স্বৈরাচারী মুয়াম্মর গদ্দাফির সঙ্গে অকৃত্রিম স্নেহের সম্পর্ক; ‘সন্ত্রাসবাদী’ কুখ্যাতি পান নেলসন ম্যান্ডেলা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 8, 2021 5:34 pm|    Updated: May 8, 2021 5:34 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 8, 2021 5:34 pm Updated: May 8, 2021 5:34 pm

১৯৮২-তে দক্ষিণ আফ্রিকায় আনা হল নেলসনকে। পরের বছর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন এফ ডব্লিউ ক্লার্ক। শ্বেতাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হলেও এএনসির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলেন তিনি। ১৯৯০-তে মুক্তি পেলেন নেলসন। ক্লার্কের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্ণবৈষম্য অবলুপ্ত করার পথে হাঁটলেন তিনি। অবশেষে ‘৯৪ এর নির্বাচনে মানুষ বেছে নিলেন তাঁদের প্রিয় ‘মাদিবা’ নেলসন ম্যান্ডেলাকে। বিশ্বের পয়লা কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন নেলসন। কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ নির্বিশেষে সকলের জন্যই এল সংসদীয় গণতন্ত্র। বর্ণবাদের মতো এই অভিশাপের বিরুদ্ধে সফল বিপ্লবের জন্য ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার’ পেলেন তিনি। পুরস্কার ভাগ করে নিলেন ক্লার্কের সঙ্গে। বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সুতীব্র প্রতিবাদ।

বিতর্ক কিন্তু কখনওই পিছু ছাড়েনি তাঁর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় চার মিলিয়ন ডলার। তুলনায় ক্লিনটন আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে কামিয়েছিলেন দু’লক্ষ মার্কিন ডলার। তবে ম্যান্ডেলা বেশিরভাগ অর্থই দান করে দেন তাঁর পার্টি এবং বহু এনজিও সংস্থাকে।  তাঁর মৃত্যুর পর সাউথ আফ্রিকার সরকার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্যে প্রায় ২২ মিলিয়ন ডলার নয় ছয় করে। জর্জ ডব্লিউ বুশ, ক্লিনটন-স অনেক হেভিওয়েট অতিথিকে  আপ্যায়নের জন্য এই বিপুল পরিমাণ খরচ হলেও বেশিটাই উদরস্থ করে তাঁর দল। তবে সবথেকে বিতর্কিত ছিল তাঁর দাম্পত্য জীবন। স্ত্রী উইনির অর্ধবয়সি এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কথা জানতে পেরে যান নেলসন। দীর্ঘদিন কথাবার্তা বন্ধ থাকলেও অবশেষে ডিভোর্সের পথে হাঁটেন। উইনি এএনসি-র কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। সেখানেও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ আসে তাঁর বিরুদ্ধে।

****

এমন বর্ণাঢ্য জীবন আর সেলুলয়েডে ধরা দেবে না এ আবার হয় নাকি! ক্লিন্ট ইস্টউডের পরিচালনায় ২০০৯ সালে পর্দায় মুক্তি পেল ‘ইনভিকটাস’। ম্যান্ডেলার চরিত্রে ছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা মরগান ফ্রিম্যান। ২২ মিলিয়ন ডলার কামিয়ে বক্স অফিসে অন্যতম সেরা সিনেমার দলে জায়গা করে নেয় ছবিটি। ’৯৫-এর রাগবি ওয়ার্ল্ড কাপ-এর সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন ম্যান্ডেলা; সেই নিয়েই সিনেমা। নেলসন ম্যান্ডেলার আগের বাড়ি এখন আফ্রিকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। আলিশান বাড়ি সুসজ্জিত তাঁর জীবনের মূল্যবান মুহূর্তের ছবি আর স্মৃতিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার অলিতে-গলিতে ম্যান্ডেলার নামে রাস্তা রয়েছে। আফ্রিকায় প্রায় ৫১টি তাঁর নামাঙ্কিত রাস্তার সঙ্গে পুরো দুনিয়ায় ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর স্মৃতি মার্গ। এর মধ্যে বিখ্যাত কয়েকটি হল: লিড্‌স-এর ম্যান্ডেলা গার্ডেন, নেদারল্যান্ডসের ম্যান্ডেলা পার্ক, ডেনমার্কের ম্যান্ডেলা কাফে ইত্যাদি। তাঁর মূর্তি ছড়িয়ে সারা পৃথিবীতে। তবে সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের দপ্তরে ১.৮ মিলিয়ন ডলারে বানানো ম্যান্ডেলার মূর্তিটির সঙ্গে তাঁর মুখের বৈসাদৃশ্য থাকায় তা সারা দুনিয়ায় ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছে।

কেমন ছিল নেলসনের প্রেসিডেন্ট-পূর্ববর্তী বৈপ্লবিক জীবন?

শুনে নিন…

 

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: জয়ন্ত মিত্র
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল