শ্লীল-অশ্লীলের বিভেদ পেরিয়ে সাতের দশকেই বাঙালির আগ্রহ ছিল কৃত্তিম যৌন উপকরণে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 26, 2021 11:53 pm|    Updated: April 29, 2021 7:20 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 26, 2021 11:53 pm Updated: April 29, 2021 7:20 pm

তৎকালীন পৃথিবীর একটি বড় ঘটনা হল, ভারতবর্ষে কন্ডোম-এর ব্যবহার। আমরা কবে থেকে এবং কীভাবে কন্ডোম ব্যবহার করতে শিখলাম সেই নিয়ে চট করে কিছু বলতে চাইনা। অথচ কন্ডোমের আবিষ্কার যে আমাদের যৌনতৃপ্তি’র পথকে অনেক দূর প্রসারিত করেছিল তাতে সন্দেহের কোনও কারণ নেই। অথচ সেই কন্ডোম নিয়ে আমাদের ব্যবহার ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ গোছের। ১৯৬৯ সালে কেরালার তিরুবন্তপুরম ‘হিন্দুস্তান ল্যাটেক্স লিমিটেড’ নামক কারখানাটি খোলা হয়। জুলাই মাস থেকে এই কারখানায় কন্ডোম উৎপাদন শুরু হয়। নিখুঁত যন্ত্রপাতির সাহায্যে কারখানাটিতে দৈনিক ১ লক্ষ ৮০ হাজার কন্ডোম তৈরি করা হয়েছিল।  ১৯৭০ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত মোট ৫ কোটি ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার কন্ডোম তৈরি হয়েছিল সেখানে। মাদ্রাজের পল্লভরমে আর একটি কন্ডোম উৎপাদনের কারখানা ছিল। যার বার্ষিক উৎপাদন ১৫ কোটি। প্রশ্নটা এখানেই আসলে। এই যে কন্ডোমের মতো একটা বস্তু যা আমাদের দৈনন্দিন যৌন জীবনের অঙ্গ, তার ইতিহাস জানা তো অনেক দূরের কথা, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেও চাই না আমরা। লজ্জা আর ভীতি অনবরত চাবুক মেরে শাসন করে চলেছে আমাদের। তবুও এটা বলা নিশ্চয় অন্যায় হবে না যে ১৯৬০-র অন্তিম পর্বে কন্ডোমের বিপুল উৎপাদন ভারতীয় সমাজের যৌনতার ক্ষেত্রটিকে অনেক বেশি প্রসারিত করেছিল।

সেদিনের বাঙালিদের একাংশ পৃথিবী জুড়ে ঘটে চলা যৌনতা সংক্রান্ত নানান ঘটনার খবরাখবর বেশ ভাল ভাবেই রাখতেন। ১৯৭১ সালের ‘সুন্দর জীবন’ পত্রিকায় ‘আমেরিকার বাজারে যৌন উপকরণ’ নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন প্রহ্লাদ শর্মা। সেদিন পাশ্চাত্য জুড়ে বিজ্ঞানের নিত্য নতুন আবিষ্কারের ফল যৌনতার বৃত্তেও আবর্তিত হচ্ছিল। নতুন ধরনের রবার ও কৃত্রিম তন্তু নির্মাণের কৌশল আবিষ্কারের পরে পরেই ‘কৃত্রিম যৌন উপকরণ’ তৈরি সহজ সাধ্য হয়ে পড়ল। শুরুর দিকে কৃত্রিম যৌন উপকরণ নির্মাণে সামনের সারিতে ছিল সুইডেন এবং ডেনমার্ক। আর তার পরের স্থানটাই ছিল আমেরিকার দখলে। কিন্তু কিছুদিন পরেই নতুন প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যৌন উপকরণ তৈরির ক্ষেত্রে আমারিকা মুখ্য বাজার হয়ে ওঠে। আমেরিকায় এই সব উপকরণগুলি লুকিয়ে-চুরিয়ে নয় বরং প্রকাশ্যই বিক্রি হত। আর যারা বিক্রি করতেন, সেই সব প্রতিষ্ঠান বড় বড় সংবাদপত্রে এর বিজ্ঞাপন দিতেন।

চমকদার বিজ্ঞাপনের কারণেই যৌন উপকরণ সেদিনের আমেরিকাকে রীতিমত শাসন করতে শুরু করে। মানুষ নানা ভাবে, নিজের মতো করে তার যৌন সুখের পথটিকে খুঁজে নিতে থাকে। কৃত্রিম যোনিপথ যৌন উপকরণের ক্ষেত্রে ছিল একেবারের প্রথম সারির একটি বিক্রি হওয়া বস্তু। এই কৃত্রিম যোনি, খুব নরম ফোম রবারের তৈরি। উপরের আবরণীটি ছিল—ভিনাইলের। এই কৃত্রিম যোনিপথে সঙ্গমের সময় উত্তাপের প্রভাবে বোঝাই যেত না যে, জিনিসটা নকল। বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল—’রক্ত মাংসের নারী যে তৃপ্তি সুখ দান করতে পারে না, কৃত্রিম এই উপকরণটি তা দিব্যি দিতে পারে’।

শুনুন…

লেখা: বিজলীরাজ পাত্র
পাঠ: অনুরণ সেনগুপ্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল