‘বিয়ে করতে চাই, পাত্রী দেখুন’– বিনা সংকোচে বাবার কাছে দাঁড়িয়ে প্রস্তাব রাখেন বাংলা সিনেমার এই কিংবদন্তি

Published by: Sankha Biswas |    Posted: May 29, 2021 2:02 pm|    Updated: May 29, 2021 2:02 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: May 29, 2021 2:02 pm Updated: May 29, 2021 2:02 pm

দিন চলতে থাকে এভাবেই আর ক্রমশ জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে ওই যুবকের। পাশাপাশি পেশাগত সাফল্যের কারণে টুকটুক করে বাড়ছে ব্যাঙ্ক ব্যালেন্সও। সবকিছু সুন্দরভাবেই চলছিল। গোলমাল বাঁধল অন্য জায়গায়। সেই অভিনেতা যুবক তখনও অবিবাহিত। একদিকে রাজকীয় চেহারা, তায় আবার জনপ্রিয়তা ও সাফল্য দুই-ই ক্রমবর্দ্ধমান। চতুর্দিক থেকে আসতে লাগল প্রেমের প্রস্তাব। বিবাহযোগ্যা কন্যার বাবারাও চেষ্টাচরিত্র শুরু করলেন। মহা মুশকিলে পড়লেন যুবক। এইসব ঝামেলা তাঁর একদমই ভাল লাগছেনা। কিন্তু কী করা যায়? একথা স্বীকার না-করে তো উপায় নেই যে তিনি আক্ষরিক অর্থেই এলিজিবল ব্যাচেলর। দু’-একজন বন্ধুবান্ধব, যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সেকালের আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা জীবেন বসু, পরামর্শ দিলেন– এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ একটাই, সেটা হল আর দেরি না করে বিয়েটা সেরে ফেলা। অর্থাৎ, আসল কথাটি হল, ছাদনাতলায় পৌঁছতে যত দেরি হবে, তত বিড়ম্বনা বাড়বে।

কথাটা ভাল করে ভেবে দেখে যুবক উপলব্ধি করলেন– ভুল কিছু নয়। এই ঝামেলার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার একমাত্র সহজ উপায়টিই হচ্ছে বিয়ে করে নেওয়া। কিন্তু বিয়ে করার জন্য তো তাঁর একটি উপযুক্ত পাত্রী চাই! তাঁর নিজের কোনও প্রেমিকা নেই এ কথা তো বলাই বাহুল্য। আর তাঁকে যে কন্যাদায়গ্রস্ত পিতারা বিরক্ত করছেন, তাদের কারও সঙ্গে কথা বলতে তিনি নারাজ। অগত্যা, একদিন বাড়ি ফিরে তিনি সোজা চলে গেলেন তাঁর বাবার কাছে। বাবা তখন বৈঠকখানার সোফায় বসে মন দিয়ে বই পড়ছেন। একটা গলা খাঁকারির শব্দ শুনে তিনি বই থেকে চোখ তুলে সামনে তাকিয়ে দেখলেন– তাঁর সুপুত্র সামনে দাঁড়িয়ে। বইটি বন্ধ করে তিনি এবার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন– কিছু বলবে নাকি?

যুবক একটু গম্ভীর গলাতেই জবাব দিলেন– আমি এবার বিয়ে করতে চাই। আপনি পাত্রী দেখুন।
আজ থেকে প্রায় ৭০-৭৫ বছর আগে কোনও ছেলে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে এরকম গম্ভীর গলায়, প্রায় নির্দেশিকা জারি করার ভঙ্গিতে একথা বলার সাহস পেত কি না তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। ছেলের এই ঘোষণা শুনে, এক্ষেত্রেও বাবা একটু হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। যাই হোক, তারপর তিনি একটু সামলে নিয়ে উত্তর দিলেন– তা ভাল মেয়ের একটি সন্ধান আছে বটে। হেড মিস্ট্রেসের নাতনি। একবার দেখে আসতে পারো।
তারপর কী হল?
শুনে নিন…

লেখা: অনুরাগ মিত্র
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল