‘বিশ সাল বাদ’-এর পর কেন মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়েছিল উত্তম-হেমন্তর!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: November 24, 2020 10:43 am|    Updated: December 2, 2020 7:36 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: November 24, 2020 10:43 am Updated: December 2, 2020 7:36 pm

‘শাপমোচন’, ‘সপ্তপদী’, ‘মন নিয়ে’, ‘চাওয়া-পাওয়া’, ‘শুধু একটি বছর’। সব ছবির একটাই ‘কমন ফ‌্যাক্টর’। কী বলুন তো? উত্তম-হেমন্ত জুটি। আর এই জুটি মানেই ছবি সুপার–ডুপার হিট।

‘ধন্যি মেয়ে’-এর হেমন্ত মুখোপাধ‌্যায়–এর সেই বিখ‌্যাত গানটা মনে আছে? ‘এ ব‌্যথা কী যে ব‌্যথা, বোঝে কী আনজনে, সজনী আমি বুঝি মরেছি মনে মনে’। ছবিতে উত্তমকুমার ছিলেন মুখ‌্য চরিত্রে। কথাও ছিল পর্দায় এই গানে তিনিই লিপ দেবেন। হেমন্তবাবুও তাই জানতেন। কিন্তু সেটা হল না। ছবি রিলিজ করার পর দেখা গেল গানটা অন‌্য কারওর লিপ–এ!

কেন এমন হল?

উত্তমকুমার ওই গানে লিপ দিতে রাজি হননি। শুধু ওই গানেই নয়, উত্তমকুমার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, হেমন্ত মুখোপাধ‌্যায়ের গাওয়া আর কোনও গানেই তিনি লিপ দেবেন না।

কী এমন ঘটেছিল?

গল্প নয়, সত্যি। শুনুন সৈকত মিত্র–এর জবানিতে…

একটা সময় উত্তমকুমার আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এই দুটো নাম সমার্থক ছিল। তার কারণ, উত্তমকুমার কথা বললে মনে হত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গলার আওয়াজ আর হেমন্ত মুখোপাধ্যায় গান গাইলে সেটা ভীষণভাবে উত্তমকুমারের সাথে মিলত। এক আশ্চর্য ও অপূর্ব জুটি যেটা বাংলা ছায়াছবিকে ভীষণভাবে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু সেখানে কোনও প্রকারে ঘটনাগুলো ঘটতেই থাকে। ‘বিশ সাল বাদ’ ছবি যখন করছেন বোম্বেতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় প্রোডাকশন-এর প্রযোজক উনি উত্তমকুমারকে এই ছবিটার জন্য অফার করেন। এবং আপনারা সবাই জানেন যে, উত্তমকুমার সেইসময় কতটা ব্যস্ত ছিলেন। উনি ভীষণই শ্রদ্ধা করতেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে। কিন্তু বলেন, ‘একটু অপেক্ষা করুন আমি একটু ফাঁকা হলেই আপনাকে আমি জানাচ্ছি’। ‘গিয়ে একবারে করতে হবে। এটা তো এরকম নয় যে আমি কলকাতায় থেকে আবার করতে পারব।’

এই করতে করতে বেশ কিছু সময় চলে গেল। নানা ঘটনায় কোনও প্রকারে ব্যাপারটা বোধহয় একটু অন্যরকম মোড় নিল। এবং বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে গিয়ে উত্তমকুমারের মতো করে অভিনয় করানোর একটা প্রচেষ্টা হয়। এই জিনিসটা উত্তমকুমার ঠিক মেনে নিতে পারেননি

এটা হতেই পারে, প্রত্যেকেরই হয় এটা। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়েরও একটা সময় সলিল চৌধুরীর ওপর এই অভিমান হয়েছে তাঁর বাংলা গান যখন মুকেশকে দিয়ে গাওয়ানো হয়েছে। তা যাই হোক, এগুলো হতেই থাকে। ইন্ডাস্ট্রির নিয়মই তাই। তারপর থেকে একটা জিনিস ভীষণভাবে দেখা গেল, উত্তমকুমারের লিপে কিন্তু হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান, মানে ওই ১৯৬২ সালের পর থেকে, ভীষণভাবে বিরল হয়ে গেল! এবং সেই জায়গা দুটোয় ভীষণভাবে দু’জন শিল্পী চলে এলেন– এক মান্না দে এবং এক শ্যামল মিত্র।

লেখা: শ্যামশ্রী সাহা
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল