আঙুলের ছাপ থেকে অপরাধী চেনার সূচনা আর্জেন্তিনায় হলেও বিশ্বের প্রথম সরকারি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরোর স্থাপনা খাস কলকাতায়!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 1, 2021 4:45 pm|    Updated: May 1, 2021 4:45 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 1, 2021 4:45 pm Updated: May 1, 2021 4:45 pm

পৃথিবীতে সর্বপ্রথম আর্জেন্তিনায় পৃথক পৃথক মানুষের আঙুলের ছাপ নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়াটি শুরু হয়, করেন হুয়ান ভুকেটিচ। আঙুলের ছাপ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করেন ফ্রান্সিস গ্যাল্টন তাঁর বই ‘ফিঙ্গার প্রিন্টস’-এ, ১৮৯২ সালে। গ্যাল্টনের ধারণা অনুসরণ করে ভুকেটিচ-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি আঙুলের ছাপ অদৃশ্য বা প্রচ্ছন্ন অবস্থা থেকে সংগ্রহ করে প্রমাণস্বরূপ নথিভুক্ত করেন।

ভারতে প্রথম আঙুলের ছাপ ব্যবহারের প্রবর্তন করেন স্যার উইলিয়াম জেমস হারশেল ,১৮৫৮ সালে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৮৫৩ সালে হারশেল প্রথম ভারতে আসেন এবং ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ আইসিএস অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন। এইসময় তিনি প্রথম আঙুলের ছাপ এবং হাতের ছাপ নিয়ে স্থানীয় এক ব্যবসাদারের সঙ্গে চুক্তি করেন। কারণ তিনি এই বিষয়ে গবেষণা করে জানতে পেরেছিলেন– দু’জন মানুষের আঙুলের ছাপ একেবারেই স্বতন্ত্র। সুতরাং প্রশাসনিক কাজে আঙুলের ছাপের ব্যবহার সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত, এমনকী, হস্তাক্ষরের তুলনায় এটি বিজ্ঞানসম্মত। যদিও এই পদ্ধতি তখনও সরকারি অনুমোদন পায়নি। ১৮৭৭ সালে হারশেল পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হন এবং তখন থেকেই সরকারি যাবতীয় কাজকর্মের জন্য আঙুলের ছাপ ব্যবহার করতে শুরু করেন। তিনি নিশ্চিত করেন আঙুলের ছাপের প্রমাণের কোনও বিকল্প নেই। কোনও সরকারি কর্মী মারা গেলে পেনশন যাতে তাঁর সঠিক আত্মীয়স্বজনরাই পান, সে ব্যাপারে আঙুলের ছাপ একমাত্র প্রামাণ্য হিসেবে গণিত হত। ১৮৮০ সালে ইংল্যান্ডের ‘নেচার’ পত্রিকায় হারশেলের একটি লেখা প্রকাশিত হয়। সরকারি কাজ ছাড়াও আঙুলের ছাপ থেকে যে অপরাধী ধরার একটা উপায় হতে পারে সেটা এই লেখা থেকেই প্রথম জানা যায়।

১৮৮০ সালেই জাপানে স্কটিশ ডাক্তার ডা. হেনরি ফল্ডসের এই সংক্রান্ত একটি লেখা প্রকাশিত হয় ‘নেচার’-এ। তাতে প্রথমবার ছাপার কালিতে আঙুলের ছাপ নেওয়ার উপকারিতা এবং পদ্ধতি সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মত ধারণা বিশদে উল্লেখ করা হয়।
১৮৯৭ সালে কলকাতায় বিশ্বের প্রথম সরকারি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যুরো প্রতিষ্ঠিত হয়। একটি কমিটি রিপোর্ট, যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্টকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয় কাউন্সিল অব গভর্নর জেনারেলের পক্ষ থেকে। আজও এই কার্যালয়ের সরাসরি তদারক করে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন।
বাকিটুকু শুনে নিন…

লেখা: মৌমিতা সেন
পাঠ: মোনালিসা রায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল