আফ্রিকায় মিলেছিল মানব সভ্যতার প্রাচীনতম শিশু-কঙ্কাল ‘এমতত্‌’

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 24, 2021 3:03 pm|    Updated: May 25, 2021 9:12 am

Published by: Sankha Biswas Posted: May 24, 2021 3:03 pm Updated: May 25, 2021 9:12 am

প্রত্নবিজ্ঞানীরা সবকিছু নিয়ে ছুটলেন নাইরোবির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে। তারপর সোজা স্পেনের ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর হিউম্যান এভ্যালিউশনের দপ্তরে। ময়নাতদন্ত পর্বের বছর খানেকের যাত্রাটা ছিল বেশ আকর্ষণীয়। মাইক্রো কম্পিউটেড টমোগ্রফি, অপটিক্যাল মাইক্রোস্কপি আর তার সঙ্গে এক্স রে-র সাহায্যে থ্রিডি ইমেজিং করা হলে স্পষ্ট হল পুরো ব্যাপারটা। প্রথমে আঁকাবাঁকা মেরুদণ্ড, তারপর মাথার খুলি, নিচের চোয়াল এবং তাতে অবশিষ্ট কতকগুলি দুধে দাঁতের শিকড়। অন্য আরেকটি দল খুঁজে এনেছিল হারিয়ে যাওয়া কাঁধের হাড় আর পাঁজর। সবকিছু যেন একেবারে খাপে খাপে মিলে গেল! রেডিও কার্বন ডেটিং বলে দিল সময়কালটিও। ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর হিউম্যান এভ্যালিউশনের ডিরেক্টর মার্টিনা তোরেস জানালেন, এটা যে-সে জীবাশ্ম নয়; তাঁরা পেয়েছেন গোটা একটা শরীর, এক মানবশিশুর শরীর!

সব মিলিয়ে ২০১৩-এ খবর এল– ৮০ হাজার বছর পুরনো এক মানবশিশুর দেহাবশেষ মিলেছে আফ্রিকায়। তখন পৃথিবীতে চলছে মধ্য প্রস্তর যুগ। সামনের মাড়ির সঙ্গে আটকে থাকা দুটো দাঁত পরীক্ষা করে বোঝা গেল শিশুটির বয়স বছর দুই-আড়াইয়ের কাছে। অবশ্য আফ্রিকায় কমবয়সিদের কঙ্কাল এর আগেও মিলেছে বহুবার। তবে এত অল্পবয়সি কঙ্কাল উদ্ধার পৃথিবীর ইতিহাসে সেই প্রথম। তখন পর্যন্ত আবিষ্কার হওয়া মানব দেহাবশেষের মধ্যে প্রাচীনতম নিদর্শন। যেন ধরিত্রীমাতার গর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হল এক সদ্যজাত! নামকরণও হল: ‘এমতত্‌’, সোয়াহিলি ভাষায় যার অর্থ: শিশু।

পা দুটো বুকের কাছে ভাঁজ করে, উপুড় করে, বালিশের মতো কিছু একটার উপরে মাথা রেখে, কাপড়ে ঢেকে , এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল মিশিয়ে কবরস্থ করা হয় তাকে। মৃত্যুর সঠিক কারণ অবশ্য মেলেনি। তবে সুস্পষ্ট মেরুদণ্ডের গঠন ও অন্যান্য প্রমাণাদি ঘেঁটে এটুকু বোঝা গেল যে মৃত্যুর ঠিক পরে পরেই মাটিতে কবর দেওয়া হয়েছিল তাকে। তাকে মাটির এতটা কাছাকাছি কবরস্থ করার কারণ অবশ্য অনুমান করা গিয়েছে। প্রথমত কোলের শিশুর মৃত্যু বরাবরই বেদনাদায়ক, তা সে যে যুগেই হোক না কেন। মা-বাবা কখনওই কাছছাড়া করতে চান না। আর তাঁরা সম্ভবত পুনর্জন্মে বিশ্বাসী ছিলেন। তখনকার সমাজ-সভ্যতার ধ্যানধারণার সঙ্গে আজকের ধর্মীয় বিশ্বাসের কত মিল!

 
শুনে নিন…

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল