স্প্যানিশ ফ্লু অতিমারী পর্বে হুইস্কি হয়ে উঠেছিল রোগীদের বিশল্যকরণী!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 26, 2021 11:37 am|    Updated: May 26, 2021 11:37 am

Published by: Sankha Biswas Posted: May 26, 2021 11:37 am Updated: May 26, 2021 11:37 am

১৯১৮। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার মুখে। বিধ্বস্ত গোটা ইউরোপ। সেই ক্ষত কাটিয়ে ওঠার মাঝপথেই মহাদেশটিকে গ্রাস করে স্প্যানিশ ফ্লু। আমেরিকায় মৃত্যুমিছিলের শুরুয়াত, আস্তে আস্তে তা ছড়িয়ে পড়ে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্স-সহ গোটা ইউরোপে। রেয়াত পায়নি ভারতবর্ষও। ১৯১৯-এ আমাদের দেশে আছড়ে পড়ে স্প্যানিশ ফ্লুয়ের প্রথম ঢেউ। আগের বছর থেকেই ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞরা রোগীদের হুইস্কি পানের নিদান দিচ্ছিলেন। বলা বাহুল্য, ভারতের ক্ষেত্রেও সেই নিদানের ব্যত্যয় হয়নি। চিকিৎসকরা রীতিমতো প্রেসক্রিপশনে লিখে দিতেন, সেচ্ছাসেবীরা বুকে বোর্ড লাগিয়ে মাইকিং করতেন– ‘হুইস্কি পান করুন, স্প্যানিশ ফ্লু দূরে রাখুন’। শুধু স্টিমুল্যান্ট বা উদ্দীপক হিসেবেই নয়, সিডাটিভ হিসেবেও হুইস্কি-পানের পরামর্শ দেওয়া হত রোগীদের। হুইস্কি শরীর আর মনকে ঠান্ডা করবে। দুশ্চিন্তা-আতঙ্ক দূর করবে। যা পরোক্ষভাবে সাহায্য করবে দৈহিক ও পারস্পরিক রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধে। মোদ্দায় এই ছিল হুইস্কি-পানের কার্যকারিতা। ভারত-সহ সারা বিশ্বে সেবার হুইস্কির চাহিদা ও বাজার বহুগুণ বেড়ে যায়।

ইউরোপ-আমেরিকার শরীরে তখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘা দগদগে। সবাই যুদ্ধ এবং যুদ্ধ পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে ব্যস্ত। ব্যস্ত অবশিষ্ট প্রিয়জন, সম্পত্তি, ঘরবাড়ি রক্ষা করতে। এর মাঝে স্প্যানিস ফ্লুয়ের হানা যেন বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। যার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউই। পর্যাপ্ত চিকিৎসক-সেবাকর্মী-স্বাস্থ্যকর্মী নেই, নেই পর্যাপ্ত কবর খননকারী, শববাহীরা নেই, সৎকারকারীরা নেই– কেউ নেই, কিচ্ছু নেই, কোত্থাও নেই। অতিমারী পরিস্থিতি সামলাবে কে! রোগ নিয়ে গবেষণা বা রোগের ওষুধ আবিষ্কারের প্রয়াস তখন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো বই তো নয়। ১৯১৮ সালে অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধই বা কোথায়? কাজ চলছে ওই অ্যাসপিরিন, স্ট্রিকনিন দিয়ে। কখনওসখনও হরলিক্স, ভিক্স ভেপোরাব ইত্যাদি সহায় হচ্ছে। সেসময়তেই তুরন্ত্‌ কাজে দিয়েছিল হুইস্কি ব্যবহারের আইডিয়া।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে হুইস্কির ব্যবহার নিছক কম না। ঠান্ডা লাগলে পরে শরীর গরম করতে কিংবা সার্জারির আগে লোকাল অ্যানাস্থেশিয়া করতে বরাবরই কাজে লেগে এসেছে অ্যালকোহল-সমৃদ্ধ এই পানীয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাই নাগরিকরা সরকারের প্রতি আবেদন জানালেন হুইস্কিকে স্প্যানিশ ফ্লুর ওষুধ হিসেবে ছাড়পত্র দেওয়ার। এরপর থেকেই আস্তে আস্তে সেনাছাউনি, সেনা চিকিৎসাকেন্দ্র ও শহরের হাসপাতালগুলোয় ফ্লু-র ত্রাতা হিসেবে আর্বিভূত হল হুইস্কি।
শুনে নিন…

লেখা: সোহিনী সেন
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল