গল্প: দাঙ্গার সময়ের বম্বে – সদত হসন মান্টো

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: December 13, 2020 3:51 pm|    Updated: March 7, 2021 3:08 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: December 13, 2020 3:51 pm Updated: March 7, 2021 3:08 pm

স্বাধীনতার আগে, শহর বম্বের বুকে, এক দাঙ্গার সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির, রোমহর্ষক জবানবন্দী শুনুন, সদত হসন মান্টো-র কলমে, দেবশঙ্কর হালদার-এর কণ্ঠে।

লেখাটির বাংলা তর্জমা করেছেন, সুশোভন প্রামাণিক।

পাঠ হওয়া লেখাটির নির্বাচিত অংশ রইল নিচে।

আমি বম্বে ফিরে এসেছিলাম এই ভেবে যে বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো যাবে আর তার সাথে আমার অস্থির বিচ্ছিন্ন মনকে একটু বিশ্রাম দেওয়া যাবে।

কিন্তু পরিবর্তে সেখানে পৌঁছে অন্যকিছু হল, আমি এতোটাই বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম, আমার বিশ্রাম অথবা আড্ডা-গল্প-ভাবনা-লেখা সবই আরও ওলট পালোট হয়ে গেলো, এমনকি যেটুকু ঘুম বেঁচে ছিল সেটুকুও বিসর্জন গেল।

আমার আর এক বন্ধু আমাকে ফোন জানান দিল, যে বম্বের সারা শরীর থেকে শুধুই ধোঁয়া আর পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। খবরের কাগজের অফিস থেকে রেডিয়োর খবর সবখানেই। পুলিশ জনতার ভিড়ে বেধড়ক লাঠি চালিয়েছে, এমনকি গুলিও চলেছে। সেনাবাহিনীকে এলাকা দখলের আদেশ দেওয়া হয়েছে, তারা আসছে, এমনকি রাস্তায় সাঁজোয়া গাড়ীও নেমেছে।

আমি তিনদিন বাড়ি থেকে বেরোতে পারিনি, তাই তড়িঘড়ি এই কদিনের খবরের কাগজগুলোর এই সংক্রান্ত খবরগুলো পড়তে শুরু করলাম, আর লোকজনের মুখ থেকে ভয়ানক রোমাঞ্চকর নানা কথা শুনতে লাগলাম।

আমি ভাবলাম হিন্দু এবং মুসলিমরা বোধধয় নিজেরাই এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং রক্তের ধারাস্রোত নিয়ে খুবই ব্যস্ত, যা মন্দির মসজিদে তো মিশবেনা, সে তো অবশেষে এই বম্বের ড্রেনে আর পচা নর্মদায় এসেই মিশবে। কিন্তু এটাও জানতে পারলাম, এই ধারণা একেবারেই ভুল। শহরটা বিলকুল ভাগ হয়ে গেছে।

একটা লম্বা রাস্তা ছিল যেটা মাহিমের দিকে যায়। সেই রাস্তায় একেবারে শেষে একটা কানা গলি, সেখানেই মুসলিমদের বিখ্যাত একটা মাজার। যখন দাঙ্গা শুরু হয়ে শহরের এই অংশে এসে পৌঁছায় এই মহল্লার ছেলে-ছোকরার দল বড় বড় গাছের গুঁড়ি তুলে নিয়ে বাজারের মধ্যেই ব্যারিকেড তৈরি করে ফেলে।

এরপর বেশ কিছু আগ্রহ-উদ্দীপক ঘটনা ঘটে যায়। কিছু হিন্দু ছেলেপুলে লোহার বড় বড় পাত নিয়ে ঐ মাজারের দিকে ধেয়ে যাচ্ছিল। কয়েকজন মুসলিম ছেলে তাদের কাছে গিয়ে খুব ভদ্র এবং শান্ত হয়ে বলে, ‘দেখ ভাই বাওয়াল-হল্লা বিলকুল না পসন্দ হ্যায়, ইঁয়াহে সে পাকিস্তান কা বর্ডার শুরু হোতা হ্যায়’ (দেখ ভাই ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট একেবারে দরকার নেই, এখান থেকে পাকিস্তানের সীমানা শুরু)। রাস্তায় ঐ কাঠের গুঁড়ির ব্যারিকেড দিয়েই সেই সীমারেখা তৈরি ছিল।

কিন্তু সেইসব ছেলেপুলেও কি দমবার পাত্র! তারাও বেশ চুপচাপ সেইসব ব্যারিকেড টপকে এবং সরিয়ে উল্টোদিকে এসে বলে, ‘কোনও কাফির পাকিস্তানে আসতে ডরায় না’।

তারপর? শুনুন…

লেখা: সদত হসন মান্টো
পাঠ: দেবশঙ্কর হালদার
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল