকামিতা অপরাধ আর সমকামীরা অস্পৃশ্য!

সুস্মিতা সেন, যুক্তা মুখের দেশ আমাদের ভারতও কিন্তু পিছিয়ে ছিল না এই দৌড়ে। মিস ইন্ডিয়া আদলিনে কোয়াদ্রোস কাস্তেলিনো সেরা পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নেন। তাঁকে করোনা জর্জরিত ভারতের আরোগ্য লাভের কথা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনিও জানান তাঁর কণ্ঠে শোনা যায় এক আত্মবিশ্বাসী নাগরিকের অনুরণন: করোনা ভারতের মেরুদণ্ডে আঘাত করেছে। এ অবস্থায় সবার আগে প্রয়োজন নিজের প্রিয় মানুষদের দেখাশোনা ও পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা সত্যিই প্রয়োজন। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন সরকার আর জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে এ যুদ্ধ। তাঁর এ হেন প্রতিক্রিয়া জুরি মেম্বারদের পাশাপাশি মন জয় করে নিয়েছে গোটা ভারতের। তিনি প্রতিযোগিতায় চতুর্থ হয়েছেন।
 
বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়

পোল