পয়তাল্লিশ সেকেন্ডের একটি সিনের জন্য হিচকক ব্যবহার করেছিলেন আটাত্তরটা শট!

Published by: Susovan Pramanik |    Posted: May 15, 2021 12:56 pm|    Updated: May 27, 2021 12:33 pm

Published by: Susovan Pramanik Posted: May 15, 2021 12:56 pm Updated: May 27, 2021 12:33 pm

হিচকক নামটি এখন যেমন সর্বজন শ্রদ্ধেয়, দীর্ঘদিন পর্যন্ত ওঁর ছবিকে খানিকটা নিচু চোখে দেখা হত। কারণ, তাঁর ছবি মূলত সাসপেন্স-থ্রিলার ঘরানার। সাহিত্যে বা সিনেমায় থ্রিলার, হরর, অ্যাকশন বা রোম্যান্টিক কমেডি এইসব জঁরগুলিকে বৌদ্ধিক মহলে খানিক নিচু চোখে দেখার বদভ্যাস বাঙালিদের মধ্যে তো আছেই, ইউরোপ বা আমেরিকাও এতে কম যায় না।

১৯৬০ সালে যখন হিচককের ‘সাইকো’ মুক্তি পাচ্ছে, তখন হিচককের বয়স ৬১, হলিউডে প্রায় কুড়ি বছরেরও বেশী দীর্ঘ কেরিয়ারের শেষ লগ্নে তিনি। ততদিনে একের পর এক অত্যন্ত উঁচু মানের ছবি তিনি করে ফেলেছেন, যা পরবর্তীকালে সিনেমার ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস্টারপিসের মধ্যে পড়বে—‘শ্যাডো অফ আ ডাউট’, ‘রিয়ার উইন্ডো’, ‘ভার্টিগো’, ‘নর্থ বাই নর্থওয়েস্ট’ এবং আরও অনেক। কিন্তু তখনও আমেরিকার বৌদ্ধিক সমাজে হিচককের বিশেষ কদর নেই—কারণ ঐ যে, তিনি খালি সাসপেন্স ঘরানার ছবি বানান। তাঁর ছবিতে শুধুই হয় খুনিকে ধরার রহস্য, বা চোর ডাকাতের পিছনে ছুটে বেড়ানো—এইসবই। এ তো সস্তা থ্রিলার মাত্র, এতে আর শিল্প কই?

পঞ্চাশের দশকে হিচকক যখন একের পর এক মাস্টারপিস বানাচ্ছেন, তখন সুদূর ফ্রান্সে একদল তরুণ চলচ্চিত্র সমালোচক মহা উৎসাহে তাঁর সিনেমা নিয়ে লেখালেখি করে এই মাধ্যমটি নিয়ে সিরিয়াস চিন্তাভাবনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা সে দেশের বৌদ্ধিক মহলে একটু একটু করে সঞ্চারিত করছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই পরে পৃথিবী বিখ্যাত হবেন নিজেরা পরিচালক হয়ে—ফ্রাসোয়াঁ ত্রুফো, জঁ লুক গোদার, ক্লদ শ্যাব্রল, জাঁক রিভেত, এরিক রোমার। এই পাঁচজন সবাই প্রায় ছিলেন হিচককের একনিষ্ঠ ভক্ত। সেই সময়েই জঁ লুক গোদার হিচককের একাধিক ছবি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রবন্ধ লিখেছেন। শ্যাব্রল এবং রোমার ১৯৫৭ সালে তো হিচককে নিয়ে একটা আস্ত বইই লিখে ফেললেন! ফিল্মমেকারকে নিয়ে আবার বই, অনেকেই নাক কুঁচকেছিলেন সেদিন।

ফ্রাসোয়াঁ ত্রুফো ১৯৬২ সালে হিচকককে চিঠি লিখে সরাসরি প্রস্তাব দিলেন, তাঁর জীবন এবং কাজ নিয়ে বিরাট আকারে, প্রায় পাঁচশটি প্রশ্ন তৈরী করে একটি সাক্ষাৎকার করতে চান। ১৯৬২র ১৩ই আগস্ট, ঘটনাচক্রে যেদিন হিচককের জন্মদিন, সেদিন থেকে ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে প্রায় আটদিন ধরে চলল ইন্টারভিউ,  কিছুদিন পরেই সেই সাক্ষাৎকার বই হয়ে বেরল, ‘হিচকক/ত্রুফো’ নামে। এই বই, সারা পৃথিবীর চলচ্চিত্রপ্রেমী এবং ভবিষ্যতের ফিল্মমেকারদের কাছে প্রায় বাইবেলের মতো।

শুনে নিন পুরোটা…

লেখা: সায়ন্তন দত্ত
পাঠ: সুশোভন প্রামাণিক
আবহ: শঙ্খ বিশ্বাস

পোল