প্রখ্যাত চিনা সাহিত্যিক লু স্যুন-এর গল্প: খোং ইজি

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 21, 2021 3:06 pm|    Updated: March 21, 2021 3:13 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 21, 2021 3:06 pm Updated: March 21, 2021 3:13 pm

লুযেনের শুঁড়িখানাগুলো চিনের অন্যান্য এলাকার মত নয়। এসব শুঁড়িখানায় রাস্তার মুখোমুখি সমকোণী কাউণ্টার আছে যেখানে মদ গরম করার গরম জল থাকে। দুপুরে বা সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফেরার সময় লোকজন একবাটি মদ কেনে। বিশ বছর আগে এর দাম ছিল চার পয়সা আর এখন দশ পয়সা। কাউণ্টারের সামনে দাঁড়িয়ে গরম মদ পান করে তারা অবসাদ দূর করে। মদের সঙ্গে খাবারের জন্য আর এক পয়সায় এক প্লেট নোনা বাঁশের অংকুর বা মৌরি মসলা দেওয়া মটরশুঁটি কেনা যায়। আর বারো পয়সা হলে পাওয়া যায় এক প্লেট মাংস। কিন্তু এই খদ্দেরদের প্রায় সবাই ছোটজাতের, মাত্র গুটি কয়েকের সাধ্য আছে তা কেনার। শুধু লম্বা গাউনওয়ালা লোকজন পাশের কামরায় ঢুকে মদ ও খাবার অর্ডার দিয়ে মনের আনন্দে তা পান করে।

বারো বছর বয়সে শহরের প্রবেশ পথে ‘শুভ শুঁড়িখানায়’ আমি বেয়ারা হিসেবে কাজ শুরু করি। শুঁড়িখানার মালিকের মতে লম্বা গাউনওয়ালা খদ্দেরদের সামনে আমাকে বোকা দেখায়। তাই আমাকে বাইরের কামরায় কাজ দেয়া হয়। ছোটজাতের খদ্দেররা সহজে খুশী হলেও, তাদের মধ্যে কয়েকজন গোলমেলে লোকও ছিল। মদ ঢালার সময় তারা নিজের চোখে তা দেখতে চাইত, দেখতে চাইত পাত্রের তলায় কোন জল আছে কিনা অথবা গরম জলে তা ঠিকমত ডোবানো হচ্ছে কিনা। এত কড়াকড়ির মধ্যে মদে জল মেশানো খুব কষ্টকর। তাই কয়েকদিন পর মালিক ঠিক করলেন আমি এ কাজের উপযুক্ত নই। ভাগ্য ভালো, একজন প্রভাবশালী লোক আমায় পাঠিয়েছিলেন। তাই তিনি আমাকে বরখাস্ত করতে পারেননি। আমাকে মদ গরম করার একঘেয়ে কাজ দেয়া হয়।

সেই থেকে কাজ নিয়ে আমি সারাদিন কাউণ্টারের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকি।

কাজে তৃপ্তি থাকলেও মনে হয়েছে একঘেয়ে ও ফালতু। মালিকের চেহারা ছিল মারমুখী আর খদ্দেররা ছিল খিটখিটে, তাই মজা করার উপায় ছিল না। শুধু খোং ইজি এলে একটু হাসতে পারতাম। একারণেই তাকে আমার এখনও মনে আছে।

পুরো গল্পটি শুনুন উপরের প্লে বাটনে ক্লিক করে

লেখা: লু স্যুন
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল