জাপানের এই জঙ্গলে মানুষ যায় শুধু আত্মহত্যা করতেই!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 22, 2021 1:12 pm|    Updated: February 22, 2021 1:12 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 22, 2021 1:12 pm Updated: February 22, 2021 1:12 pm

জাপানি ‘ইউরেই’দের ঘর–আবাস বলে এমনিতেই কুখ্যাত আওকিগাহারা জুকাই। জাপানি পুরাণ অনুযায়ী, ইউরেই অপঘাতে মৃত আত্মার সমতুল্য। বেশিরভাগ দেহের মৃত্যুর দিনক্ষণ জানা যায় না। সেগুলি একহয় পচে–গলে গিয়েছে অথবা পরিণত হয়েছে বন্য জন্তুদের খাদ্যে। জাপানি অধ্যাত্মবাদীদের অনেকের বিশ্বাস, এইসব আত্মহত্যা বদলে দিয়েছে বনের গাছেদের চরিত্র। তাদের মধ্যে সঞ্চারিত হয়েছে মৃত আত্মারা। আর ঠিক এই কারণেই আওকিগাহারা জুকাইয়ের অভ্যন্তরে ঘটে চলে অসংখ্য ব্যাখ্যাতীত ঘটনা। যাঁরা আত্মহত্যা করেন, তাঁদের দেহ কোনওমতেই জঙ্গলে একা ফেলে রাখা যায় না। বনরক্ষীরা মৃতদেহগুলি বের করে স্থানীয় থানার একটি বিশেষ ঘরে জড়ো করে রাখেন। স্থানীয় বিশ্বাস, মৃতদেহ অবহেলা করে ফেলে রাখলে তা দুর্ভাগ্য বয়ে আনে। আত্মারা সারারাত কাঁদে, যন্ত্রণায় চিলচিৎকার করে, সাহায্য প্রার্থনা করে। নিজের পূর্বজীবন এবং শরীরে ফিরে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে। অবশেষে সফল না হয়ে তারা নিজেদের পচাগলা পার্থিব শরীরগুলোকে টানা–হেঁচড়া করতে শুরু করে। বনের মধ্যে পড়ে থাকা মৃত ব্যক্তিদের জুতো, ঘড়ি, ব্যাগ, চশমা, জামাকাপড় অদ্ভুত ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। নির্জন জনমানবশূন্য বনে এসব দেখে কার না পিলে চমকাবে!

প্রাচীন জাপানে ‘উবসুতে’ বলে একটি প্রথা ছিল। উবসুতে শব্দটির অর্থ: বৃদ্ধ মহিলাদের পরিত্যাগ করা। দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময়ে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের এই বন্ধুর জঙ্গলে রেখে আসা হত। প্রতিকূল আবহাওয়া, নিঃসঙ্গতা, ক্ষুধা–তৃষ্ণায় কাতর হয়ে তাঁরা প্রাণত্যাগ করতেন। অনেকে অবশ্য বলেন যে এই ঘটনার কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ–সাক্ষ্য নেই, এগুলি স্রেফ গল্পকথা। জাপানজুড়ে এইসব কাহিনি রয়ে গিয়েছে মিথের মতোই।

তবে জাপানি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এর উদাহরণ কম না। জাপানি সাহিত্যিক সেইচ মাতসুমোতোর ১৯৬০–এ প্রকাশিত উপন্যাস ‘কুরোয় জুকাই’ প্রকাশিত হয়। ইংরেজি নাম: “ব্ল্যাক সি অফ ট্রি’স”।সেই উপন্যাসে ভালবাসায় দগ্ধ প্রেয়সীটি আওকিগাহারা জুকাইতে আত্মহননের সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর থেকেই জায়গাটি আত্মহননের অন্যতম স্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্পর্কে ব্যর্থ বা ব্যক্তিগত জীবনে নিঃসঙ্গ মানুষজন জায়গাটিকে আত্মহননের সেরা জায়গা হিসাবে নির্বাচন করেন। ১৯৭০ সাল থেকে পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক ও সাংবাদিকরা বনের মধ্যে মৃতদেহের সন্ধান করতে আসছেন।

১৯৯৩ সালে অতারু সুরুমির লেখা বই ‘দ্য কমপ্লিট ম্যানুয়াল অফ সুইসাইড’-এও আওকিগাহারা জুকাই চিহ্নিত করা হয়েছিল আত্মহত্যার আদর্শ জায়গা হিসাবে। বনে আত্মহত্যাকারী বহু মানুষের পাশে বইটি পাওয়া গিয়েছে। গাছে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়া, হাত কাটা অথবা ড্রাগ ওভারডোজ করা––– আওকিগাহারা জুকাইতে এসে এইরকম বিভিন্ন সব পন্থায় নিজেদের জীবন শেষ করেন মানুষজন।

 

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল