মারি কুরি সমাজের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে সংগ্রাম সাধনা ও সাফল্যে উজ্জ্বল এক অজেয়’র জীবন গাথা

Published by: Sankha Biswas |    Posted: April 19, 2021 4:44 pm|    Updated: April 19, 2021 4:58 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: April 19, 2021 4:44 pm Updated: April 19, 2021 4:58 pm

বোন ডাক্তার হয়ে প্যারিস গেল। সেখানে ধনী ডাক্তারের বাড়িতে তার সংসার হল। মারি এলেন প্যারিসে। পড়াশোনার সুযোগ পেলেন স্বপ্নের সরোবন-এ। তবে বোনের বাড়ি হই-হুল্লোড় সামলে পড়াশোনায় মন বসানো শক্ত। তাই কলেজের কাছেই একটা খুপরিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন। প্রকৃতই তিনি ছিলেন সাধিকা। রান্না-বান্না’র সময় নেই। ফিজিক্স আর গণিত তাঁর প্রাণ। পাউরুটি আর সাথে চকোলেট বা কখনও কলা। এই ছিল তাঁর খাদ্য। কৃচ্ছসাধনা’য় যোগীর শান্তি। সিদ্ধিলাভ’ও হলো। ফিজিক্স আর ম্যাথে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট। তবে চাকরি কিন্তু জুটল না। ওয়ারশ’তে ফিরে স্কুলের চাকরিই হয়তো জুটতো। এমন সময় জীবনে ‘নায়ক’-এর এন্ট্রি। অত্যন্ত সুপুরুষ সেই বিজ্ঞানী ঘোর প্রতিষ্ঠান-বিরোধী। বাড়িতে বসেই পড়াশোনা। পিএইচডি’কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চুম্বকত্বের উপর উষ্ণতার প্রভাবের উপরে তাঁর গবেষণায় জনপ্রিয়তা পেয়েছেন ভালই। তিনি পিয়ের কুরি। এক্কেবারে ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’। বিয়ে হল। সাইকেলে চড়ে দেশ ঘুরে হল হানিমুন। সেই সময় বিজ্ঞানের জগতে গবেষণার হিড়িক পড়েছে। তাঁদের জীবনে এসেছে প্রথম সন্তান, মেয়ে আইরিন। তবে তাঁরা দুজন হাত ধরে ডুব দিয়েছেন জ্ঞান সাগরে। সন্তানের থেকেও বেশি সময় তাঁরা দেন ল্যাবরেটরিতে। তাই নিয়ে অবশ্য নিন্দুকদের বাঁকা কথার অন্ত নেই।

ইয়াব্বড় কড়ায় মানুষ সমান খুন্তি নেড়ে চারদিক ধোঁয়া ধুলোয় অন্ধকার করে অবশেষে খোঁজ মিললো সেই মৌলর। মারি পোল্যান্ড ছাড়লেও তাঁর পিতৃদত্ত জাতীয়তাবাদ কিন্তু তাঁকে ছাড়েনি। মাতৃভূমির নাম নিয়েই সেই মৌলের নাম দিলেন পোলোনিয়াম। তার পর পেলেন আরও একটি মৌল। রেডিয়াম। এই দুই মৌলের আবিষ্কার ফিজিক্সে সেবারে নোবেল এনে দিল পিয়ের, মারি এবং বেকরেল’কে। তবে মারির এহেন সাফল্য কিন্তু সেই সম্মান পেল না যা তাঁর প্রাপ্য ছিল। তাঁর কপালে জুটলো পিয়ের-এর যোগ্য সাহায্যকারীর তকমা। ঈশ্বর কী নারীর সৃষ্টি করেছেন পুরুষের সেবা আর সাহায্য করার জন্য! হায় রে বিধাতার সেরা সৃষ্টি!

তবে এরপর থেকে গল্পটা খানিক অন্যরকম। পিয়ের অসুস্থ হয়ে পড়লেন। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হেঁটে বেড়ান। শরীরে জোর নেই একেবারে। মারি’ও আসতে আসতে অসুস্থ হতে শুরু করলেন। কারণ ওঁরা দুজনেই তেজস্ক্রিয়তার বিষাক্ত রশ্মিতে আক্রান্ত। না জেনেই দীর্ঘ সময় ধরে ঘেঁটে গেছেন তেজস্ক্রিয় সব পদার্থ। পিয়ের নিজের পকেটে রেডিয়াম আর ইউরেনিয়াম নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। মারি রাতে শুতে যাওয়ার সময় মাথার পাশে কৌটোয় ভরে রাখতেন রেডিয়াম। তার হালকা আলোয় ভরে থাকত গোটা ঘর।

১৮৯৭ থেকে ১৯০০ সাল অবধি ব্যবহৃত নোটবুক আজও যত্ন করে রাখা আছে ‘বিবলিয়োথিক ন্যাশনাল’-এ। আজও তা ছড়িয়ে চলেছে তেজস্ক্রিয়তা। এভাবেই আরো কয়েকশো বছর বিকিরণ করে যাবে ক্ষতিকারক সব রশ্মি।

শুনুন…

লেখা: অনীশ ভট্টাচার্য
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল