‘আই ক্যান্ট ব্রিদ’– জর্জ ফ্লয়েড এর মৃত্যুকালীন আর্তি, তাঁর হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত মার্কিন পুলিশ অধিকর্তা, আমেরিকায় বর্ণবিদ্বেষের নানা অধ্যায়

Published by: Sankha Biswas |    Posted: April 24, 2021 11:30 pm|    Updated: May 8, 2021 11:06 am

Published by: Sankha Biswas Posted: April 24, 2021 11:30 pm Updated: May 8, 2021 11:06 am

ডেরেক শভিন। তিনিই এই পুলিশ অফিসার, যিনি প্রায় ন মিনিট ধরে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু চাপা দিয়ে বসেছিলেন। এই ২০শে এপ্রিল মিনেসোটা আদালত তাঁকে সেকেন্ড ডিগ্রী মার্ডারের চার্জে অভিযুক্ত করে—যাঁর ফলে তাঁর ছেচল্লিশ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড হতে পারে। পুলিশের ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় এই নিষ্ঠুরতার কাহিনী অবশ্য ডেরেক শভিনের একার নয়। আপাতত এই ঘটনায় আরও কিছু কথা বাকি।

এ হেন নিষ্ঠুর মৃত্যুর ঘটনার পরদিন, মিনেসোটা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট একটি লিখিত বিবৃতি দেয়, যেখানে বলা হয়, গাড়ী থেকে বের করার পর ফ্লয়েড নাকি বিরাট ধ্বস্তাধ্বস্তি করছিলেন, তাই তাকে চেপে ধরে হ্যান্ডকাফ পরাতে হচ্ছিল। সেই বিবৃতিতে কোথাও উল্লেখ ছিল না হাঁটু চেপে বসে থাকার কথা। এই ডাহা মিথ্যে সামনে আসার পরেই তোলপাড় করে খোঁজা শুরু হয় ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ। ইতিমধ্যে ডারনেলা ফ্রেজার নামের এই ১৭ বছরের কিশোরীর ফেসবুক একাউন্ট থেকে আপলোড করা হয় একটি দশ মিনিটের ভিডিও—যেখানে দেখা যায় শভিন ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু চাপা দিয়ে বসে আছেন প্রায় ন’ মিনিট ধরে। তারপর যা হয়, বাকিটা তো ইতিহাস। জর্জ ফ্লয়েডের বলা শেষ কয়েকটি শব্দ—

‘আই ক্যান্ট ব্রিদ’—দাবানলের মতো গোটা আমেরিকায় ছড়িয়ে যায়। কোভিড প্যানডেমিক-এর মধ্যেও সারা দেশের বিক্ষুধ্ব জনগণ নেমে আসেন রাস্তায়। দীর্ঘদিন ধরে সারা ইউনাইটেড স্টেটস-এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

২০শে এপ্রিল ২০২১—আদালতে কথা বলতে বলতে বুঝি এই ক্ষতের ইতিহাসেই গলা জড়িয়ে আসছিল আঠারো বছরের ডারনেলার। ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল ১৭—তাই তিনি মাইনর বলে বিচারক তাঁর বিবরণের ভিডিও রেকর্ডিং করার অনুমতি দেননি। তবুও, শুধুমাত্র অডিওতেই আমরা শুনতে পাই, তিনি বলছেন, “সেই ঘটনার পর রাতের পর রাত আমি ঘুমোতে পারিনি, মনে মনে জর্জ ফ্লয়েডের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে গেছি। ওখানে আমরা যে কজন ছিলাম, শারীরিক ভাবে সেই পুলিশ অফিসারকে বাধা দিলাম না!” ডারনেলার ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ছিলেন অন্তত চার জন – সবাই কমবয়সী ছেলেমেয়ে। ডারনেলার পাশেই এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে প্রায় গোটা ভিডিওটা জুড়েই চিৎকার করতে দেখা যায় – তিনি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ অফিসারকে বলেই যাচ্ছিলেন, “কী করছেন আপনারা, লোকটা যে মরে যাচ্ছে! প্লিজ, একবার পালস চেক করুন – উনি তো কথা বলতে পারছেন না!” পুলিশের গায়ে হাত দিলে পরিস্থিতি সম্ভবত আরও ঘোরালো হয়ে উঠত – কারণ ভিডিওতেই আমরা দেখি, যে পুলিশ অফিসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁর শার্টের হাতায় সামান্য ছোঁয়া লাগতেই তিনি রে রে করে উঠলেন।

ধরা গলায় কোর্টরুমে দাঁড়িয়ে ডারনেলা আরও বলছিলেন, “জর্জ ফ্লয়েডের দিকে আমি যখন তাকাই, আমি আমার বাবাকে দেখতে পাই, আমি আমার ভাইকে দেখতে পাই, কাকাকে দেখতে পাই। কারণ – ওঁরা সবাই কালো মানুষ। আমার কৃষ্ণাঙ্গ বাবা, কৃষ্ণাঙ্গ ভাই, কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধুরা জর্জ ফ্লয়েড যে কেউ হতে পারত, তাই না?”

শুনুন…

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল