গল্প: পণ্ডিত নেহরু’কে এক দেহপসারিনির চিঠি – কৃষণ চন্দর

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 7, 2021 3:06 pm|    Updated: March 7, 2021 3:06 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 7, 2021 3:06 pm Updated: March 7, 2021 3:06 pm

কৃষণ চন্দর জন্মেছিলেন ১৯১৪ সালের ২৬ নভেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের পশ্চিম পাঞ্জাবের গুজরানওয়ালা জেলার ওয়াজিরাবাদ নামক এক ছোট শহরে। যদিও তিনি এক চিঠিতে তাঁর জন্মস্থান লাহোর বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর পুরো নাম কৃষণ চন্দর শর্মা। জন্মসূত্রে তিনি কাশ্মীরী ব্রাহ্মণ। তাঁর পিতা ছিলেন কাশ্মীরের ভরতপুর নামক এক ছোট রাজ্যের স্বনামধন্য চিকিৎসক। লাহোর থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি লাভ।  উর্দু গল্পকে এক নতুন দিক দেখাতে কৃষণ চন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রগতিশীল লেখক আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদান ছিল। ১৯৩৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত প্রগতিশীল লেখক সংঘের সম্মেলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে প্রগতিশীল লেখক সংঘ পাঞ্জাব শাখার সম্পাদক মনােনীত করা হয়। তিনি সমাজতন্ত্রের প্রতি অনুরাগী হয়ে ওঠেন, এ সময় তিনি ভগত সিং এর দল সোশালিস্ট পার্টি’তে যােগ দেন। তাঁকে গ্রেফতার হতে হয় এবং দু’মাস জেল খাটেন। গল্প, উপন্যাস, নাটক, সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন। বহু ভাষায় তাঁর বই অনূদিত হয়েছে। পদ্মশ্রী উপাধিতেও তিনি ভূষিত হয়েছেন।

গল্পটি তর্জমা করেছেন, সুশোভন প্রামাণিক।

পাঠ হওয়া গল্পটির নির্বাচিত অংশ রইল এখানে,

পণ্ডিত নেহরু সমীপেষু,
পত্রের প্রথমেই শ্রদ্ধা জানালাম। সে শ্রদ্ধা হয়তো আপনি গ্রহণ করবেন না। আমার ধারণা এর আগে কোনও বেশ্যার থেকে অন্তত আপনি কোনও চিঠি পাননি। আপনি আমার মতো, অথবা এই পেশায় যারা রয়েছে আমাদের মতো কোনও মহিলার মুখ আজ পর্যন্ত দেখেননি।
 আমি জানি আমার মতো একজন মহিলা আপনাকে চিঠি লেখার ইচ্ছেটাই খুবই গর্হিত, তাও আবার এমন খোলা চিঠি। কিন্তু এমন এক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি যে আমার দুই মেয়ের জন্য অন্তত এই চিঠি না লিখে থাকতে পারলাম না।
এই চিঠি আমি শখে বা ইচ্ছেয় লিখছি না। আমার দুই মেয়ে বেলা আর বাতুল আমাকে দিয়ে এই চিঠি লিখিয়ে নিচ্ছে। আমাকে তাই মাফ করবেন। এক বেশ্যা মেয়েমানুষের আপনার মতো  বড় মানুষের কাছে এই চিঠি লেখাকে স্পর্ধা ভাববেন না। আমি খোলা মনে আপনার থেকে অযুত ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমার চিঠির কোনও বক্তব্য যদি আপনার আপত্তিজনক মনে হয়, ক্ষমা করবেন, এবং শুধুমাত্র আমার এই অসহায়তার ফলাফল রূপেই জানবেন।
বেলা আর বাতুল আমাকে এই চিঠি লিখতে প্ররোচিত করছে কেন? এই মেয়েদুটি কারা! আর কেনোই বা তাদের এতো তীব্র চাহিদা? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আগে, আমি নিজের সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলতে চাই। উদ্বিগ্ন হবেন না, আমি আমার ক্লেদাক্ত জীবনের ইতিহাস আপনার সামনে মেলে ধরব না। আমি আপনাকে এটাও বলতে যাবো না, যে কোন পরিবেশে কীভাবে কখন আমি একটা সাধারণ মেয়ে থেকে বেশ্যা’য় পরিণত হলাম। ভালোমানুষীর দোহাই দিয়ে আমি কোনও মিথ্যে দয়া দাক্ষিণ্যের প্রতিশ্রুতি নিতেও আসেনি। আপনার দরদী হৃদয়ের সামনে ভালোবেসে বিশ্বাসী হয়ে ঠকে যাওয়ার কোনও করুন কাহিনীও জানাবো না। এ চিঠির লেখার এও উদ্দেশ্য নয় বেশ্যা জীবনের কর্মপদ্ধতি আপনাকে খুলে বলবো। আমি আমার স্বপক্ষে কোনও কথাই বলবো না; আমি শুধু আমার জীবনের কয়েকটা কথা বলতে চাই যা ভবিষ্যতে বেলা আর বাতুলের জীবনে প্রভাব রয়েছে।

পুরো গল্পটি শুনুন উপরের প্লে বাটনে ক্লিক করে।

লেখা: কৃষণ চন্দর
পাঠ: সঞ্জিতা মুখোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল