মানব শরীরে প্রথম হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার অন্যতম কাণ্ডারি ছিলেন সিক্স-পাস এই কৃষ্ণাঙ্গ

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 5, 2021 12:15 pm|    Updated: May 7, 2021 6:23 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 5, 2021 12:15 pm Updated: May 7, 2021 6:23 pm

হ্যামিল্টন ন্যাকির জন্ম ১৯২৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব কেপ প্রদেশের ট্রান্সকেই শহরে, একটি গরিব পরিবারে। অর্থাভাবে  পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি। ১৪ বছর বয়সে তিনি কেপ টাউন শহরে আসেন কাজের তাগিদে। এবং পেয়েও যান।

ইউনিভার্সিটি অফ কেপ টাউনে তিনি টেনিস কোর্টের ঘাস কাটার কাজ পান। সে সময় ব্রিটিশশাসিত দক্ষিণ আফ্রিকায় কালো মানুষের জীবনধারণ আজকের মতো অত সহজ ছিল না।  ১৯৫৪ সালে ওই  ইউনিভার্সিটির রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে পশুদের দেখাশোনার জন্য নিযুক্ত হন হ্যামিল্টন।
যে সমস্ত পশুদের চিকিৎসার জন্য ওখানে নিয়ে আসা হত তাদের দেখা শোনা করা এবং ল্যাবরেটরি পরিষ্কার রাখার কাজ করতেন। হ্যামিল্টনের চিকিৎসাবিদ্যার প্রতি আগ্রহ থাকায় রবার্ট গাৎজ্‌ নামে এক সহৃদয় ব্যক্তির নজরে আসেন।  গাৎজ্ হ্যামিল্টনকে মেডিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে নিজের অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে রাখেন। হ্যামিল্টনের  কাজের প্রতি আগ্রহ ও একাগ্রতা তাঁকে মুগ্ধ করে এবং তিনি তাঁকে চিকিৎসা পদ্ধতির নানা খুঁটিনাটি হাতেকলমে শেখাতে শুরু করেন। মনোযোগ দিয়ে হ্যামিল্টন শিখতে শুরু করেন সেসব।
ল্যাবরেটরির কাজে তাঁর দায়িত্ব বাড়ে। রিসার্চ ল্যাবরেটরির ক্লিনার থেকে এবার তাঁর কাঁধে ন্যস্ত হয় অ্যানাস্থেটিকের কাজ। অর্থাৎ, ল্যাবরেটরিতে যে সমস্ত পশুদের অপারেশন হত, তিনি তাদের অ্যানাস্থেশিয়া করতেন। গাৎজের সঙ্গে হ্যামিল্টনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজটি ছিল একটি জিরাফের অপারেশন।
জিরাফের গলা বা ঘাড়ের শিরা অর্থাৎ জুগুলার ভেন ডাইসেক্ট করে দেখা হয় যে কেন মাথা নিচু করে জল খাওয়ার সময় জিরাফ অজ্ঞান হয়ে যায় না। জিরাফের গলা অনেক লম্বা, তাই জল খাওয়ার জন্য জিরাফকে অনেকখানি মাথা নিচু করতে হয়। সে হিসেবে তার অজ্ঞান হওয়ার কথা, কিন্তু হয় না। এর কারণ খোঁজার জন্য গাৎজ্ যে অপারেশান করেন, সেই কাজে প্রধান সহকারীর দায়িত্ব সামলান হ্যামিল্টন। হ্যামিল্টনই জিরাফটির জুগুলার ভেনের ভাল্‌ভ ডাইসেক্ট করেন। এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে– হ্যামিল্টনের প্রথাগত বিদ্যা কিন্তু ক্লাস সিক্স পর্যন্তই ছিল।
বাকিটা শুনে নিন…

লেখা: মৌমিতা সেন
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল