নিজের ব্যাপারে তাঁর সগর্ব ঘোষণা ছিল, ‘ম্যায় এক হি পিস হুঁ’, অনেক সময় তিনি আগাম যা বলেছেন, বাস্তবে সেসবই ঘটেছে হুবহু!

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: April 14, 2021 11:52 pm|    Updated: April 16, 2021 5:29 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: April 14, 2021 11:52 pm Updated: April 16, 2021 5:29 pm

সাংবাদিকদের মদ্যপান করিয়ে বা উপঢৌকন দিয়ে নিজেরদের ছবির পাবলিসিটি করানোর রেওয়াজের তিনি ছিলেন ঘোর বিরোধী। তিনি নিজে কখনও সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানালে তাঁদের আপ্যায়নের জন্য যত্ন করে লুচি তরকারি খাওয়াতেন। এইটুকুই। আড়ম্বরে নয়, আন্তরিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন। একবার বদ্রীনাথ নামের এক সাংবাদিক তাঁকে প্রস্তাব দিলেন, তিন হাজার টাকা যদি খরচ করেন, সেটুকুর বিনিময়ে তিনি ছবির খুব ভালো পাবলিসিটি করে দেবেন। সাংবাদিকের এই কথায় তিনি অত্যন্ত রাগে জ্বলে উঠে বলেছিলেন: ‘এ জন্মে তো নয়ই, পরের জন্মেও টাকা দেব না।’ এমন ঔদ্ধত্য বদ্রীনাথের খুব মানে লাগল। বদ্রীনাথ শোধ নিলেন। সেই মহান ব্যক্তিত্বের একটি ছবি নিয়ে অত্যন্ত নিন্দে-মন্দ করে একটি বড়সড় প্রতিবেদন লিখলেন। বলা বাহুল্য, অনেকেই সেই লেখা পড়েন। কয়েকদিন পর স্টুডিওতে সময়ের নিয়মে আবার দুজনে মুখোমুখি। বদ্রীনাথ এক গাল হেসে বেশ বিদ্রূপের স্বরে তাঁকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘আমার লেখাটা কেমন লাগল?’ বদ্রীনাথের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে সেই ব্যক্তি গম্ভীর মুখে জবাব দিলেন: ‘আমি ব্রাহ্মণ সন্তান। কাউকে কোনোদিন ঠকাইনি। আমি বলছি, তুমি এসব লেখার সুযোগ আর বেশিদিন পাবে না।’ কাকতালীয় হলেও, এর ঠিক দু তিন দিনের পরেই ওই সাংবাদিকের আকস্মিক মৃত্যু হয়।

নিজের স্ত্রী’কে নিয়ে একবার প্লেন ধরার উদ্দেশ্যে তিনি পৌঁছলেন এয়ারপোর্টে। সেখানে গিয়ে শুনলেন অনিবার্য কারণবশত প্লেন ছাড়তে একটু দেরি হবে। কিছুক্ষন পর হঠাৎই তিনি বলে উঠলেন: ‘এই প্লেন আজ আর ছাড়বেই না’। স্ত্রী বললেন, ‘কী বলছ একটু পরেই তো ছাড়বে বলল, তোমার খালি বাজে কথা’। কিছুক্ষন অপেক্ষা করলেন যুগলে। হঠাৎই এর মধ্যেই ‘পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম’-এ ঘোষণা হল যে প্লেনটি সেদিন আর যাবে না। ‘ফ্লাইট ক্যানসেলড’।

চলছে সিনেমার শুটিং। প্রযোজক সেই মহান ব্যক্তি স্বয়ং। প্রচন্ড গরমে সেদিন সকলে গলদঘর্ম।  তিনি শুটিংয়ের মাঝে হঠাৎই বলে উঠলেন: ’ঘাবড়ানোর কিছু নেই, একটু পরেই বৃষ্টি হবে’। আবারও একবার প্রমাণিত হলো—‘বাক্য ব্রহ্ম’। কিছুক্ষনের মধ্যেই আকাশ কালো করে প্রচন্ড বৃষ্টি নামলো। শুটিংয়ের শিডিউল কমপ্লিট হলোনা। বৃষ্টি দেখে প্রযোজক নিজেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে, ‘আজ ছুটি, আজ ছুটি’ বলে লাফাতে লাগলেন। তার বলা কথা আজও মিলে গেছে। তিনি নিজেই যে প্রযোজক, এবং শুটিং বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার যে আর্থিক ক্ষতি হলো, সেদিকে তার কোনওই খেয়াল নেই। বরং দাবদাহের মধ্যে অকালবর্ষণে তাঁর চীর সবুজ মনে খানিক বারিধারার জোগান হয়েছে।

শুনুন…

লেখা: অনুরাগ মিত্র
পাঠ: শঙ্খ বিশ্বাস
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল