জগদীশ গুপ্তর গল্প: দিবসের শেষে

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: February 28, 2021 2:29 pm|    Updated: March 1, 2021 2:38 am

Published by: Susovan Pramanik Posted: February 28, 2021 2:29 pm Updated: March 1, 2021 2:38 am

জগদীশ গুপ্ত বা জগদীশ চন্দ্র সেনগুপ্ত বাংলা ভাষার অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার। তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হলেও সাহিত্য জীবনের শুরুতে কবিতা লিখতেন। কবি হিসেবে প্রথম আত্মপ্রকাশ। তবুও ছোট গল্পকার-রূপে সাহিত্যে তিনি স্থায়ী আসন লাভ করেন। ‘বিজলী’, ‘কালি কলম’, ‘কল্লোল’ প্রভৃতি সেকালের নতুন ধরনের সমস্ত পত্রিকাতেই তাঁর লেখা নানান গল্প প্রকাশিত হয়েছে। গল্প ও উপন্যাসের ক্ষেত্রে প্রকাশভঙ্গির স্বাতন্ত্র্যের জন্য সাহিত্যিক মহলে বিশিষ্ট স্থান অর্জন করেছিলেন। মনোবৈকল্য ও মনোবিশ্লেষণ এবং দুঃখময়তার নিপুণ বর্ণনায় তার শিল্পকর্ম এক অসাধারণ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত হয়। সামাজিক অন্যায়-অবিচারের চেয়ে অদৃষ্টলিপি’ই দুঃখময়তার কারণ বলে তার গল্পে বিশ্লেষিত।

পাঠ হওয়া গল্পটির নির্বাচিত অংশ রইল এখানে,

রতির একটি মাত্র ছেলে নাম পাঁচু ও বয়স পাঁচ। রতির স্ত্রী নারানী প্রসবগৃহ হইতে নদীগর্ভে নিক্ষেপ করিয়া পাঁচুগোপালের মাদুলি ধারণ করে-তারপর পেটে আসে এই পাঁচু। তাই অসংখ্য মাদুলি-কবচ-তাবিজ প্রভৃতি আধিদৈবিক প্রহরণ পাঁচুর অঙ্গে নিয়ত উদ্যত থাকিয়া যাবতীয় অমঙ্গলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রহরা দিতেছে। কিন্তু এতো করিয়াও নারানীর মনে তিলমাত্র স্বস্তি নাই। যুঝিতে-যুঝিতে জাগ্রত মন্ত্র কখন নিদ্রাভিভূত হইয়া পড়িবে তাহার স্থিরতা নাই; দেবতার নির্মাল্য ও প্রসাদ এক সময় কমজোর হইয়া পড়িতেও পারে-তাই পাঁচু চোখের আড়াল হইলেই মনে হয় পাঁচু বুঝি নাই-এমনি সশঙ্ক তার উৎকণ্ঠা।

বহু আরাধনার ধন এই পাঁচু একদিন সকালবেলা ঘুম থেকে উঠিয়াই যে কথাটি বলিয়া বসিলো তাহা যেমন ভয়ঙ্কর, তেমনি অবিশ্বাস্য। নারানী তাহাকে হাত ধরিয়া খেতের দিকে লইয়া যাইতেছিল—নিঃশব্দে যাইতে যাইতে পাঁচু মায়ের মুখের দিকে মুখ তুলিয়া বলিলো, ‘মা আজ আমায় কুমিরে নেবে।’

নারানী চমকাইয়া উঠিয়া বলিলো, সে কি রে?

‘হ্যাঁ মা আজ আমায় কুমিরে নেবে।’

‘কি করে জানলি!’

পাঁচু বলিল, ‘তা জানিনে।’

ছেলের সর্বনেশে কথা শুনিয়া নারানী প্রথমটা ভয়ানক চমকাইয়া উঠিলেও একটু ভাবিতেই দুর্ভাবনা কাটিয়া তাহার বুক হালকা হইয়া গেল। পাঁচু অসংলগ্ন অনেক কথাই আজ পর্যন্ত বলিয়াছে- একদিন পাঁচু একটি পেচককে তাদের চালে বসিয়া অট্টহাস্য করিতে দেখিয়াছিল; আর একদিন একটি বৃহৎ কচ্ছপকে বাচ্চাসহ তাহাদেরই উঠোনে বাচ্চাসহ নৃত্য করিতে দেখিয়াছিল। এমনই সব অসম্ভব কথা পাঁচু নিত্য বলিয়া থাকে, পাগল ছেলে।

পুরো গল্পটি শুনুন উপরের প্লে বাটনে ক্লিক করে।

লেখা: জগদীশ গুপ্ত
পাঠ: কোরক সামন্ত
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল