পরিসংখ্যানবিদ্যায় নির্ভর করে নার্সিং এবং ‘যুদ্ধ’জয়; অতিমারির আবহে ফিরে দেখা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলকে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 12, 2021 4:56 pm|    Updated: May 12, 2021 4:57 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 12, 2021 4:56 pm Updated: May 12, 2021 4:57 pm

আজকের এই করোনাকালীন অস্থির পরিবেশে মৃত্যুর হাহাকার যখন বাঁচার রসদটুকু কেড়ে নিতে চাইছে, বারবার ফিরে দেখতে ইচ্ছে করে সেই মানুষটিকে। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলকে। ১২ মে তাঁর জন্মদিন; যে দিনটি পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক নার্স দিবস’ হিসেবে।
ক্রিমিয়ার যুদ্ধের পর ব্রিটেনে সৃষ্টি হয়েছিল এক ভয়াবহ অবস্থা। নিহত এবং আহত মানুষদের আর্ত চিৎকার ও যন্ত্রণাকাতর অবস্থায় পাশে থাকার মতো কেউ ছিল না । ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল টোম্যান সাম্রাজ্যে যান। সঙ্গে ৩৮ জন সেবিকা। প্রত্যেকেই ফ্লোরেন্সের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। সেই অভিযানে আরও ছিলেন ফ্লোরেন্সের আত্মীয় মেই স্মিথ, হেনরি এডওয়ার্ড ম্যানিং এবং তাঁর সহযোগী ১৫ জন ক্যাথলিক নান। এই বড় অভিযানটির মূল তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন সিডনি হারবার্ট। নাইটিঙ্গেল প্যারিসে তাঁর বান্ধবী মেরি ক্লার্কের সহযোগিতাও পেয়েছিলেন। ক্রিমিয়ায় প্রায় ৫৪৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কাজের দায়িত্ব পায় এই টিম। ওই বছরেরই নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে নাইটিঙ্গেল-সহ বাকিরা পৌঁছন স্কুটারির সেলিমিয়ে ব্যারাকে, বর্তমানে যা ইস্তানবুলে অবস্থিত। সেখানে পৌঁছেই বুঝতে পারেন প্রশাসনিক অব্যবস্থার পরিস্থিতি ভয়াবহ। নিজের সবটুকু পরিশ্রম দিয়ে তাঁরা চেষ্টা করছিলেন আহতদের সেবা করার। একের পর এক বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। ওষুধের ঘাটতি ছিল। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছিল মাত্রাতিরিক্তভাবে। সামান্য ক্ষত বা আঘাতও হয়ে উঠছিল প্রাণঘাতী! পর্যাপ্ত খাদ্যের বন্দোবস্ত না-থাকায় অপুষ্টিও তাঁদের সেবার পথে বড় বাধা হয়ে ওঠে। তবে পরিস্থিতির বদল ঘটল অচিরেই। তাঁদের একান্ত নিষ্ঠা ও সমবেত পরিশ্রমে খাদ্যের বন্দোবস্ত করা হয়। অস্থায়ী ও স্থায়ী হাসপাতালগুলি হয়ে ওঠে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। অবিশ্বাস্যভাবে মৃত্যুহার ৪২ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়ায় ২ শতাংশে! বিরাট এই সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। প্রশস্ত করেছিলেন অতিমারী-পরিস্থিতিকে অনায়াসে অতিক্রম করার সাহস এবং নিষ্ঠার সিঁড়িগুলোকে। আর্ত মানুষদের কাছে হয়ে উঠেছিলেন– ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প. জনৈক সেনানায়ক তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘This frail young woman… embraced in her soliitude the sick of three armies.’
বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: বিতান দে
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল