‘দিল সে’ ছবির গানে কীভাবে জুড়েছিল মালয়লম আর বাংলা!

Published by: Sankha Biswas |    Posted: February 6, 2021 9:34 pm|    Updated: February 8, 2021 7:01 pm

Published by: Sankha Biswas Posted: February 6, 2021 9:34 pm Updated: February 8, 2021 7:01 pm

বিশ শতক আসতে আর মাত্র দু’বছর বাকি। নতুন দশক দরজায় কড়া নাড়ছে। এই সময়েই মণি রত্নম তৈরি করলেন তাঁর প্রথম হিন্দি চলচ্চিত্র ‘দিল সে’। এর আগে তিনি এ. আর. রহমান-এর সঙ্গে দু’টি কাজ করেছিলেন। ‘রোজা’ এবং ‘বম্বে’।

‘দিল সে’-তে রহমান–গুলজার যুগলবন্দির সেই শুরুয়াত। তারপর তো নীল দিগন্তে তৈরি হল ম্যাজিক, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

গুলজার সাহাবের সঙ্গে এ আর রহমান-এর প্রথম দেখা ‘সদমা’ ছবির গান রেকর্ডিংয়ে। কিংবদন্তি ইলাইয়ারাজা সে-ছবির সংগীতের দায়িত্বে ছিলেন। সেখানকার ‘অ্যায় জিন্দেগি গলে লাগা লে’ গুলজারের লেখা। রহমান তখন তাঁর সহকারী। সেই সাক্ষাৎ গুলজার সাহাব ভুলেও গিয়েছিলেন প্রায়। ‘দিল সে’র সময়ে রহমান যখন মনে করিয়ে দেন। গুলজারের মনে পড়ে যায় কোঁকড়া চুলের, স্মিত হাসির খুব কম কথা বলা এক লাজুক যুবকের প্রতিচ্ছবি।

এদিকে, ‘দিল সে’র ‘জিয়া জ্বলে’ ছিল রহমানের সুরে লতা মঙ্গেশকরের প্রথম রেকর্ডিং। এর আগে গোটা দশেক তামিল ছবিতে কাজ করলেও লতাজির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়নি রহমানের। ‘জিয়া জ্বলে’ সেই সুযোগ এনে দিল।

নাসরিন মুন্নী কবীরের সঙ্গে এক দীর্ঘ কথোপকথনে গুলজার সাহাব ‘দিল সে’ সিনেমার গান তৈরির গল্প; যাকে আজকের পরিভাষায় ‘ট্রিভিয়া’ বা ‘বিহাইন্ড দ্য সিন’ বলে, শুনিয়েছিলেন।

আসুন, আজ আমারও শুনে নিই কতক।

গুলজার সাহাবের মতে, একটা গানের কথা এবং প্রাথমিক সুর তৈরি হলেই রহমান কল্পনায় গানের প্রতিচ্ছবি অনুযায়ী গায়ক বা গায়িকা মনোনীত করে ফেলতেন। তিনি খুব পরিচিত মুখ নাও হতে পারেন, হতেই পারেন অনামী কেউ। ফিল্ম পরিচালকদের যেমন একটা চিত্রনাট্য পড়তে গেলে কোনও বিশেষ অভিনেতা–অভিনেত্রীর মুখ মাথায় আসে, রহমানের তেমনই হত। আর সেভাবেই ‘দিল সে’র ‘জিয়া জ্বলে’ গানের জন্য ওঁর লতাজির কথা মনে পড়েছিল।

লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে রহমানের সঙ্গে দেখা–সাক্ষাৎ বিশেষ হয়নি। অত বড় স্টার হয়েও কিন্তু লতাজি এককথায় রহমানের চেন্নাইয়ের স্টুডিয়োয় যেতে রাজি হলেন। গুলজার যদি সঙ্গী হন তবে সুবিধা হয়, এমনই এক প্রস্তাব দেন। হয়তো জড়তা কাটানোর জন্যই। গুলজার তাতে সায় দিলেন। নির্দিষ্ট দিনে দু’জনেই পৌঁছলেন। রহমান অত্যন্ত যত্নে তাঁকে আপ্যায়ন করলেন। এখন রহমানের চেন্নাইয়ে অনেক স্টুডিয়ো থাকলেও সেই সময় একটা ছোট্ট সাদামাটা স্টুডিয়োয় কাজ করতেন। ওঁর জীবনের প্রথম স্টুডিয়ো। একটা লম্বা শব্দের মিক্সিং ডেক, দেওয়ালে মায়ের ছবি আর স্টুডিয়োর ধারে একটা ছোট্ট টেক রুম। সেই সন্ধেয় স্টুডিয়োয় হাতে গোনা কয়েকজন। লতাজি, গুলজার সাহাব, রহমান আর তাঁর এক সহকারী।

তারপর?

শুনুন…

লেখা: সুশোভন প্রামাণিক
পাঠ: শ্যামশ্রী সাহা, কোরক সামন্ত ও শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল