গান্ধীজি কি খেতেন কেন’ই বা খেতেন! ‘জাতির জনক’-এর অদ্ভুত ডায়েট এবং খাবার নিয়ে আশ্চর্য সব নিরীক্ষার কাহিনি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: April 9, 2021 1:14 pm|    Updated: April 9, 2021 1:14 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: April 9, 2021 1:14 pm Updated: April 9, 2021 1:14 pm

নিরামিষ ভোজন নাকি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার বা ‘ভেগানিজম’ নাকি আরও ভালো। বলে রাখা ভালো, এই দুটি মানতে গেলে কিন্তু বাঙালিদের সর্ষে ইলিশ থেকে মটন কষা, চিকেন ভূনা থেকে ফিশ ফ্রাই সবই মেনু থেকে নির্বাসন দিতে হয়। খোদ কলকাতার বুকে এহেন ‘মাছ-ভাত’ বিরোধী আওয়াজ উঠেছে, উঠছে। কারণটা কি? কেউ বলছেন গো-হত্যা মহাপাপ, কেউ বলেন ওসব খেলে শরীর খারাপ হয়। এমনিতেই রেওয়াজি খাসির যা দাম, কথাটা মন্দ বলেননি, কিন্তু দাদা ও দিদিরা প্রচারে বলছেন যে এই সব নাকি ধর্ম-বিরোধী কাজ, গান্ধীজি ও বারণ করেছেন। খাবারেও গান্ধীগিরি! তত্ত্বকথা না হয় বাদ দিলাম; কিন্তু ‘বাপু’র নাম নিয়ে যখন বলছেন তখন ভাবা উচিৎ। তাহলে তো এই প্রশ্ন অবধারিত বা কৌতূহল, গান্ধীজি কি খেতেন?

গান্ধীজি সারা জীবন নিজের বিশ্বাস, নিজের জীবনবোধকে জটিল থেকে জটিলতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিয়ে গেছেন বারবার। সবরমতী আশ্রম ছিল তাঁর ল্যাবরেটরি। গান্ধীজি ছিলেন গুজরাটি, সেখানে নিরামিষভোজন-এর ধারণা হিন্দু ও জৈন ধর্মের কারণে ছিল প্রকট এবং এখনো তাই’ই আছে। গুজরাটে বেশীরভাগ হিন্দুই ছিলেন নিরামিষভোজী। গান্ধী পরিবারও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না।

লন্ডনে পড়তে যাবার আগে তাঁর মা পুতলিবাই এবং চাচা বেচারজির কাছে গান্ধী প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি মাংস খাওয়া, মদ্যপান এবং নারীসঙ্গ থেকে বিরত থাকবেন। ছাত্রাবস্থায় হস্টেলে নিজে হাতে নিরামিষ রান্না করে খেতেন। যদিও তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর বন্ধু শেখ মেহেতাবের পাল্লায় পড়ে এবং নিজের অদম্য কৌতূহলবশত পরীক্ষামূলক ভাবে মাংস খেয়েছিলেন। ওই একবারই। তারপর আর কখনও খাননি।  বোঝাই যাচ্ছে রাঁধুনির রান্নার হাতযশ বিশেষ ছিল না। কিন্তু তিনি যে এখানেই থেমে থাকেননি। ‘দ্য স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেন্টস উইথ ট্রুথ’ বইতে লিখেছেন, নিরামিষভোজন’ই ছিল ব্রহ্মচর্চায় তার গভীর মনোযোগের সূচনা। মুখের উপর নিয়ন্ত্রণ না আনতে পারলে তাঁর ব্রহ্মচর্য ব্যর্থ হতে পারত।

গান্ধী সবসময় খাঁটি নিরামিষ ডায়েটের পক্ষে ছিলেন। তিনি ছিলেন দুধ খাওয়ারও বিরোধী। মনে করতেন, মাতৃদুগ্ধ ছাড়া অন্য দুধ না খাওয়াই উচিত। প্রতিজ্ঞা করলেন, আর গরু-মোষের দুধ খাবেন না। ১৯১৭ সাল নাগাদ, তিনি চূড়ান্ত অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ডাক্তারদের আদেশ অনুরোধ উপদেশ সত্ত্বেও জেদবশত: তিনি দুধের বিকল্প খুঁজে চলেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ছাগলের দুধ পান শুরু করেন এবং ডায়েট-এ ঘি, মাখন, ছানা এগুলোও রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

বিচিত্র ছিল গান্ধীজির মনস্তত্ব যা আজও পুরোপুরি ভাবে বোঝা সম্ভব হয়নি। ওঁর মতে, ইন্দ্রিয় জয় করার জন্য লালসার অবসান দরকার। তাই অহিংসবাদীরা শুধুমাত্র পেট ভরানোর জন্যই খাবার খাবেন, কোনোরকম আস্বাদের জন্য নয়। তাহলে প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল-এর চাহিদা মিটবে কী করে? এই প্রশ্নের উত্তর তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন বিভিন্ন শাক-সবজি-ফলের মধ্যে। পরবর্তীকালে অনেক গবেষক দেখিয়েছেন, ওঁর সূত্র অনুযায়ী যে ডায়েট চার্ট তা গরীব মানুষদের পক্ষে জোগাড় করা বেশ কঠিন।

ওঁর খাবারের রুটিন ছিল বেশ মজাদার। কি খেতেন! সেই তালিকা একবার শুনি,

ভোর সাড়ে পাঁচটায় মুসাম্বি বা কমলালেবুর রস। সকাল সাতটায় ছাগদুগ্ধ ও ফলের রস। বেলা বারোটায় ঘন ছাগদুগ্ধ, সেদ্ধ তরকারি আর কাঁচা ধনে বা পালং শাক। বেলা আড়াইটেয় ডাবের জল। বিকেল পাঁচটায় ঘন ছাগদুগ্ধ ও দুধে সেদ্ধ করা খেজুর, সঙ্গে সামান্য কিছু ফল। এহেন ডায়েট চার্ট শুনে অনেকেরই চোখ কপালে উঠবে।

তারপর শুনুন…

লেখা: অম্লান দত্ত
পাঠ: জয়ন্ত মিত্র
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল