টানেল নম্বর থার্টি থ্রি–তে আজও নাকি শোনা যায় বারোগ সাহেব ও তাঁর কুকুরের চিৎকার!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 10, 2021 3:46 pm|    Updated: February 10, 2021 3:46 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 10, 2021 3:46 pm Updated: February 10, 2021 3:46 pm

বারোগ সাহেব এই ঘটনায় অত্যন্ত ভেঙে পড়লেন। তিনি কোয়ার্টার থেকে বেরতেন না। কথা বলতেন না কারও সঙ্গে। ইতিমধ্যেই অন্য সাহেবের তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়ে গেল সুরঙ্গটি। এই অপমানের ধাক্কায় প্রায় পাগল হয়ে গেলেন বারোগ। লোকে দেখত, সাহেব রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেরাচ্ছেন, অসংলগ্ন কথা বলছেন, কখনও বা হাসছেন আপনমনে, মাঝে মাঝে আবার তারস্বরে চিৎকার জুড়ছেন। কখনও একা একা, কখনও আবার সঙ্গে থাকত প্রিয় কুকুরটি।

একদিন সন্ধেবেলা দেখা গেল কর্নেল বারোগ সাহেবের কুকুর তাঁর বাংলোর সামনে রাস্তায় তারস্বরে চিৎকার করছে। তার মুখে–চোখে–গায়ে রক্তের দাগ। যেন কাকুতি–মিনতি করছে ওর সঙ্গে কোথাও যাওয়ার জন্য। কয়েকজনের সন্দেহ হল। কুকুরটির পিছন পিছন গিয়ে দেখা গেল সুড়ঙ্গের মধ্যে একজায়গায় বারোগ সাহেব পড়ে রয়েছেন। রক্তাক্ত দেহ। মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।

এই ঘটনার আরেকটা কাহিনিসূত্র পাওয়া যায়। তা হল, প্রথমে কুকুরটিকে গুলি করে খুন করেন বারোগ সাহেব। তারপর আত্মহত্যা করেন। তাঁকে ও তাঁর কাজকে শ্রদ্ধা জানাতে বারোগ সাহেবের দেহ সমাধিস্থ হয় অসম্পূর্ণ সুরঙ্গটির সামনেই। এইভাবে শেষ হল বারোগ অধ্যায়।

কিন্তু শেষ হয়েও হইল না শেষ। স্থানীয়দের দাবি, কর্মস্থানের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি বারোগ। রয়ে যান সেখানেই। কালকা–সিমলা মেল চলাচল সক্রিয়ভাবে চালু হওয়ার অনতিকাল পরেই মাঝে মাঝেই কার যেন চিৎকার শোনা যেত টানেলের মধ্যে থেকে। আর শোনা যেত কুকুরের ডাক। এলাকার লোক কান পেতে শুনতেন। বলাবলি করতেন, আরে এ তো সেই বারোগ সাহেবে গলা!

টানেল নম্বর থার্টি থ্রি। পৃথিবীর লম্বা একটানা সুড়ঙ্গটি আজ পরিচিত ‘বারোগ টানেল’ নামে। সুড়ঙ্গপথের দু’মিনিটের যাত্রা শেষ করে রেল পৌঁছয় বারোগ রেলওয়ে স্টেশনে। চেরা চেরা পাহাড়ি মেঘ। তা ভেদ করে দাঁড়ানো পাইন–দেবদারু–রডোডেনড্রন। তাদের জংলি গন্ধ নিয়ে যায় অচিনপুরে। রেলযাত্রাটি নিঃসন্দেহে মনোরম। তবে টানেলের ওই দু’মিনিট গায়ে কাঁটা দেওয়ায় বইকি!

লেখা: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল