মোল্লা নাসিরউদ্দিনের গল্প: সুলতানের দরবারে মোল্লা

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: March 4, 2021 11:38 am|    Updated: March 4, 2021 1:54 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: March 4, 2021 11:38 am Updated: March 4, 2021 1:54 pm

– আরে আরে আরে এই মোল্লা সাহেব মোল্লা সাহেব… আরে কোথায় যান? কোথায় যান? আপনি কি পাগল নাকি! আপনি দেখছি আমার চাকরি খাবেন মশাই!
– কেন হে? আমার দরবারে যাওয়ার সঙ্গে তোমার চাকরি থাকা বা না-থাকার কী সম্পর্ক হে?
– বাবা! আপনি আমার সামনে দিয়ে গটগট করে দরবারে চলে
যাচ্ছেন আর আমি আপনার ঠিকুজি-কোষ্ঠী এসব আপনাকে না জিজ্ঞেস করে ঢুকতে দিয়ে দিই, তাহলে আমার এখানে দাঁড়ানোর মানেটা কী বলুন দেখি!
– অ, বুঝলুম! তা বলেই ফেলি। আমি দরবারে যাচ্ছি সুলতানের সঙ্গে দেখা করতে।
– আহ্‌হাহা…সে তো বটেই সে তো বটেই। আরে বাবা দরবারে গিয়ে সুলতানের সঙ্গে দেখা করবেন না তো কি ডোমের সঙ্গে দেখা করবেন? সে কথা বলছি না। আপনার কী দরকার, সেকথা জানতে পারি কি?
– এ তো আচ্ছা আপদ! তোমার তো আস্পর্ধা কম না হে! তুমি আমাকে এসব ব্যক্তিগত কথা জিজ্ঞেস করছ… কী দরকার-হ্যান দরকার-ত্যান দরকার!
– আরে বাবা মোল্লাসাহেব আপনি খামকা চটে যাচ্ছেন। দেখুন, আমাদেরও তো চাকরি। ওই যে সুলতানের নিরাপত্তার জন্য আমাদের তো এইটুকু পুছতাছ করতেই হবে মশাই।
– হেঁ, নিরাপত্তা! শোনো, এত বকে লাভ নেই। সুলতালকে আমি একটা দারুণ সুখবর দিতে যাচ্ছি।
– হ্যাঁ! তাই নাকি?
– আবার জিজ্ঞেস করে বোসো না সুখবরটা কী!
– কী বলছেন মোল্লাসাহেব! আমি আমার এক্তিয়ারটুকু জানি।
– যাক, তবু ভাল।
– মোল্লাসাহেব মোল্লাসাহেব, একটা ছোট্ট কথা ছিল।
– বলো।
– বলছিলাম যে সুখবর দিলে সুলতান যদি কোনও বখশিস দেন, কোনও নজরানা দেন, তাহলে তার অর্ধেক ভাগটা আমাকে দিতে হবে।
– অর্ধেক ভাগটা তোমায় দিতে হবে?
– আরে, এটুকু ছাড়া… গরিব মানুষ… বালবাচ্চা নিয়ে কী করে চলবে বলুন?
– আরে কী মুশকিল! তোমরা যে এখানে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকো, মাইনেকড়ি তো পাও কিছু। তো তাতে কি সংসার চলে না নাকি তোমার?
– আরে কী বলব মশাই, মাইনে আমাদের ভিত্তি, কাটমানি আমাদের ভবিষ্যৎ।

লেখা: সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাঠ: কোরক সামন্ত, শঙ্খ বিশ্বাস, সুশোভন প্রামাণিক, সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল