এপিটাফে বিব্রতকারীদের অভিশাপ দিয়েছিলেন উইলিয়ম শেক্সপিয়র কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, কবর থেকে চুরি গিয়েছিল তাঁর আস্ত মুন্ডু

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 23, 2021 11:06 pm|    Updated: April 23, 2021 11:06 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 23, 2021 11:06 pm Updated: April 23, 2021 11:06 pm

একরাতে ঘনিষ্ঠ দুই সাহিত্যিক-বন্ধু বেন জনসন ও ড্রেইটনের সঙ্গে প্রচণ্ড মদ্যপানে ফলাফলরূপে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় একমাস শয্যাশায়ী থাকার পর নিভে গেছিল তাঁর জীবন-প্রদীপ। অবশ্য ৫২ বছরের আয়ুর মধ্যে  তিনি তাঁর ‘পৃথিবী’ রচনা করে গিয়েছিলেন যাতে ছিল দেড়শোটির’ও বেশি সনেট, ৩৮’টি নাটক সহ বহু অবিস্মরণীয় কবিতা।

অসুস্থ থাকাকালীন শেক্সপিয়র লিখে গিয়েছিলেন তাঁর ‘এপিটাফ’। ২৩ এপ্রিল ১৬১৬ সালে মৃত্যুর দু’দিন পর ২৫ এপ্রিল স্ট্যাটফোর্ড অন-অ্যাভনের হোলি ট্রিনিটি চার্চে যথাযথ ধর্মানুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। নামহীন সমাধিফলকে খোদিত করা হয় সেই বিতর্কিত ‘এপিটাফ’।

‘Good friend, for Jesus’ sake forbear

To dig the dust enclosed here.

Blessed be the man that spares these stones,

And cursed be he that moves my bones.’

এপিটাফের প্রথম দুটি লাইন নিয়ে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘দাঁড়াও পথিকবর; জন্ম যদি তব বঙ্গে, তিষ্ঠ ক্ষণকাল!’ মনে পড়ে যায়। মধু কবি শেক্সপিয়রের থেকেই এপিটাফ লেখার জন্য অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন কিনা কে’জানে! এবার ভাল করে পড়ে দেখুন শেষদুটি লাইন। ‘বার্ড অফ অ্যাভন’ বলছেন, ‘প্রিয়বন্ধু, যারা এই সমাধিক্ষেত্রে এসেছেন, ধৈর্য ধরুন। এই সমাধি যারা অক্ষত রাখবেন তাঁদের উপর ঈশ্বরের আশীর্বাদ ঝরে পড়ুক। কিন্তু যাঁরা এই সমাধিক্ষেত্র নষ্ট বা শবদেহ সরিয়ে অপবিত্র করার চেষ্টা করবেন, তাঁরা শাপিত হবেন। তাঁদের কুকর্মের জন্য নেমে আসবে করাল অভিশাপ।”

ভাবা যায়, বিশ্বসাহিত্যের প্রবাদপুরুষ, শ্রেষ্ঠ কবি ও নাট্যকার তাঁর জীবনসায়াহ্নে লেখা শেষ ‘সংলাপে’ কীনা নির্মল শান্তির বাণী, জীবনবোধ, সাহিত্য বা দর্শনের কারুকাজ তুলে না ধরে এক প্রকার হুমকি দিচ্ছেন, ভয় দেখাচ্ছেন অভিশাপের! এতটাই তিনি অসহায়! অবশ্য তার কারণও ছিল যথেষ্ট।

সেই সময়ে গোটা ইউরোপ জুড়েই ছিল গ্রেভ ডিগার বা ‘কবর খুঁড়িয়ে’-দের দৌরাত্ম্য। ইংল্যান্ডে তাঁদের রিতিমত রমরমা ছিল। কবর খুঁড়ে শবদেহ তুলে নিয়ে যাওয়া বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরির কাজ চলত হামেশাই। বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জায়গার অভাবেও কবর খুড়ে মৃতদেহ সরিয়ে দেয়া হয়েছে অন্যত্র। এই রীতি সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল ছিলেন শেক্সপিয়র। তিনি তাঁর ‘হ্যামলেটে’ও ‘গ্রেভ ডিগার্স’দের কথা উল্লেখ করেছিলেন, উল্লেখ আছে তাঁদের সাথে হ্যামলেট-এর সেই বিখ্যাত কথোপকথন। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর শবদেহের সঙ্গেও যে এক ঘটনা ঘটতে পারে, সে নিয়ে জীবদ্দশাতেই তিনি যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন। শেক্সপিয়র চাননি, মৃত্যুর পর তাঁর দেহাংশ নিয়ে টানাহেঁচড়া হোক। আর সে জন্যই বুঝি এই ‘সতর্কবার্তা’- দিয়েছিলেন কবিতা লিখে, কবর খুঁড়লেই অভিশাপ, তাই সাধু সাবধান!

তারপর? শুনুন…

লেখা: প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল