‘প্রথম মহিলা এভারেস্টজয়ী নয়; ৩৬তম জয়ী হিসেবেই স্মরণীয় থাকতে চাই’– লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এটাই ছিল তাঁর প্রতিবাদ

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 22, 2021 4:42 pm|    Updated: May 22, 2021 4:42 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 22, 2021 4:42 pm Updated: May 22, 2021 4:42 pm

১৯৭৫-এর মে মাসের শুরুতে জানকো তাবেইরা মাউন্ট এভারেস্ট অভিযান শুরু করেন। কেউ বিশেষ সাহায্য না করলেও শেষ মুহূর্তে ‘ইউমিউরি শিমব্যাম’ সংবাদপত্র মাধ্যম এবং  ‘নিপ্পন টেলিভিশন’ স্পনসর নিয়ে এগিয়ে আসে। এক্সপিডিশন টিমে ১৫ জন অভিযাত্রী ছাড়াও ছিলেন ছয় শেরপা, আর ১৫-১৬ জন পোর্টার। তেনজিং নোরগে এবং স্যার অ্যাডমন্ড হিলারি যে-রুট ধরে এভারেস্ট অভিযান করেছিলেন, এই দলও সেই একই পথে যাত্রা শুরু করে। ৪ মে তারা পৌঁছে যায় বেস ক্যাম্পে, ২১,৩২৬ ফুট উচ্চতায়। সেদিনই  মারাত্মক এক তুষারঝড়ের কবলে পড়ে দল। জানকো এবং আরও চার সহযাত্রী সেই সাংঘাতিক তুষারঝড়ে বরফের মধ্যে চাপা পড়ে যান। ক্ষতবিক্ষত হয় শরীর, জ্ঞান হারান জানকো, তবে প্রাণে বেঁচে যান। পরে এক শেরপা তাঁকে বরফ খুঁড়ে বের করেন। ভয়াবহ জখম হন দলের অন্যান্য সদস্যও। তবে সে যাত্রায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন প্রত্যেকেই।  প্রায় তিন-চার দিন বেস ক্যাম্পেই আটকে ছিলেন তাঁরা। কারওরই শরীরের অবস্থা খুব একটা ভাল না। অসুস্থ শরীরে প্রত্যেকেই বেশি ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছিলেন। শেরপাদের ভরসায় ১০ মে নতুন করে শুরু হল পর্বতারোহণ। কিন্তু এরপরের রাস্তা আরও সংকীর্ণ, আরও বিপদসংকুল, প্রতি বাঁকে মৃত্যুর হাতছানি। ওদিকে শেরপা এবং পোর্টারদের মধ্যেও অনেকে কাহিল, অক্সিজেন সিলিন্ডার বয়ে নিয়ে যেতে অপারগ। অগত্যা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল– পথের ভার লাঘব করতে, যে কোনও একজন সদস্য, শেরপা ও পোর্টার নিয়ে গন্তব্য অভিমুখে রওনা হবেন। জানকোই সকলের দ্বারা মনোনীত হলেন। তিনি এ প্রস্তাবে রাজিও হয়ে গেলেন। দলের সকলে অক্ষত আছে দেখে গন্তব্যে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নেন। বাকি পথ স্বচ্ছ বরফে ঢাকা, পিচ্ছিল। এমনই পথ যা অতিক্রম করা দুষ্কর, যেখানে মৃত্যু ওঁত পেতে আছে। এই পথেই প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে ১৬ মে জানকো ও তাঁর শেরপা পৌঁছন গন্তব্যে।
শুনে নিন…

লেখা: মৌমিতা সেন
পাঠ: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল